উদ্দীপকের জাফরুল স্যার একাদশ শ্রেণির কৃষিশিক্ষা ক্লাসে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্পর্কে পাঠদান করেন। মাটির উৎপাদন ক্ষমতা একটি অর্জিত গুণ। মাটির উর্বরতা বিভিন্ন কারণে কমে যাচ্ছে অথচ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে আমাদের দেশে শস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। শস্য উৎপাদন বাড়াতে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ দরকার, তেমনি মাটির উর্বরতা বাড়ানোর ব্যাপারেও আমাদের যথেষ্ট সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জমিতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদানের ভিত্তিতে ও শস্যের চাহিদা মোতাবেক সার ব্যবহার করা উচিত। মাটির উর্বরতা রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। মাটির প্রয়োজন অনুযায়ী রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে মাটিতে পুষ্টি উপাদান যোগ হয় যা মাটির হারানো উর্বরতা পুনরুদ্ধার, বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য সহায়ক। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে মাটির ক্ষয়রোধ করে উর্বরতা সংরক্ষণ করতে হয়। এছাড়া মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হয়। মাটির উর্বরতা রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ক্রমিক ফসলের চাষ ও জমির আগাছা দমন করা জরুরি। মাটিকে ফসল উৎপাদনের উপযোগী অবস্থায় আনার জন্য উত্তম ভূমিকর্ষণ প্রয়োজন। উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষ করতে হলে চাহিদা মোতাবেক পুষ্টি উপাদান সার আকারে সরবরাহ করা উচিত। জমিতে আচ্ছাদন ফসল চাষ করে উর্বরতা সংরক্ষণ করা যায়। মালচিং প্রয়োগে জমিতে আর্দ্রতা সংরক্ষিত হয়, সেই সাথে মাটিতে জৈব পদার্থের মিশ্রণের ফলে উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে জাফরুল স্যারের পাঠদানের বিষয়টি অত্যন্ত মূল্যবান।
Related Question
View Allযেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।
নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত।
ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে।
iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম।
iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম।
V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়।
vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি।
vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না।
viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!