উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাঙালির ন্যায্য দাবির বিপরীতে ডিসেম্বর মাসে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা করার এবং নির্দিষ্ট মাসকে কেন্দ্র করে কবিতা লিখতে চাওয়ার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে আসে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান। কবিতাটিতে এ আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কবি ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ ও বাঙালির ন্যায্য দাবির বিপরীতে ফেব্রুয়ারি মাসের পরিকল্পিত গণহত্যাকে মূর্ত করে তুলেছেন। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিগত নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ নেমে আসে ঢাকার রাজপথে। শোষণের বিরুদ্ধে প্রবল গণজাগরণের শুরু হয়।
উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার মাস ডিসেম্বরের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই মাসটা বাঙালিদের কাছে অর্থপূর্ণ মাস। এ কারণে উদ্দীপকের কবি এ মাসে মুক্তিযুদ্ধের কবিতা লিখতে চেয়েছেন। কেননা তিনি অনুভব করেছেন এ মাসে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে শহিদ হওয়া বুদ্ধিজীবীদের কথা স্মরণ করে বধ্যভূমিগুলো চিৎকার করতে থাকে, মানুষ ও শিয়াল সম্মিলিত স্বরে কেঁদে ওঠে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি কবি লিখেছেন ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এবং ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের গণহত্যাকে কেন্দ্র করে। যে ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবি ফেব্রুয়ারি মাস নিয়ে কবিতা লিখেছেন সেই একই দায়বদ্ধতা থেকে উদ্দীপকের কবিও ডিসেম্বর মাস নিয়ে কবিতা লিখতে চেয়েছেন। এদিক থেকে উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্য আছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!