'উদ্দীপকের বক্তা এবং 'মেলা' কবিতায় বর্ণিত শিশুরা প্রত্যেকেই ভেদাভেদহীন একটি সুন্দর অসম্পূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে স্বপ্ন দেখেছে'-মন্তব্যটি সঠিক বলেই আমি মনে করি।
'মেলা' কবিতায় শিশু-কিশোরদের মনোভাবের কথা বলা হয়েছে। শিশুরা প্রকৃতির সব উপাদানেই ভালোবাসা খুঁজে নেয়। তারা সারা বিশ্বে নবীন প্রাণের আশা ছড়িয়ে দেয়। দেশ-কালের সীমানা ভেঙে তারা অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে একটি পৃথিবী গড়তে চায়। এই পৃথিবীতে কোনো বিবাদ থাকবে না, এখানে মানবসমাজ হবে একটি পরিবারের মতো।
উদ্দীপকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকটির বক্তা মনে করেন, এই পৃথিবীতে লালিত-পালিত সবমানুষের অনুভূতি সমান। প্রকৃতির সব উপাদানের সহায়তা নিয়ে তারা এখানে একইসাথে প্রতিপালিত হচ্ছে। তাই বাইরের চেহারা দেখে তাদেরকে বিচার না করে অন্তরের সৌন্দর্যে বিচার করা উচিত। অর্থাৎ কবিতার মতো উদ্দীপকের লেখকও স্নেহ-মমতাপূর্ণ, বিবাদহীন এক পৃথিবীর প্রত্যাশা করেন বলেই মনে হয়।
'মেলা' কবিতা ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই লেখকেরা একটি ভালোবাসাপূর্ণ ও ভেদাভেদহীন সমাজ প্রত্যাশা করেছেন। শিশুদের কোমল মনে যেমন শান্তিপূর্ণ অভিন্ন সমাজ প্রত্যাশা রয়েছে তেমনি উদ্দীপকের বস্তা ও মানুষের ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুভূতিতে কোনো পার্থক্য পান না। আবার গায়ের রঙে পার্থক্য হলেও রক্ত একই বলে সব মানুষকে অভিন্ন ভেবেছেন তিনি। এরূপ আলোচ্য কবিতার শিশুরাও তাদের স্বপ্নের জগতে ভেদাভেদহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক।
Related Question
View Allনীল আকাশের রং কুড়িয়ে বেড়ায় ভাইবোনেরা।
কবি শিশু-কিশোরদের বাগানের কথা বলেছেন।
প্রকৃতি জগতে কবি বিভিন্ন মেলার সমারোহ দেখতে পান। আবার শিশুদের মাঝেও রয়েছে একটি আলাদা জগৎ। কবি কলকাকলিতে মুখর শিশুদের মাঝে একটি নিষ্কলুষ বাগানের সন্ধান পেয়েছেন। সেই শিশুরা হিংসা-দ্বেষ, বিদ্বেষ সবকিছু বাদ দিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ এক জগৎ তৈরি করবে। আপন - পর সবাইকে সুখে-দুঃখে আপন ভেবে নেবে। সেই ভালোবাসাপূর্ণ বাগানে ফুল হয়ে ফুটবে শিশু-কিশোররা।
উদ্দীপকের বর্ণনায় 'মেলা' কবিতার প্রকৃতির জগৎ-এর বিষয়বস্তুর সাথে মিল পাওয়া যায়।
কবি আহসান হাবিব 'মেলা' কবিতায় সুন্দর পৃথিবীর চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির জগতে দৃষ্টি রাখলে আমরা দেখতে পাই ফুলভরতি বাগান। গাছে গাছে পাখির বিচিত্র সমাহার। আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পাই হাজার হাজার তারার মেলা।
উদ্দীপকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের কিছু দিক তুরে ধরা হয়েছে। নদীর পাড়, নদীতে ভেসে বেড়ানো রংবেরঙের পালতোলা নৌকা। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ানো নানা রকমের সাদা-কালো পাখি। ধানখেতের সবুজ সমাহার। সবকিছু মিলে এক মোহনীয় পরিবেশ উঠে এসেছে। আলোচ্য কবিতায়ও কবি প্রকৃতির এই মোহনীয় সৌন্দর্যময় প্রকৃতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, প্রকৃতির জগতের মিলের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'মেলা' কবিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে মিল রয়েছে।
ভেদাভেদহীন একটি সুন্দর আনন্দপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের দিক থেকে বাউলের গানের মর্মকথা 'মেলা' কবিতার মূলভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
'মেলা' কবিতায় উঠে এসেছে শিশু-কিশোরদের মনোভাবের কথা। প্রকৃতির সব উপাদানের মধ্যেই শিশুরা খুঁজে পায় ভালোবাসা। তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় নবীন প্রাণের আশা। দেশ-কালের সীমানা ভেঙে তারা অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে গড়তে চায় মানুষের জন্য একটা অভিন্ন পৃথিবী। যে পৃথিবীর মধ্যে কোনো বিবাদ থাকবে না। পৃথিবী হবে একটা দেশ আর মানবসমাজ হবে একটা পরিবারের মতো।
উদ্দীপকের বাউলের গানের মধ্যে ফুটে উঠেছে ঐক্যের আহ্বান। বাউল সুরে সুরে বলেছেন, বিভিন্ন বর্ণের গাভি হলেও দুধের বরণ একই রকম। তেমনিভাবে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকলেও সবাই আসলে একই মায়ের সন্তান। অর্থাৎ তিনি বিবাদহীন এক অভিন্ন পৃথিবীর কথাই ভাবার্থে বলেছেন।
'মেলা' কবিতা ও উদ্দীপকের বাউল গানের মধ্যে একটি ভালোবাসাপূর্ণ ও ভেদাভেদহীন সমাজের কথাই উঠে এসেছে। শিশুদের কোমল মনে যেমন শান্তিপূর্ণ অভিন্ন সমাজের প্রত্যাশা রয়েছে তেমনি উদ্দীপকের বাউল গানের মধ্যেও একই শান্তিপূর্ণ অভিন্ন সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, বাউলের এই গানের মর্মকথাই 'মেলা' কবিতার মূলভাব।
পৃথিবীর সমস্ত শিশু-কিশোরের একতার উৎসবকে বোঝাতে কবি আর এক মেলা জগৎজুড়ে বলেছেন।
প্রকৃতির জগতে আমরা নানান মেলা দেখতে পাই। অন্যদিকে পৃথিবীর শিশু-কিশোরদের রয়েছে আলাদা জগৎ। যা একটি মেলার মতো। প্রকৃতির জগতের সবকিছু পেয়েছে শিশু-কিশোররা। পৃথিবীর সমস্ত শিশু-কিশোরের ভাষা এক নয়। তবে তাদের মনের ভাষার মধ্যে একটা মিল আছে। তাদের এই মনের মিলকে কবি একতার উৎসব হিসেবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
