না, উদ্দীপকের কার্যক্রমই এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র উপায় নয়।
জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুরাপুরিভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উদ্দীপকে সিলেট ও ময়মনসিংহের পিছিয়ে পড়া হাওর অঞ্চলের জনগণের জন্য সরকার গৃহীত কার্যক্রমকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি এসডিজি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি অংশ হলেও একমাত্র উপায় নয়। এক্ষেত্রে আরও যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা প্রয়োজন সেগুলো হলো- আয়, ভোগ, জেন্ডার, অঞ্চল ও সম্পদ বৈষম্য কমিয়ে আনা, দারিদ্র্যের অবসান ঘটানো, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সম্পদের ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি সাধন, বিদেশে সম্পদ পাচার বন্ধ করা, রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ করা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ঘটানো, দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি। এসডিজি অর্জনে উপরিউক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্দীপকের আলোচ্য বিষয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ করা টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি উপায় হলেও এর বাইরেও আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, যা উপরের আলোচনা থেকে জানা যায়।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, এসডিজির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্দীপকের কার্যক্রমটি ছাড়াও আরও অনেক কার্যক্রম রয়েছে।
Related Question
View Allজলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হলো জলবায়ু কার্যক্রম।
টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। উন্নয়নের সুফল ভোগকারী গোষ্ঠীই হলো অংশীজন। তারা যদি উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে চায় তাহলে অংশীজন হিসেবে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে। সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করলে উন্নয়নে তাদের অংশীদারিত প্রতিষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন কর্মী বা সরকারের একার পক্ষে উন্নয়ন গতিধারাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। তাই যার যতটুকু দায়িত্ব তা স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে পালন করতে হবে। সকলের অংশীদারিত্ব ব্যতীত এসডিজি অর্জন করা অসম্ভব। তাই টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
দৃশ্যকল্প-১ ও ২ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ বিষয়টিকে নির্দেশ করছে।
এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্বের পারস্পরিক দায়িত্ব পড়েছে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশের ওপর। কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ এমনই একটি চ্যালেঞ্জ। দৃশ্যকল্প-১ এ' বালু দিয়ে নদী ভরাট করে জমি বিক্রি এবং দৃশ্যকল্প-২ এ ট্যানারির বর্জ্য পার্শ্ববর্তী খালে ফেলার দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। এ দুটি বিষয়ই পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর টেকসই উন্নয়নের একটি প্রধান ক্ষেত্র হলো পরিবেশ সংরক্ষণ করা। কিন্তু জনগণের অসচেতনতা এবং যথেচ্ছ আচরণের দরুন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। তাই আমাদের পরিবেশ প্রতিনিয়তই দূষিত হচ্ছে। আর এ দূষণ রোধ করা বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের পথে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্পে এমন দুটি বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। তাই বলা যায়, উক্ত বিষয়সমূহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জের বিষয়টিকেই নির্দেশ করছে।
দৃশ্যকল্প-৩ সকলের অংশীদারিত্বের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যা বিশ্বের সর্বত্র সার্বিক ও সর্বজনীন কল্যাণ নিশ্চিতের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এসডিজি অর্জনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সর্বত্র কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশীদারিত্ব ব্যতীত এ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। দৃশ্যকল্প-৩-এ 'ক' সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকগণ নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছে। এর মাধ্যমে তারা সুন্দর বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে পেরেছে। এটি এসডিজি অর্জনের পথকে মসৃণ করবে। এসডিজি অর্জন হলো সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। কেবল সরকারের একার পক্ষে তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ করতে হবে এ লক্ষ্য অর্জন প্রক্রিয়ায়। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস ও অংশীদারিত্বই পারে এসডিজি অর্জনের পথকে গতিশীল করতে। উদ্দীপকে 'ক' সিটি কর্পোরেশনের অধিবাসীরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সম্মিলিত প্রয়াস ও দায়িত্ব-কর্তব্য পালন অংশীদারিত্বেরই নামান্তর, যা এসডিজি অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। এর দ্বারাই নিশ্চিত হবে বিশ্বের সর্বত্র সার্বিক ও সর্বজনীন কল্যাণ।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে।
উন্নয়নের সুফল ভোগকারী গোষ্ঠীই হলো অংশীজন।
সকলের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখা যায়। উন্নয়নকর্মী বা সরকারের একার পক্ষে উন্নয়ন গতিধারাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন করা সম্ভব হবে এবং উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখা যাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!