'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে মেঘনাদের প্রগাঢ় দেশপ্রেমের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' একটি কাহিনিমূলক কবিতা। এ কবিতার প্রধান দুই চরিত্র মেঘনাদ ও বিভীষণের আদর্শিক দ্বন্দ্বই কবিতাটির মূল বিষয়। তাদের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে ধর্মবোধ ও নৈতিকতা।
উদ্দীপকের অনুচ্ছেদটি পলাশির যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে রচিত। সেখানে নবাব বাহিনীর সড়ো প্রধান সেনাপতি মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে তার আঁতাঁতের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। তার এমন আচরণের কারণেই নবাব বাহিনীর পরাজয় হয় এবং ব্রিটিশদের দখলে চলে যায় বাংলা। এভাবে দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুর পক্ষাবলম্বন 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতারও অন্যতম দিক।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা এবং আলোচ্য উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ চিত্রিত হয়েছে। কবিতায় চাচা বিভীষণের স্বদেশবৈরিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়েছে মেঘনাদ। বিভীষণের প্রতি বর্ষিত হয়েছে তার প্রবল ঘৃণা। সেই সাথে স্বদেশপ্রেমের কারণেই তাকে অসহায় অবস্থায় লক্ষণের হাতে জীবন দিতে হয়েছে। উদ্দীপকে এমন স্বদেশপ্রীতির পরিচয় মেলে না। এখানে বাংলার মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলায় স্বাধীনতা হারানোর দিকটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দেশের মোহনলাল ও মিরমর্দানের বীরত্বের কথা উদ্দীপকে থাকলে চরিত্র দুটি স্বদেশপ্রেমের গভীরতায় কবিতার মেঘনাদকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাছাড়া স্বদেশের প্রতি আনুগত্য ও নৈতিকতার দ্বন্দ্বে স্বদেশকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার কথা কবিতায় মূলবাণী হিসেবে উঠে এলেও উদ্দীপকে তার স্বরূপ অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, স্বদেশপ্রীতির দৃষ্টান্ত থাকলেও উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে সক্ষম হয়নি। অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!