"উদ্দীপকের কৃষকই যেন 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কোনো কাজে সাফল্য অর্জন করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা এবং কর্মপদ্ধতির প্রয়োজন। উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনার অভাবে অনেক কাজ সফলতার মুখ না দেখে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে, দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজার পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকার করার জন্য সবাই অনেক সভা করেও কোনো কূলকিনারা পান না। ঝাঁটা দিয়ে ধুলা দূর করতে রাজাকে ছিদ্রহীন ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে অনেকে পরামর্শ দেন। আসল সমস্যা নিয়ে কেউ গভীরভাবে ভাবেন না। শুধু মনগড়া সিদ্ধান্ত দিয়েই মন্ত্রী ও রাজ্যের জ্ঞানী-গুণীরা ব্যর্থ হয়ে বসে থাকেন। অবশেষে চামার কুলপতি এসে সবার বুদ্ধিকে হার মানিয়ে রাজার পায়ের মাপে জুতা তৈরি করে দিয়ে সমস্যার সমাধান করেন। কবিতার এই বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকের কৃষক রহিম মিয়ার কর্মকাণ্ডটি সাদৃশ্যপূর্ণ। রায়পুর গ্রামের জমির উর্বর শক্তি বাড়ানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে যখন গ্রামের গণ্যমান্যরা ব্যর্থ, তখন রহিম মিয়া সঠিক উপায় খুঁজে পান। তিনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জমিতে জৈব ও সবুজ সার প্রয়োগের পরমার্শ দেন।
উদ্দীপকের কৃষক জমির উর্বরা শক্তি বাড়ানোর যে উপায় খুঁজে পেয়েছেন তা গ্রামের গণ্যমান্যরা খুঁজে পাননি। তাদের এই ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজ অমাত্যদের ব্যর্থতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর উদ্দীপকের কৃষক কবিতার চামার কুলপতির প্রতিনিধি। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে চামার কুলপতিই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। উদ্দীপকের কৃষক রহিম মিয়াও সেই ভূমিকা পালন করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!