উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করা হলো-
কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কৃষিতে অনুন্নত; কৃষির উৎপাদনশীলতা যেমন কম তেমনি দেশে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি বিদ্যমান। তবে সাম্প্রতিককালে বাজেটে কৃষি খাতে অধিক বরাদ্দ, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নতমানের সার ও বীজ সরবরাহ প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণের ফলে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদন ৩৮৮.১৭ লাখ মেট্রিক টন হয় এবং ২০১৬-১৭অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ৩৯৬.৮৮ লাখ মে. টন।
স্বাধীনতা লাভের সময় বাংলাদেশ শিল্পক্ষেত্রে খুবই পশ্চাৎপদ ছিল। কিন্তু সরকার যুগোপযোগী শিল্পনীতি গ্রহণের ফলে দেশে শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতের অবদান ৩২.৪৮%। শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে বলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষা, নারী শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষার প্রসারে সরকার ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ফলে পূর্বের তুলনায় শিক্ষার হার ক্রমশ বৃদ্ধি। পাচ্ছে, বর্তমানে এ দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর +) প্রায় ৬৩.৬%। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক; গত তিন বছরে বাংলাদেশে গড়ে ৬ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১%। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে' এ দেশের অর্থনীতি নিমজ্জিত। এ চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিভিন্নমুখী কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে; এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, একটি বাড়ি একটি খামার, টেস্ট রিলিফ ইত্যাদি কর্মকান্ড উল্লেখযোগ্য।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, স্বাধীনতা লাভের পর বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!