গ্রামে ফিরে একাত্মতা প্রতিষ্ঠার ভাবনা প্রস্ফুটিত হওয়ায় উদ্দীপকের শেষ দুই চরণ 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য পূর্ণরূপে ধারণ করেছে।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ফিরতি পথে গ্রামের পারিপার্শ্বিক অনুষঙ্গগুলো তাঁর মনে নেতিবাচক ও হতাশাব্যঞ্জক অনুভূতি জাগ্রত করে। তাঁর কাছে লাল সূর্যকে নির্লজ্জ মনে হয়, রোদকে পরাজিত মনে হয়, গ্রামকে বিশৃঙ্খল ছড়ানো-ছিটানো মনে হয়। তারপরও তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। মায়ের স্নেহ-মমতা কবির শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে তিনি সক্ষম হন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শহর থেকে ফিরে আসা যুবক গ্রামীণ পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করে। ভাঁজহীন পরিপাটি পোশাক পরে সে কিছুতেই পরিচিতজনের পাশে আন্তরিকভাবে বসতে পারে না। বসতে পারে না খড়ের গম্বুজ কিংবা মাটিতে। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে তার সম্পর্ক যেন বিচ্ছেদ হয়েছে। এই পরিবেশে সে একাত্মতা জ্ঞাপন করতে পারে না।
উদ্দীপকের শেষ দুই চরণে গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। কারণ গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম না হলে আত্মপরিচয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। গ্রামই হলো এই যুবকের প্রকৃত উৎস। অন্যদিকে, 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায়ও গ্রামের সৌন্দর্য ও গ্রামের সঙ্গে প্রত্যাবর্তিতের নাড়ির সম্পর্কের দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। কবিতায় ট্রেন ধরতে না পারা প্রত্যাগতের অনুভূতিতে জেগে থাকে তার মা, মাটি ও স্বজন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ দুই চরণ 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য পূর্ণরূপে ধারণ করতে পেরেছে।
Related Question
View Allপ্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তাঁর বাবা পড়বেন, 'ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...'।
'আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো'- বলতে বোঝানো হয়েছে, মায়ের সান্নিধ্যে সন্তান তার সকল প্রকার দুঃখ-বেদনা-ব্যর্থতা-লজ্জা ভুলে গিয়ে পরম শান্তি লাভ করে।
শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে একরকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি বাড়ির পথে পা বাড়ান। তাঁর মনে পড়ল বাবা-মায়ের সচেতনতামূলক কথাগুলো। মনে পড়ল ভাই-বোনের সতর্ক প্রস্তুতির কথা। লজ্জায় তাঁর হৃদয় ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু তাঁর এই ফিরে আসায় মা আনন্দিত হলো। মাকে জড়িয়ে ধরে সমস্ত লজ্জা কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
উদ্দীপক-২ এর 'ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়' চরণটিতে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার গতানুগতিক নাগরিক জীবনের মোহ থেকে মুক্তির বিষয়টির ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অস্থির মানব হৃদয় শান্তির জন্য ছুটে বেড়ায় দেশ-বিদেশে। কিন্তু এ ছুটে চলায় কোথাও শান্তির পরশ মেলে না। ধন-সম্পদের লোভের ফাঁদে মানবজীবন ক্রমশই শুধু অশান্ত চঞ্চল হতে থাকে। প্রকৃত শান্তি মেলে তার মায়ের কোলে, তার চিরচেনা প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আর যে কারণেই সব মোহ ত্যাগ করে, ভয়কে জয় করে ফিরতে চায় আপন আলয়ে।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরের মোহে যাত্রা করলেও শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার গ্লানি বুকে চেপে তিনি ঘরের পানে পা বাড়ালেন। তাঁর এ ফিরে আসা মাকে আনন্দিত করল। কবি মাকে জড়িয়ে ধরে প্রত্যাবর্তনের সমস্ত লজ্জা মুছে ফেললেন। তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলেন, নাগরিক জীবনের চাকচিক্যের চাইতে মাতৃতুল্য, গ্রামীণ সহজ-সরল জীবন পরম মমতার-শান্তির।
নগর জীবনের মোহ নয়, গ্রামীণ সহজ-সরল জীবনেই রয়েছে প্রকৃত শান্তির পরশ- এই বিষয়টিই উদ্দীপক এবং কবিতার মূল বিষয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ১ ও ২ মিলে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার ভাববস্তু প্রকাশে সক্ষম।
উদ্দীপকদ্বয়ে মা-মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। মায়ের দরিদ্র দশা কবির নিকট মহামূল্য ধন-রত্নতুল্য। তাই তিনি আর কিছু চান না, কারো ধার ধারেন না। ধনদৌলতের মোহে যে যেখানে খুশি চলে যাক- কবি তাঁর মায়ের ছেঁড়া কাঁথায় পরম মমতায় মাখামাখি করে পরম সুখ অনুভব করেন।
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবিকে শহরের চাকচিক্য হাতছানি দিয়ে ডাকলেও ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে তিনি মায়ের টানে গ্রামের পানেই পা বাড়িয়েছেন। মা তাঁকে দেখে আনন্দিত হয়েছেন। মাকে জড়িয়ে ধরে তিনি পরম সুখলাভ করেছেন। ব্যর্থতার গ্লানি উবে গিয়েছে। কীসের লজ্জা কীসের ভয়? যেন তিনি সবকিছুই জয় করেছেন।
উদ্দীপক এবং কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ করি, সন্তানের জন্য মায়ের কোল যেমন নিরাপদ এবং শান্তির স্থান- তেমনি মাতৃতুল্য তাঁর মাতৃভূমিও বটে। একজন মানুষ অর্থ-সম্পদের মোহে বিদেশে যেতে বাধ্য হলেও প্রকৃতপক্ষে তার মন কাঁদে মা এবং মাতৃভূমির জন্য। শেকড়ের সাথে বৃক্ষের যেমন সম্পর্ক- তেমনি মা-মাতৃভূমির সাথে প্রতিটি মানুষের সম্পর্ক প্রগাঢ়। শহর জীবনের কৃত্রিম চাকচিক্যময় পরিবেশে মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে। গ্রাম্য প্রকৃতির স্নিগ্ধ মায়াময় পরিবেশই মানবজীবনকে করে তোলে মধুময়-গীতিময়-ছন্দময়।
কবিতায় যাদের সাথে কবির শহরে যাওয়ার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্নোক্ত চরণে কবির ট্রেন ধরতে না পারার হতাশাগ্রস্ত মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
কবি শহরমুখী ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনের দিকে ছুটে যান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে পৌছাতে ব্যর্থ হন। কবিকে স্টেশনে রেখে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের দিকে ছুটে যায়। কবি হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখেন। এই দৃশ্যের অসহ্য যন্ত্রণা কবিকে বিদ্ধ করেছে। কবিকে রেখেই ট্রেন' হুইল বাজিয়ে শহর অভিমুখে তাঁর সহযাত্রীদের নিয়ে নির্দয়ভাবে চলেছে। এই হতাশাব্যঞ্জক অভিব্যক্তিই কবি ফুটিয়ে তুলেছেন আলোচ্য চরণে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!