উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের সমাজে, বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব।
আমাদের সমাজে জনসংখ্যা সমস্যা, কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, মাদকাসক্তি, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন প্রভৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যাগুলো আমাদের সামাজিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর এসব সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে গণসচেতনতা ও জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে গণমাধ্যম সমস্যা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উদ্দীপকের কাঠামোতে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বেতার, স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট প্রভৃতির উল্লেখ রয়েছে।
গণমাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমাজের কোনো অসংগতি, অপকর্ম, বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টেলিভিশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম। বিনোদনমূলক নানা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের নানারকম অপরাধমূলক কার্যকলাপের সচিত্র প্রতিবেদন, অনুসন্ধানমূলক তথ্য উপস্থাপনে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। এসব সংবাদের ফলে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান বা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যা সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ ইটিভি (ETV)-এর 'একুশের চোখ', ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের 'তালাশ', যমুনা টেলিভিশনের ৩৬০° প্রভৃতি
অনুষ্ঠানের কথা বলা যায়। বেতার গণমাধ্যম হিসেবে নানা ধরনের তথ্যমূলক সংবাদ, যাত্রা, নাটক, আলোচনা, বক্তৃতা প্রকাশ করে যা শ্রোতাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। এছাড়া সামাজিক, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়। বিশেষ করে অপরাধমূলক যেসব চলচ্চিত্র তৈরি হয়ে থাকে সেগুলো সাধারণ জনগণকে ভালো কাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খারাপ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার ভূমিকাও কম নয়।
যেকোনো সমাজবিরোধী বিষয়ে লেখকের বক্তব্যও সামাজিক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা পালন করে। এভাবে গণমাধ্যম বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আমাদের সমাজে বিদ্যমান জনসংখ্যা সমস্যা, বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার, নারী নির্যাতন,
যৌতুক, কিশোর অপরাধ, দুর্নীতিসহ প্রায় সব সমস্যা সম্পর্কে অনুসন্ধান চালানো, এগুলোর বিরুদ্ধে জনমত গঠন, সমস্যা মোকাবিলায় করণীয় প্রভৃতি প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
বিবাহের প্রধান ভূমিকা পরিবার গঠন।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!