উদ্দীপকে গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যার পরিমাণ বায়ুমন্ডলে দিন দিন বেড়েই চলেছে।
মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বিগত একশ বছরে প্রায় ০.৬০° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে ক্রমশ সৃষ্টি হচ্ছে পুরু গ্রিন হাউস গ্যাসের স্তর বা চাদর। এর ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ছেড়ে দেওয়া তাপ পুনরায় উর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলে ফিরে যেতে পারছে না। এ কারণে বায়ুমণ্ডলে তাপ শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্রমশ উষ্ণতা বাড়ছে। যাকে গ্রিন হাউস প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া বলে।
গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অধিক বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, খরা প্রভৃতি জলবায়ুগত পরিবর্তন সাধিত হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশের ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এছাড়া সময়ে অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ফলে ফসল ডুবে যাওয়া, সুপেয় পানি দূষিত হওয়া, লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি, বনাঞ্চল ধ্বংস, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
Related Question
View Allযে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাই বায়ুমণ্ডল।
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা ৭৮.০২ ভাগ।
বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় (যেমন- বজ্রপাত) আবদ্ধ হয় এবং উদ্ভিদ মাটি থেকে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। বাতাসে নাইট্রোজেন বেশি থাকায় তা বাতাসের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই বাতাসে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকার সুবিধা রয়েছে।
চিত্রের 'Q' স্তরটি স্ট্রাটোমণ্ডল।
ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere) নামে পরিচিত। নিচে স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা
করা হলো-
i. এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া শান্ত ও শুষ্ক থাকে। ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়ে বিনা বাঁধায় জেট বিমান চলাচল করে।
ii. এই স্তরে ওজোন (O;) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়।
iii. এ স্তরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।
চিত্রে প্রদর্শিত 'R' স্তরটি মেসোমণ্ডল বা Mesosphere এবং 'S'
স্তরটি তাপমণ্ডল বা Thermosphere। স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে। মেসোবিরতির (Mesopause) উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে তাপমণ্ডল বলে। চিত্রের 'R' স্তরটি বা মেসোমণ্ডল আমাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়। এই উল্কাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে প্রাণী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হতো। মেসোমণ্ডলের কারণেই এগুলো পৃথিবীতে আসতে পারে না।
তাই মেসোমণ্ডল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের উপর ভিত্তি করে আমেরিকান আবহাওয়াবিদ উইলিয়াম ফেরেল একটি সূত্র প্রদান করেন যা ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর- গোলার্ধে ডান এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। বিজ্ঞানী ফেরেল প্রথম এ সূত্র প্রদান করেন বলে একে ফেরেলের সূত্র বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!