'জুতা-আবিষ্কার' কবিতাটি 'কল্পনা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'পদধূলি তত্ত্ব' বলতে রাজার পায়ের ধূলি নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় কবি ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। রাজা হবু পায়ে ধুলা লাগার কারণে অত্যন্ত বিরক্ত হন। তিনি রাজা, তাঁর পায়ে ধুলা লাগবে এটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। তিনি মন্ত্রীকে ডেকে এর প্রতিকারের জন্য আদেশ দিলেন। মন্ত্রী, পণ্ডিত-জ্ঞানী-গুণীরা মিলে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে উল্টো রাজাকে বোঝাতে শুরু করলেন। মন্ত্রী বললেন যে, রাজার পায়ে ধুলা না থাকলে রাজ্যের প্রজারা রাজার 'পদধুলি' নেবে কীভাবে? এ কথা শুনে রাজা বললেন- কথাটা সত্য, এ নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আগে পায়ে যাতে ধূলি না লাগে সেই ব্যবস্থা কর।
গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজার মন্ত্রী ও রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী-পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
পরিকল্পিতভাবে এবং যথাযথ উপায়ে কোনো কাজ সম্পাদনা না করলে যেকোনো কর্মপ্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। অনেক সময় নিজের কর্মদক্ষতার অভাবে আমরা কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারি না। অথচ নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য আমরা নানা রকম যুক্তি দিয়ে থাকি।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় পায়ে ধুলা লাগার কারণে রাজা বিরক্তি বোধ করেন। তাঁর পায়ে যাতে ধুলা না লাগে সেই ব্যবস্থা করতে তিনি তাঁর রাজ অমাত্যদের নির্দেশ দিলেন। রাজার নির্দেশ পাওয়ামাত্র সবাই ভাবতে লাগলেন। তারা এক-একজন বিভিন্ন উপায়ও বের করল এবং তা করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনা দেখা দিল। রাজ্যের মন্ত্রী, জ্ঞানী-গুণীদের সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। কবিতার এই বিষয়টি উদ্দীপকের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জমির উর্বরতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে না পারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ অনেক আলোচনা করেও তারা তাদের গ্রামের জমির উর্বরাশক্তি বাড়ানোর উপায় আবিষ্কার করতে পারেননি। তাই আমরা বলতে পারি যে, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আলোচ্য কবিতার রাজার মন্ত্রী, জ্ঞানী, গুণী ও পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
"উদ্দীপকের কৃষকই যেন 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কোনো কাজে সাফল্য অর্জন করতে হলে সঠিক পরিকল্পনা এবং কর্মপদ্ধতির প্রয়োজন। উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনার অভাবে অনেক কাজ সফলতার মুখ না দেখে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে, দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজার পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকার করার জন্য সবাই অনেক সভা করেও কোনো কূলকিনারা পান না। ঝাঁটা দিয়ে ধুলা দূর করতে রাজাকে ছিদ্রহীন ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে অনেকে পরামর্শ দেন। আসল সমস্যা নিয়ে কেউ গভীরভাবে ভাবেন না। শুধু মনগড়া সিদ্ধান্ত দিয়েই মন্ত্রী ও রাজ্যের জ্ঞানী-গুণীরা ব্যর্থ হয়ে বসে থাকেন। অবশেষে চামার কুলপতি এসে সবার বুদ্ধিকে হার মানিয়ে রাজার পায়ের মাপে জুতা তৈরি করে দিয়ে সমস্যার সমাধান করেন। কবিতার এই বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকের কৃষক রহিম মিয়ার কর্মকাণ্ডটি সাদৃশ্যপূর্ণ। রায়পুর গ্রামের জমির উর্বর শক্তি বাড়ানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে যখন গ্রামের গণ্যমান্যরা ব্যর্থ, তখন রহিম মিয়া সঠিক উপায় খুঁজে পান। তিনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জমিতে জৈব ও সবুজ সার প্রয়োগের পরমার্শ দেন।
উদ্দীপকের কৃষক জমির উর্বরা শক্তি বাড়ানোর যে উপায় খুঁজে পেয়েছেন তা গ্রামের গণ্যমান্যরা খুঁজে পাননি। তাদের এই ব্যর্থতা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজ অমাত্যদের ব্যর্থতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর উদ্দীপকের কৃষক কবিতার চামার কুলপতির প্রতিনিধি। 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে চামার কুলপতিই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। উদ্দীপকের কৃষক রহিম মিয়াও সেই ভূমিকা পালন করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!