সৌমিত্রি 'হলো লক্ষ্মণ।
শত্রু লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে লঙ্কায় নিয়ে আসা প্রসঙ্গে বিভীষণকে উদ্দেশ করে মেঘনাদ উক্তিটি করেছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ একজন দেশপ্রেমী যোদ্ধা। রাম-রাবণের যুদ্ধে তাই সে স্বদেশ ও স্বজাতির পক্ষ অবলম্বন করে। কিন্তু ধর্ম ও ন্যায়ের অজুহাত দিয়ে তারই চাচা বিভীষণ রাম-লক্ষ্মণের পক্ষ নেন এবং তাকে হত্যা করার জন্য লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসেন। বিভীষণের এহেন কাজের জন্য মেঘনাদ খেদের সঙ্গে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
উদ্দীপকের মিরজাফর ও 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণ চরিত্রে স্বজাতি-বিদ্বেষের দিকটি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। সহোদর রাবণের সঙ্গ ত্যাগ করে তিনি শত্রু রামের পক্ষ অবলম্বন করেন। শুধু তাই নয়, ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদকে আক্রমণের জন্য লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসেন।
কবিতা
উদ্দীপকের অনুচ্ছেদে ঐতিহাসিক চরিত্র মিরজাফরের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত হয়েছে। পলাশির যুদ্ধে সেনাপতি মিরমর্দান ও মোহনলাল বাংলার স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে আঁতাঁত করে দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। সে ও তার সহযোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েও যুদ্ধ না করে পুতুলের মতো স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের বিশ্বাসঘাতকতার পরিণামে ইংরেজ বাহিনী বাংলা দখল করে নেয়। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের আচরণেও একই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় মেলে। অর্থাৎ উদ্দীপকের মিরজাফর ও আলোচ্য কবিতার বিভীষণের আচরণ প্রায় একই রকম। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের মিরজাফর 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের চরিত্রকে প্রতিনিধিত্ব করে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে মেঘনাদের প্রগাঢ় দেশপ্রেমের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' একটি কাহিনিমূলক কবিতা। এ কবিতার প্রধান দুই চরিত্র মেঘনাদ ও বিভীষণের আদর্শিক দ্বন্দ্বই কবিতাটির মূল বিষয়। তাদের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে ধর্মবোধ ও নৈতিকতা।
উদ্দীপকের অনুচ্ছেদটি পলাশির যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে রচিত। সেখানে নবাব বাহিনীর সড়ো প্রধান সেনাপতি মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ও ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে তার আঁতাঁতের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। তার এমন আচরণের কারণেই নবাব বাহিনীর পরাজয় হয় এবং ব্রিটিশদের দখলে চলে যায় বাংলা। এভাবে দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুর পক্ষাবলম্বন 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতারও অন্যতম দিক।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা এবং আলোচ্য উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ চিত্রিত হয়েছে। কবিতায় চাচা বিভীষণের স্বদেশবৈরিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমালোচনায় মুখর হয়েছে মেঘনাদ। বিভীষণের প্রতি বর্ষিত হয়েছে তার প্রবল ঘৃণা। সেই সাথে স্বদেশপ্রেমের কারণেই তাকে অসহায় অবস্থায় লক্ষণের হাতে জীবন দিতে হয়েছে। উদ্দীপকে এমন স্বদেশপ্রীতির পরিচয় মেলে না। এখানে বাংলার মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলায় স্বাধীনতা হারানোর দিকটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দেশের মোহনলাল ও মিরমর্দানের বীরত্বের কথা উদ্দীপকে থাকলে চরিত্র দুটি স্বদেশপ্রেমের গভীরতায় কবিতার মেঘনাদকে স্পর্শ করতে পারেনি। তাছাড়া স্বদেশের প্রতি আনুগত্য ও নৈতিকতার দ্বন্দ্বে স্বদেশকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার কথা কবিতায় মূলবাণী হিসেবে উঠে এলেও উদ্দীপকে তার স্বরূপ অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, স্বদেশপ্রীতির দৃষ্টান্ত থাকলেও উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে সক্ষম হয়নি। অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!