উদ্দীপকের তৃণার ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের পূর্ণার ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
একদিন দাসী পূর্ণ প্রভু গৃহে সারারাত কর্ম করার পর ভোরে খুব ক্লান্ত ও ক্ষুধা অনুভব করেছিল। তখন সে দুটি আধপোড়া রুটি নিয়ে কাছের পুকুরঘাটে গিয়ে বসল। এমন সময় একজন বৌদ্ধভিক্ষু ভিক্ষাপাত্র হাতে এগিয়ে আসছিলেন। ভিক্ষারত বৌদ্ধভিক্ষুকে দেখে পূর্ণার চিত্ত শ্রদ্ধায় পূর্ণ হয়ে গেল, তার মনে ভিক্ষুকে কিছু দান করার ইচ্ছা জাগ্রত হলো। কিন্তু সে ছিল দরিদ্র, হাতের কাছে দুটি রুটি ছাড়া কিছুই ছিল না। পূর্ণা ভাবলেন, এ পোড়া রুটি কি ভিক্ষু গ্রহণ করবেন? এভাবে দ্বিধাগ্রস্তভাবে তিনি ভিক্ষুর কাছে গিয়ে ভিক্ষুকে শ্রদ্ধাচিত্তে বন্দনা করে তার দানের ইচ্ছা প্রকাশ করে বললেন, "ভন্তে, আমার কাছে দুটি রুটি আছে। আমি এগুলো আপনাকে দান করতে চাই। ভন্তে, আপনি কি তা গ্রহণ করবেন?” ভন্তে পূর্ণার দানের আগ্রহ বুঝতে পেরে রুটি গ্রহণে সম্মতি দিয়ে ভিক্ষাপাত্র এগিয়ে দিলেন। পূর্ণা আনন্দপূর্ণ চিত্তে রুটি দুটি ভিক্ষুকে দান করলেন। এ দানের ফলে তিনি স্রোতাপত্তি ফল লাভ করেন।
Related Question
View Allরৌদ্ধধর্ম তিন প্রকার কুশলকর্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।
বৌদ্ধরা সাধারণত লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয়, 'পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের জন্য দান করে। পরলোকগত জ্ঞাতিদের সদৃগতি কামনায়ও দান করা হয়। মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের জন্যও দান করা হয়।
উদ্দীপকে চম্পা যে দান করলেন তা সংঘদানের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সংঘদান অন্যতম'। ভিক্ষুসংঘকে উদ্দেশ্য করে যে দান করা হয় তাই সঙ্ঘদান। বৌদ্ধরা যেকোনো শুভকাজ শুরু করার পূর্বে সংঘদান করে থাকেন। সংঘদান করতে হলে অন্যূন পাঁচজন ভিক্ষুর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যতবেশি হবে তত ভালো। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্ষুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সাধারণত ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দান করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দানসামগ্রী সুন্দরভাবে সাজাতে হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটি হয়ে আসনে উপবেশন করলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভিক্ষুদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন।
বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দান দেওয়া মানুষের মহৎ কর্ম। এ গুণটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে দানানুষ্ঠান বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ভুলে পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। দানের ফলে চিত্তের উদারতার বৃদ্ধি এবং মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ প্রস্ফুটিত হয়। দান বা দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা হয়, চম্পার দানের সামাজিক গুরুত্ব অনেক।
সংঘদানের জন্য অন্যূন পাঁচ জন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়।
ভিক্ষুসংঘকে দান করার কারণ বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সঙ্ঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় ততই ভালো। এজন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ দান করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!