উদ্দীপকে অশেষ বড়ুয়ার জানা বিষয়টি পালনের নিয়মাবলি নিচে বর্ণনা করা হলো-
বর্ষাবাস পালনকালে ভিক্ষুদের তিন মাস যেকোনো একটি বিহারে অবস্থান করে বর্ষাবাস উদ্যাপন করতে হয়। তখন তারা অধ্যয়ন, ধ্যান সাধনা ও ধর্মচর্চা করে দিন অতিবাহিত করেন। কোনো জরুরি কাজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে সন্ধ্যার আগেই বর্ষাবাস উদ্যাপনকারী ভিক্ষুকে নিজ বিহারে ফিরে আসতে হয়। তবে কিছু কারণে বর্ষাবাসের সময় নিজ বিহার ছাড়াও অন্যত্র রাত্রি যাপন করা যায়। কারণগুলো হলো-
১.' অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ম দায়ক-দায়িকা দেখার জন্য।
২. বুদ্ধশাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীকে উপদেশ দেয়ার জন্য।
৩. কোনো উপাসক বা উপাসিকা সঙ্ঘের উদ্দেশ্যে বিহার নির্মাণ করলে তাতে সহযোগিতা ও উৎসর্গ অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য।
৪. বর্ষাবাসব্রতধারী ভিক্ষু বা ভিক্ষুণী, শ্রমণ বা শ্রমণী অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য।
৫. কোথাও মিথ্যাদৃষ্টি বা সন্দেহ উপস্থিত হলে বা কেউ মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে তা দূর করার জন্য।
৬. পরিবাস কর্ম, আহ্বান কর্ম, প্রব্রজ্যা দান প্রভৃতি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন।
উপরে বর্ণিত কারণে বর্ষাবাসব্রতের সময় বাইরে অবস্থান করা গেলেও এক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষুকে বিহারে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু বন্যজন্তু, সাপ, চোর-ডাকাতের উপদ্রব, বিহারের দায়ক-দায়িকারা বিবাদগ্রস্ত এবং তর্কপ্রিয় হলে আগুন, পানি, বন্যা, ঝড় প্রভৃতি কারণে বর্ষাবাসের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বর্ষাবাসের স্থান পরিবর্তন করা যাবে। এতে ভিক্ষুদের বর্ষাবাসব্রত ভঙ্গ হয় না।'
Related Question
View Allতিন মাস ধরে বর্ষাবাস পালন করা হয়।
বর্ষাবাস বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠান। বর্ষাবাস পালন বৃদ্ধ প্রবর্তিত বিধিবিধানেরই অংশ। তিন মাস যে কোনো একটি বিহারে অবস্থান করে ভিক্ষুদের এ বর্ষাবাসব্রত উদ্যাপন করতে হয়। বর্ষাবাসব্রত পালনের মাধ্যমে ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনাটি বৌদ্ধধর্মের বর্ষাবাসব্রত আচার-অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত। বোধিমিত্র ভিক্ষুর আচরণে বর্ষাবাসব্রত অনুষ্ঠানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ভিক্ষুসঙ্ঘ গঠন করার পর বুদ্ধ তাঁর বাণী চারদিকে ছড়িয়ে দিতে ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন। ভিক্ষুরা লোকালয়ে গিয়ে ধর্ম প্রচার ও দেশনা করতেন। বর্ষাকালে ভিক্ষুরা বিভিন্ন ধরনের অসুবিধায় পড়তেন। এজন্য বুদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষার তিন মাস বিহারে অবস্থান করে ধর্মালোচনা, ধর্ম শ্রবণ, ধ্যান সমাধি করে সময় অতিবাহিত করার নির্দেশ দেন। তবে বর্ষাবাসব্রত পালনকালে অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ন দায়ক-দায়িকা দেখার জন্য বিহারের বাইরে যাওয়া যেতে পারে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বোধিমিত্র ভিক্ষুর আচার-আচরণে বর্ষাবাসব্রত পালনের চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহার ত্যাগের ঘটনাটি বর্ষাবাসব্রত বিধানের লঙ্ঘন বলা যায় না। বর্ষাবাসব্রত বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি আছে।
তিন মাস যেকোনো একটি বিহারে অবস্থান করে ভিক্ষুদের বর্ষাবাসব্রত উদ্যাপন করতে হয়। বর্ষাবাসব্রত পালনকালে ভিক্ষুরা ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন, ধ্যান সাধনা, ধর্মচর্চা, ধর্মশ্রবণ ও বিদ্যাচর্চা করে সময় পার করে। কোনো জরুরি কাজে নিজ বিহার থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে সন্ধ্যার আগে বর্ষাবাস উদ্যাপনকারী ভিক্ষুকে নিজ বিহারে ফিরতে হয়। তবে 'কিছু কারণে বর্ষাবাসের সময় নিজ বিহার ছাড়াও অন্যত্র রাত্রিযাপন করা যায়। যেমন-অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ন দায়-দায়িকা দেখার জন্য। উদ্দীপকে বোধিমিত্র ভিক্ষুর গুরু ভন্তে গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাকে সেবাযত্নের জন্য সে বিহারের বাইরে অবস্থান করে। তবে চারদিন পর আবার বিহারে ফিরে আসে।
সুতরাং বলা যায়, বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহারের বাইরে রাতযাপনের ঘটনাটি বর্ষাবাসব্রত বিধানের লঙ্ঘন নয়।
বর্ষাবাসব্রত পালনের ভিত্তিতে ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়।
উপোসথ ভিক্ষু এবং গৃহী উভয়ের পালনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে উপোসথ পালন করেন। ধর্মময় উৎকৃষ্ট জীবন গঠনের জন্য বুদ্ধ উপোসথের প্রবর্তন করেছিলেন। উপোসথ পালনে ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!