আমি মনে করি, উদ্দীপকের বিজয়া সম্রাট অশোক সম্পর্কে পড়েছে।
অশোক ভারতবর্ষের বিখ্যাত সম্রাট ছিলেন, ভারতবর্ষ এবং বহির্বিশ্বে তাঁর অপরিসীম প্রভাব ছিল। তাঁর রাজ্যসীমা পশ্চিম দিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পর্যন্ত, পূর্ব দিকে বাংলাদেশ ও আসাম এবং উত্তর-দক্ষিণ দিকে কেরালা ও অন্ধপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি কলিঙ্গ রাজ্যও জয় করেন। তাঁর রাজধানী ছিল মগধ। যা বর্তমানে ভারতের বিহারে অবস্থিত। কলিঙ্গ যুদ্ধের বিভীষিকা দেখে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসারে তিনি অপরিসীম অবদান রাখেন। অহিংসা, ভালোবাসা, সত্য, ন্যায় ও সহিষ্ণুতা ছিল তাঁর আদর্শ। শান্তিকামী এবং ধার্মিক রাজা হিসেবে তাঁর খুবই সুখ্যাতি ছিল, ধর্ম ও ন্যায়ের সঙ্গে তিনি রাজ্য শাসন করতেন। জনহিতৈষী শাসনব্যবস্থার জন্য তিনি বিশ্বের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নরপতি হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
Related Question
View Allমগধ বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত।
নিগ্রোধ শ্রমণ সম্রাট অশোককে ধম্মপদ গ্রন্থের অপ্রমাদ বর্গের যে গাথাটি ব্যাখ্যা করে শুনিয়েছিলেন তার মমার্থ হলো, অপ্রমাদ অমৃত লাভের পথ আর প্রমাদ মৃত্যুর পথ। অপ্রমত্ত ব্যক্তিরা অমরত্ব লাভকরেন। কিন্তু যারা প্রমত্ত তারা বেঁচে থেকেও মৃতবৎ। এ সত্য বিশেষরূপে জেনে তাঁরা অপ্রমত্ত হয়ে আর্যদের পথ অনুসরণ করেন, সেই ধ্যাননিষ্ঠা, সতত উদ্যোগী, দৃঢ়পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ পরম শান্তিরূপ নির্বাণ লাভ করেন।
উদ্দীপকের রাজা জনবমের কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধধর্মের অনুসারী সম্রাট অশোকের সঙ্গে, সাদৃশ্যপূর্ণ। সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের সম্রাট ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান এবং সাহসী। ছোটবেলায় তিনি যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা করেন। দুঃখসাহসী কাজ করতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন। তিনি অবন্তীতে দাঙ্গা এবং রাজ অমাত্যদের বিদ্রোহ দমন করে তাঁর শৌর্যবীর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। পিতা বিন্দুসারের মৃত্যুর পর সম্রাট অশোক সিংহাসনে আরোহণ করেন। কথিত আছে যে, তিনি সিংহাসনে আরোহণের জন্য ৯৯ জন ভ্রাতাকে হত্যা করেন। সিংহাসনে আরোহণ করার 'পর থেকে তিনি রাজ্য বিস্তারের নেশায় মত্ত ছিলেন। তিনি বিভীষিকাময় এক যুদ্ধে কলিঙ্গ জয় করেন। যুদ্ধে জয়ী হলেও সম্রাট অশোক সুখী হন না। রাজ্য জয়ের বিনিময়ে দেখলেন রক্তপাত এবং মৃত্যুর বিভীষিকা এতে তিনি দারুণভাবে মর্মাহত হন। এরপর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে রাজ্য জয়ের পরিবর্তে ধর্মজয়ের সাধনায় মত্ত হন। এগুলো উদ্দীপকের রাজা জনবমের চরিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রাজা জনবমের উক্তি। রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্মপ্রচার অতি শ্রেষ্ঠকর্ম। আলোচ্য কর্মটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন সম্রাট অশোক। সম্রাট প্রথমদিকে ভয়ঙ্কর এবং নির্দয় যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভকরেন। কিন্তু কলিঙ্গ যুদ্ধের বিভীষিকার কথা চিন্তা করে নিগ্রোধ শ্রমণের নিকট বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি বৌদ্ধ উপাসকে পরিণত হন। সেদিন থেকেই তাঁর রাজ্য জয়ের পরিবর্তে মানুষের অন্তর জয় করার বাসনা জাগে। রাজ্য জয়ের প্রবল তৃষ্ণা মন থেকে মুছে ফেলেন। রাজ্য জয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয়কে তিনি সাধনা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রজাদের কল্যাণে 'সর্বদা নিবেদিত থাকতেন। সবার প্রতি দয়াশীল আচরণ করতেন। সর্বপ্রাণীর প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম মমত্ববোধ। বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি 'চণ্ডাশোক' থেকে 'ধর্মাশোকে' পরিণত হন। এমনকি 'দেবনাম প্রিয়দর্শী' উপাধি লাভ করেন।
অতএব বলা যায়, সত্যিকার অর্থে রাজ্য জয়ের চেয়ে ধর্মপ্রচারের কর্ম শ্রেষ্ঠ।
সম্রাট অশোক তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শ্রমণ নিগ্রোধের নিকটে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন।
সম্রাট অশোক অহিংসা, সত্য, ন্যায়পরায়ণতা, দান, সেবা প্রভৃতি আদর্শকে রাষ্ট্রনীতিতে গ্রহণ করে রাজ্য শাসন করতেন। বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি 'চন্ডাশোক' থেকে 'ধর্মাশোকে' পরিণত হন। এছাড়া তিনি 'দেবনাম প্রিয়দর্শী' উপাধি লাভ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!