ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব (সপ্তম অধ্যায়)

বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

746

বৌদ্ধ সম্প্রদায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও পটভূমি রয়েছে। এসব আচার অনুষ্ঠান বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে এ অনুষ্ঠানগুলো পালন করা হয়। নানামুখী আয়োজনে কিছু কিছু আচার-অনুষ্ঠান উৎসবের রূপ ধারণ করে। এসব আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হয়। ধর্মীয় মতবাদগুলো বুঝতে সহজ হয়। পারস্পরিক ভাব-বিনিময় হয়। সৌভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। নৈতিক ও মানবিক জীবন গঠিত হয়। আত্মসংযম এবং বিনম্র হওয়া যায়। বর্ষাবাস, উপোসথ এবং কঠিন চীবরদান প্রভৃতি অনুষ্ঠান বৌদ্ধদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অনন্য উৎস। এসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ভিক্ষু এবং গৃহী বৌদ্ধদের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচনা করে। এ অধ্যায়ে আমরা তিনটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব সম্পর্কে পড়ব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • পটভূমিসহ বর্ষাবাসব্রত ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বর্ষাবাসব্রতকালীন ভিক্ষু ও গৃহীদের করণীয় বিষয় বর্ণনা করতে পারব।
  • উপোসথের প্রকারভেদ ও উপোসথ পালনের নিয়মাবলি বর্ণনা করতে পারব।
  • কঠিন চীবরদানের সুফল উল্লেখপূর্বক কঠিন চীবরদান সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

রুনা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। অহনা উপোসথ পালন করেন। উপোসথ পূর্ণিমা অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে পালন করতে হয়। উপোসথের সাথে ধর্মালোচনা অত্যন্ত জরুরি।

উপোসথ ভিক্ষু গৃহী উভয়ই পালন করতে পারেন
উপোসথ পালনকালে কথা বলা নিষেধ
উপোসথ পালনকালে প্রাণী হত্যা করতে হয়
উপোসথ পালনকালে ৭ দিন না খেয়ে থাকতে হয়

বর্ষাবাস বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠান। ভগবান বুদ্ধ তাঁর সংঘ প্রতিষ্ঠার পর সুষ্ঠুভাবে সেই সংঘ পরিচালনার নিমিত্তে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন প্রবর্তন করেন। বর্ষাবাস বুদ্ধ প্রবর্তিত বিধি-বিধানেরই অংশ। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ভিক্ষুরা বর্ষাবাসব্রত পালন করেন। এ সময় তাঁরা বিহারে অবস্থান করে ধর্মালোচনা, ধর্মশ্রবণ, ধর্ম-বিনয় ও ধ্যান-সমাধি চর্চা এবং অধ্যয়ন করে সময় অতিবাহিত করার চেষ্টা করেন। বর্ষাকালে বিহারে বাস করে এই ব্রত বা অধিষ্ঠান পালন করা হয় বলে এটিকে বর্ষাবাসব্রত বলে। বর্ষাবাসব্রত পালনের মাধ্যমে ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়।

বর্ষাবাসব্রতের পটভূমি

ভিক্ষুসংঘ গঠন করার পর বুদ্ধ সর্বপ্রাণির কল্যাণের জন্য তাঁর ধর্মবাণী দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন। বুদ্ধের নির্দেশে ভিক্ষুগণ পায়ে হেঁটে পাহাড় পর্বত ডিঙিয়ে বিভিন্ন লোকালয়ে গিয়ে ধর্ম প্রচার ও দেশনা করতেন। কিন্তু বর্ষাকালে ভিক্ষুরা বিভিন্ন রকম অসুবিধা ভোগ করতেন। তাঁরা কর্দমাক্ত পথে যাতায়াতের সময় প্রচুর কষ্ট ভোগ করতেন। পোকা-মাকড় এবং সাপের দংশনে অনেকের প্রাণ সংহার হতো। ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজার কারণে নানারকম রোগ হতো। ভেজা কাপড় পরে থাকতে হতো। কারণ তখনো দায়ক-দায়িকাদের নিকট থেকে চীবর গ্রহণের নিয়ম প্রচলন হয়নি। ফলে ভিক্ষুসংঘ নানারকম জটিল রোগে আক্রান্ত হতেন। তা ছাড়া বর্ষাকালে ভিক্ষুদের যাতায়াতে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেক সবুজ তৃণ এবং ক্ষুদ্র প্রাণী ভিক্ষুদের পদদলিত হতো। বুদ্ধ রাজগৃহের বেণুবন বিহারে অবস্থানকালে এসব বিষয় জ্ঞাত হন। তখন তিনি বর্ষা ঋতুর তিন মাস অর্থাৎ আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথি থেকে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত বিহারে বসবাস করে ধর্মালোচনা, ধর্ম শ্রবণ, ধ্যান-সমাধি এবং বিদ্যাচর্চা করে অতিবাহিত করার জন্য ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন। তখন থেকে বর্ষাবাস উদ্যাপন শুরু হয়। বর্ষাবাসব্রতকালে ভিক্ষুসংঘ কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক পরিশুদ্ধিতা অর্জন করেন। তাই বর্ষাবাসব্রতকে আত্মশুদ্ধির অধিষ্ঠান বলা হয়।

বুদ্ধ বলেছেন, যে স্থানে উপযুক্ত দায়ক-দায়িকা থাকেন এবং যে স্থান ধ্যান-সাধনার অন্তরায় নয় সেখানে ভিক্ষুদের বর্ষাবাসব্রত পালন করা উচিত। বুদ্ধের সময়কালে প্রাচীন ভারতের উরুবেলা, রাজগৃহ, নালন্দা, পাটলিপুত্র, শ্রাবস্তী, সাকেত, পাবা প্রভৃতি বর্ষাবাসব্রতের জন্য উপযুক্ত স্থান ছিল।

বর্ষাবাসব্রতের বিধান

তিন মাস যে কোনো একটি বিহারে অবস্থান করে ভিক্ষুদের এই বর্ষাবাসব্রত উদ্যাপন করতে হয়। তখন তাঁরা অধ্যয়ন, ধ্যান-সাধনা ও ধর্মচর্চা করে দিন অতিবাহিত করেন। কোনো জরুরি কাজে নিজ বিহার থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে সন্ধ্যার আগেই বর্ষাবাস উদ্যাপনকারী ভিক্ষুকে নিজ বিহারে ফিরে আসতে হয়। তবে কিছু কারণে বর্ষাবাসের সময় নিজ বিহার ছাড়াও অন্যত্র রাত্রি যাপন করা যায়।

কারণগুলো হলো:

১. অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ম দায়ক-দায়িকা দেখার জন্য।
২. বুদ্ধশাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীকে উপদেশ দেবার জন্য।
৩. কোনো উপাসক বা উপাসিকা সংঘের উদ্দেশ্যে বিহার নির্মাণ করলে তাতে সহযোগিতা ও উৎসর্গ অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য।
৪. বর্ষাবাসব্রতধারী ভিক্ষু বা ভিক্ষুণী, শ্রমণ বা শ্রমণী অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য।
৫. কোথাও মিথ্যাদৃষ্টি বা সন্দেহ উপস্থিত হলে বা কেউ মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে তা দূর করার জন্য।
৬. পরিবাস কর্ম, আহবান কর্ম, প্রব্রজ্যা দান প্রভৃতি অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য।

ওপরে বর্ণিত কারণে বর্ষাবাসব্রতের সময় বাইরে অবস্থান করা গেলেও এক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষাবাস পালনকারী ভিক্ষুকে বিহারে ফিরে আসতে হয়। তবে বন্য জন্তু, সাপ, চোর-ডাকাতের উপদ্রব, বিহারের দায়ক-দায়িকারা বিবাদগ্রস্ত এবং তর্কপ্রিয় হলে, আগুন, পানি, বন্যা, ঝড় প্রভৃতি কারণে বর্ষাবাসের স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বর্ষাবাসের স্থান পরিবর্তন করা যাবে। এতে ভিক্ষুদের বর্ষাবাসব্রত লঙ্ঘন হয় না।

বর্ষাবাসব্রতে ভিক্ষুদের করণীয়

বর্ষাবাস ভিক্ষুদের অবশ্য পালনীয় একটি কর্ম। এ সময় ভিক্ষুদের অনেক করণীয় কর্ম থাকে। তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১। বর্ষাবাসব্রত পালনকালে ভিক্ষুদের শাস্ত্র অধ্যয়ন, ধ্যান-সমাধি চর্চা, ধর্মালোচনা এবং ধর্ম শ্রবণ করে বিশুদ্ধ জীবনযাপন করতে হয়।
২। বর্ষাবাসব্রতকালে প্রতি পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে ভিক্ষুদের পাতিমো আবৃত্তি করতে হয়।
৩। বর্ষাবাসব্রতকালে ভিক্ষুগণকে ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে নিজের দোষত্রুটি স্বীকার করতে হয়। এজন্য জ্ঞাত বা অজ্ঞাতভাবে কৃত দোষের জন্য তাঁরা পরস্পরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কনিষ্ঠ ভিক্ষু বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষু কনিষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে দোষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলে অহংকার দূরীভূত হয়। পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।
৪। বিহারাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়।

বর্ষাবাসব্রতে সীমাগৃহে ভিক্ষুগণ

বর্ষাবাসব্রতে গৃহীদের করণীয়

বর্ষাবাসব্রত ভিক্ষুদের পালনীয় কর্ম হলেও এ সময় গৃহীদেরও অনেক করণীয় রয়েছে। বর্ষাবাসব্রতধারী ভিক্ষুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করা গৃহীদের কর্তব্য। ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে একত্রে চতুর্থত্যয় বলা হয়। বর্ষাবাসব্রতের সময় গৃহীরা ভিক্ষুদের চতুপ্রত্যয় দান করেন। চতুপ্রত্যয় হলো: অন্ন, বস্ত্র (চীবর), বাসস্থান ও চিকিৎসা। গৃহীরা নিজ নিজ গ্রামের বিহারে বর্ষাবাস উদ্যাপনের জন্য ভিক্ষুদের আমন্ত্রণ জানান। ভিক্ষু সম্মতি জ্ঞাপন করলে নির্দিষ্ট তিথিতে বর্ষাবাসব্রত শুরু হয়।

বর্ষাবাসব্রতের সময় প্রতিটি পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও অষ্টমী তিথিতে গৃহী বৌদ্ধরা বিহারে গিয়ে উপোসথ গ্রহণ করেন। ভিক্ষুদের কাছ থেকে ধর্মকথা শ্রবণ করেন। এ সময় ধর্মসভারও আয়োজন করা হয়। পন্ডিত ভিক্ষু এবং পণ্ডিত ব্যক্তিরা ধর্মালোচনা করেন। গৃহীরা ধর্মসভায় যোগদান করে ধর্মালোচনা শ্রবণ করেন। ধ্যান-সমাধি চর্চা করেন। প্রাণী হত্যা হতে বিরত থাকার অভ্যাস গড়ে তোলেন। কুশলকর্ম সম্পাদন করেন। এভাবে গৃহীরা বর্ষাবাসব্রতের সময় ধর্মসম্মত জীবনযাপন করে পরিশুদ্ধি লাভ করেন।

অনুশীলনমূলক কাজ
বর্ষাবাসব্রত কালে ভিক্ষুগণ কী কী কারণে অন্যত্র রাত্রি যাপন করতে পারেন তার একটি তালিকা
প্রস্তুত কর (দলীয় কাজ)।
কী কী কারণে বর্ষাবাসব্রতের স্থান পরিবর্তন করা যায়?
বর্ষাবাসব্রতে গৃহীদের করণীয় বর্ণনা কর।

Content added By

উপোসথ ভিক্ষু এবং গৃহী উভয়ের পালনীয় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উপোসথের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে উপোসথ পালন করেন। ধর্মময় উৎকৃষ্ট জীবন গঠনের জন্য বুদ্ধ উপোসথের প্রবর্তন করেছিলেন। উপোসথ পালনে ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়। কায়-মন-বাক্য এবং পঞ্চ ইন্দ্রিয় সংযত হয়। তাই সকলের উপোসথ পালন করা উচিত।

উপোসথের পটভূমি

একসময় বুদ্ধ রাজগৃহের গৃধ্রকূট পর্বতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় অন্যান্য তীর্থিক সম্প্রদায়ের পরিব্রাজকগণ চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে ধর্মালোচনা করতেন। জনসাধারণ তাঁদের কাছে ধর্ম শ্রবণের জন্য উপস্থিত হতেন। তাঁদের শ্রদ্ধা ও সৎকার করতেন। ফলে তীর্থিক পরিব্রাজকগণ জনগণকে তাঁদের পক্ষভুক্ত করে নিতেন। একদিন মগধরাজ বিম্বিসার নির্জনে ধ্যানাবিষ্ট থাকার সময় তাঁর মনে এরূপ চিন্তা উদিত হয়: 'এখন অন্যান্য তীর্থিক পরিব্রাজকগণ চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে ধর্মালোচনা করছেন। জনসাধারণ ধর্ম শ্রবণের নিমিত্ত তাঁদের নিকট উপস্থিত হচ্ছেন। তাঁদের শ্রদ্ধা ও সৎকার করছেন। ভিক্ষুগণও চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হলে ভালো হয়।' এভাবে তিনি ভিক্ষুদের ধর্ম-বিনয় পালনের সময় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার কথা ভাবলেন। অতঃপর তিনি বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হয়ে অভিবাদনপূর্বক বুদ্ধকে বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

বুদ্ধ মগধরাজ বিম্বিসারের আবেদন গভীরভাবে উপলব্ধি করেন এবং তাঁকে ধর্মদেশনা করেন। ধর্মবাণী শ্রবণ করে রাজা বিম্বিসার মৈত্রীচিত্তে প্রাসাদে গমন করেন। তারপর ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে আহ্বান করে চতুর্দশী, পঞ্চদশী এবং অষ্টমী তিথিতে সমবেত হয়ে উপোসথ পালন, উপোসথে ধর্মালোচনা ও পাতিমো আবৃত্তির নির্দেশ দেন। তখন থেকে উপোসথের প্রচলন শুরু হয়। বুদ্ধ অত্যন্ত পরিমিত আহার করতেন। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে তাঁর কখনো আতিশয্য ছিল না। তিনি ভিক্ষুসংঘকেও পরিমিত আহারের উপদেশ দিতেন। সূত্রপিটকের মঝিম নিকায়ের 'কীটাগিরি' সূত্রে দেখা যায় বুদ্ধ তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'হে ভিক্ষুগণ! আমি রাতের আহার ছেড়ে দিয়েছি। তাতে আমার শরীরের অসুখ ও জড়তা কমে গেছে। শরীরের কর্ম শক্তি বেড়েছে। চিত্তে প্রশান্তভাব এসেছে। হে ভিক্ষুগণ! তোমরাও এভাবে চলবে। তোমরা যদি রাতের আহার ছেড়ে দাও তাহলে তোমাদের শরীরে রোগ সমস্যা কম হবে। শরীরের জড়তা কমে যাবে। সুস্থ থাকবে এবং তোমাদের চিত্তে স্থিরতা আসবে।'
সেই সময় থেকে ভিক্ষুদের মধ্যে এক বেলা আহার করার নিয়ম প্রবর্তন হয়। তা গ্রহণ করতে হয় মধ্যাহ্নের মধ্যে। দুপুর বারোটার আগে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এ নিয়ম নিয়ত পালন করেন। ভিক্ষুদের অনুসরণ করে গৃহীরাও উপোসথ তিথিতে এ নিয়ম অনুশীলন করেন। উপোসথ দিনে গৃহীরা দুপুর বারোটার মধ্যে আহার শেষ করেন এবং পরদিন সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন না।

উপোসথ ও উপবাসের মধ্যে পার্থক্য

উপোসথ' শব্দটি 'উপবাস' শব্দ থেকে উদ্ভূত। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথির উপোসথে উপবাসব্রত পালন করেন। প্রতিদিন তিনবেলা আহার মানুষের নিত্য নৈমিত্তিক অভ্যাস। মাঝে মাঝে উপবাস করে শরীরে খাদ্যদ্রব্যের উপযোগিতা অনুভব করা যায়। এ ছাড়া এর মাধ্যমে দরিদ্র অভুক্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা যায়। তাই অনেকের কাছে উপবাস উপোসথের প্রধান অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়।
উপোসথব্রতে বৌদ্ধরা উপবাস পালন করলেও বৌদ্ধধর্মে উপোসথ অর্থ কেবল উপবাস বা খাদ্য-দ্রব্য গ্রহণ হতে বিরত থাকা বোঝায় না। উপোসথের সাথে ধর্মানুশীলন, শীল পালন, ধ্যান-সমাধি চর্চা ও সংযত জীবনযাপনের বিষয়টিও ঘনিষ্টভাবে জড়িত। উপোসথ পালনকারীদের বিনয় বিধান অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট কর্ম সম্পাদনে ব্রতী হতে হয়। কিন্তু কেবল উপবাসের ক্ষেত্রে এ বিধি পালনীয় নয়। যেমন, উপোসথ দিবসে বিহারে ভিক্ষুগণ পাতিমোক্স আবৃত্তি, ধর্ম-দেশনা, ধর্মালোচনা এবং ধ্যান-সমাধি চর্চা করে দিন অতিবাহিত করেন। গৃহী বৌদ্ধরা উপোসথ দিবসে বিহারে গিয়ে নানারকম ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। সাধারণত গৃহী বৌদ্ধরা পঞ্চশীল পালন করেন। কিন্তু উপোসথ দিবসে তাঁরা অষ্টশীল গ্রহণ করে উপবাস পালন করেন। যাঁরা উপোসথ পালন করেন তাঁদের উপোসথিক বলা হয়। উপোসথিকরা ধর্ম শ্রবণ ও ধ্যান-সমাধি চর্চা করেন। সংযত জীবনযাপন করেন। অকুশল কর্ম হতে বিরত থাকেন। শ্রদ্ধাচিত্তে দান প্রদান করেন। অতএব বৌদ্ধদের কাছে উপোসথ শুধু উপবাস থাকা নয়। শীল পালনের ব্রত গ্রহণ করে চিত্ত শুদ্ধ করাই আসল লক্ষ্য। চিত্তকে শুদ্ধ করতে পারলে তৃষ্ণাকে ক্ষয় করা সম্ভব। তৃষ্ণা ক্ষয় হলে লোভ-দ্বেষ-মোহের উচ্ছেদ হয়। এতে দুঃখমুক্তি সম্ভব হয়। দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করাই মূলত বৌদ্ধদের জীবনের পরম লক্ষ্য। তাই উপোসথ এবং সাধারণ উপবাসের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষু গৃহীদের ধর্মোপদেশ দান করছেন

উপোসথ পালনের নিয়মাবলি

উপোসথ পালনকারী গৃহীদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। উপোসথ গ্রহণেচ্ছুক উপাসক-উপাসিকাগণ উপোসথ দিবসে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। প্রাতঃকৃত্যসহ স্নানাদি শেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধানপূর্বক পূজা ও দানের উপকরণ নিয়ে পবিত্র মনে বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের গুণরাশি স্মরণ করতে করতে সংযতভাবে বিহারে যাওয়া সমীচীন। বিহারে পৌঁছে পূজা ও বন্দনার কাজ সম্পাদনের পর ভিক্ষুর কাছ থেকে উপোসথ শীল গ্রহণ করবেন। কোনো কারণে বিহারে উপস্থিত হতে না পারলে গৃহে উপোসথ শীল গ্রহণ করা যায়। উপোসথ শীল গ্রহণের পর সুসংযতভাবে জপমালায়, ধর্মগ্রন্থে, ধর্মালোচনায় বা ধ্যানে চিত্তকে নিবিষ্ট রাখা কর্তব্য। লোভ, দ্বেষ, মোহ, বিলাসিতা প্রভৃতি ত্যাগ করে প্রতিটি মুহূর্ত ধর্ম ও কুশল চিন্তা করে অতিবাহিত করা উচিত। চলাফেরায়, অবলোকনে এবং ভাষণে সংযতভাব বজায় রাখতে হবে। প্রাণিহত্যা, চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ, অব্রহ্মচর্য আচরণ, মিথ্যা ভাষণ, নেশাদ্রব্য গ্রহণ, বিকাল ভোজন, নৃত্য-গীত-বাদ্যে প্রমত্ততা দর্শন এবং অলঙ্কার ও সুগন্ধ দ্রব্য ব্যবহার, উচ্চশয্যা ও মহাশয্যায় শয়ন প্রভৃতি হতে বিরত থাকতে হবে। সকল প্রাণীর প্রতি দয়াশীল আচরণ করতে হবে। অতঃপর উপোসথিকের এরূপ অধিষ্ঠান করা উচিত।

'আমি কারও অনিষ্ট কামনা করব না। কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেব না। কষ্ট প্রদানের কারণও হব না। নিজেও অনাচার, অত্যাচার করব না, এর কারণও হব না। পরের ধনে লোভ করব না। কারও লাভ-সৎকারের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হব না, বরং সাধুবাদের সাথে তা অনুমোদন করব। কোনো প্রকার মিথ্যা বিষয়ের পরিকল্পনা করব না। গৃহকর্ম বিষয়ে আলোচনায় রত হব না। গৃহীজনোচিত আচার-আচরণ থেকে মুক্ত থাকব। শুধু ধর্মশ্রবণ, ধর্মালোচনা ও ধর্মচিন্তা করে দিন অতিবাহিত করব।'

উপোসথের প্রকারভেদ

অনুসরণ রীতি ও সময় অনুসারে উপোসথ পাঁচ প্রকার। যথা: ১. প্রতিজাগর উপোসথ, ২. গোপালক উপোসথ, ৩. নিগ্রন্থ উপোসথ, ৪. আর্য উপোসথ এবং ৫. প্রতিহার্য উপোসথ।

১. প্রতিজাগর উপোসথ সার্বক্ষণিক সজাগ থেকে অত্যন্ত, সচেতন ও যত্নের সঙ্গে অষ্টশীল পালন করার নাম প্রতিজাগর উপোসথ। উপোসথে উপোসথিককে রাতে ঘুমের সময় ছাড়া অন্য সময় প্রতিটি নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে হয়। এরূপ শীল গ্রহণকারীগণ উপোসথের দিন ছাড়া অন্যান্য দিনেও উপোসথ পালন করেন।

২. গোপালক উপোসথ যে উপোসথ গ্রহণকারী ধর্মচিন্তা বাদ দিয়ে খাদ্য, ভোজ্য, অভাব অনটন বিষয়ে চিন্তা করে তাকে গোপালক উপোসথ গ্রহণকারী বলে। গরু পরিচর্যাকারী রাখাল যেমন পরের গরু নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকে, তেমনি এরূপ উপোসথ গ্রহণকারীগণও করণীয় কর্ম না করে অসার ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলাপ করে সময় নষ্ট করে। এটি অত্যন্ত নিম্নস্তরের উপোসথ।

৩. নিগ্রন্থ উপোসথ: নিগ্রন্থ অর্থ গ্রন্থহীন অর্থ্যাৎ নগ্ন। গৌতম বুদ্ধের সময় একরকম নগ্ন সন্ন্যাসী ছিলেন। তাঁরা যে উপোসথ গ্রহণ করতেন তাঁর নাম নিগ্রন্থ উপোসথ। তাঁরা স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতেন। প্রাণিহত্যা থেকে বিরত থাকলেও নিজেদের প্রয়োজনে তাঁরা প্রাণিহত্যা করতেন। এতে কোনো পাপ হয় না বলে তাঁরা অভিমত পোষণ করতেন। এরূপ আসক্তচিত্তে উপোসথ পালনকে নিগ্রন্থ উপোসথ বলা হয়।

৪. আর্য উপোসথ: আর্য শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠ। এই উপোসথই শ্রেষ্ঠ উপোসথ। বুদ্ধ এই মহান উপোসথ ব্রতই প্রবর্তন করেছিলেন। বুদ্ধের শ্রাবকগণ এই উপোসথ পালন করতেন। আর্য উপোসথ গ্রহণকারীগণ উপোসথ গ্রহণ করে জাগতিক সুখ ভোগের চিন্তা ত্যাগ করেন। তাঁরা বুদ্ধানুস্মৃতি, ধর্মানুস্মৃতি, শীলানুস্মৃতি ও মৈত্রী ভাবনায় রত থেকে উপোসথব্রত পালন করেন। সকলের আর্য উপোসথ গ্রহণ ও পালন করা উচিত। অর্থাৎ অকৃত্রিমভাবে সশ্রদ্ধচিত্তে সকল নিয়ম অনুসরণ করে উপোসথ পালনই আর্য উপোসথ।

৫. প্রতিহার্য উপোসথ বছরের কিছু সময় নির্দিষ্ট করে নিয়মিত উপোসথ পালনকে প্রতিহার্য উপোসথ বলে। এরূপ উপোসথ বিভিন্ন রকম হয়। ১. আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস প্রতিদিন উপোসথ পালন করাকে বলে উৎকৃষ্ট প্রতিহার্য উপোসথ। ২. আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত কিংবা ৩. আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে পরবর্তী পনের দিনব্যাপী প্রতিদিন উপোসথ পালন করাকে হীন প্রতিহার্য উপোসথ বলে। এই তিন উপোসথের যেকোনো এক রকম উপোসথ পালন করা খুব পুণ্যের। এগুলোকে প্রতিহার্য উপোসথ বলে।

গৃহীরা উপোসথ গ্রহণ করে বিহারে বসে ধ্যান-সমাধি চর্চা করছেন।

উপোসথ পালনের সুফল

ত্রিপিটকের বহু স্থানে উপোসথব্রত পালনের সুফল বর্ণিত আছে। তাতে বলা হয়েছে, চন্দ্র-সূর্যের কিরণ পৃথিবীর অন্ধকার দূরীভূত করে। এজন্য চন্দ্র-সূর্যকে প্রাণী জগতের জীবন বলা হয়। কিন্তু উপোসথ শীলের গুণের সঙ্গে তুলনা করলে চন্দ্র-সূর্যের গুণ অতি সামান্য। পৃথিবী ও সাগরের সমস্ত সম্পদ, হীরা ও মণিরত্ন অষ্টাঙ্গ উপোসথ শীলের তুলনায় তুচ্ছ। এমনকি দেবতাদের ঐশ্বর্যও এর কাছে নগণ্য। স্বর্গীয় আনন্দ উৎকৃষ্টতর হলেও ক্ষণস্থায়ী কিন্তু উপোসথ শীলের দ্বারা অর্জিত আনন্দ অবিনশ্বর ও চির শান্তিদায়ক। উপোসথ শীলের অনাবিল শান্তিময়ী দীপ্তি চন্দ্র, সূর্য, হীরা-মণি-মুক্তার উজ্জ্বল প্রভা, দেবতার দিব্যজ্যোতি সবকিছুকেই পরাভূত করে। ফুলের সুগন্ধ বাতাসের অনুকূলে প্রবাহিত হলেও উপোসথ শীলের গুণ সৌরভ বাতাসের অনুকূল-প্রতিকূল এবং চতুর্দিকে প্রবাহিত হয়।

একসময় তাবতিংস স্বর্গের রাজা দেবরাজ ইন্দ্র অন্যান্য দেবতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'হে দেবতাগণ! তোমরা যদি আমার মতো ইন্দ্র হতে ইচ্ছা কর তাহলে পূর্ণিমা, অষ্টমী ও অমাবস্যায় আট অঙ্গের উপোসথ শীল পালন কর।

আর এর চেয়েও যারা পুণ্যকামী তারা প্রতিজাগর, প্রতিহার্য উপোসথ পালন কর। এভাবে তোমরা নিজেকে সম্যক পথে পরিচালিত কর।'

দেবরাজ ইন্দ্র আরও বলেছেন; 'যে গৃহী নিজের স্ত্রী-পুত্রের ভরণপোষণ করেন, যিনি পুণ্যবান ও শীলবান এবং ত্রিরত্নের উপাসক, তাঁকে আমি নমস্কার করি, আমরা জানি দেবতারা উচ্চ মার্গের সত্ত্বা হলেও সম্পূর্ণ মুক্ত নন। তাঁদের মধ্যে রাগ, দ্বেষ ও মোহ আছে। তবে তাঁরা দিব্য চোখে মানুষের পুণ্য ও অপুণ্য দেখতে পান। মানুষের মধ্যে যারা সৎভাবে জীবনযাপন করেন, বড়দের ভক্তি ও শ্রদ্ধা করেন, মাতাপিতার উপযুক্ত ভরণপোষণ করেন, উপযুক্ত সময়ে উপোসথ পালন করেন তাঁদের উন্নতিতে দেবতারা প্রশংসা করেন। স্বয়ং ইন্দ্র তাঁদের শ্রদ্ধা করেন।'
মহাকারুণিক বুদ্ধ প্রবর্তিত মহামূল্যবান আট অঙ্গের উপোসথ শীল মহাফলদায়ী। তাই উপোসথ শীল আমাদের সঠিকভাবে পালন করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
গৃহী উপোসথিকের করণীয়সমূহ চিহ্নিত কর। উপোসথের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

Content added By

দান অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে কঠিন চীবর দান অন্যতম। প্রতিটি বৌদ্ধ দেশে এ দান কার্য যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে সম্পাদিত হয়। বিধিবদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও আয়োজনের ব্যাপকতায় এটি উৎসবের আকার ধারণ করে। তাই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানকে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব বলা হয়। বাংলাদেশের বৌদ্ধরা প্রতিবছর ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নির্মল আনন্দে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান উদ্যাপন করে।

কঠিন চীবর দানের পটভূমি

একসময় ভগবান বুদ্ধ শ্রাবস্তীর জেতবনে শ্রেষ্ঠী অনাথপিন্ডিক নির্মিত বিহারে বাস করছিলেন। সে সময় পাঠেয়বাসী ত্রিশজন ভিক্ষু বুদ্ধের সাথে সাক্ষাৎ করার মনস্থ করেন। তাঁরা সবাই ছিলেন ধুতাঙ্গধারী। ধুতাঙ্গ হলো কঠিন কৃচ্ছ সাধন। বর্ষাবাসব্রত গ্রহণের আগে বুদ্ধকে দর্শন করার জন্য তাঁদের মনে বাসনা জাগ্রত হয়। মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য তাঁরা পাঠেয় থেকে শ্রাবস্তী অভিমুখে যাত্রা করেন। অনেক দূর গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারলেন, বর্ষাবাসের আগে শ্রাবস্তী পৌঁছার সম্ভাবনা নেই। তাই মাঝপথে সাকেত নামক স্থানে তাঁরা বর্ষাবাসব্রত আরম্ভ করেন। সেখানে তাঁরা যথারীতি তিন মাস বর্ষাবাসব্রত সম্পন্ন করেন। তথাগতের সাক্ষাৎ লাভের জন্য তাঁরা খুব উদগ্রীব ছিলেন। তাই প্রবারণার পরদিনই তাঁরা শ্রাবস্তীতে পৌঁছালেন। বর্ষা ঋতুর বৃষ্টির ধারা তখনও শেষ হয়নি। ভেজা চীবর গায়ে ভিক্ষুরা বুদ্ধের কাছে পৌঁছলেন। বন্দনা জ্ঞাপন করে বুদ্ধের পাশে সকলেই আসন গ্রহণ করেন। বুদ্ধ তাঁদের কুশল জিজ্ঞাসা করেন। তাঁরা উত্তরে বলেন, 'আমরা বর্ষাবাস আসন্ন দেখে সাকেত নগরে অবস্থান করেছিলাম। অথচ সাকেত থেকে শ্রাবস্তীর দূরত্ব মাত্র ছয় যোজন। তবুও আপনার দর্শনলাভে বঞ্চিত হয়েছি। খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে বর্ষাবাসব্রত আরম্ভ করেছিলাম। বর্ষাবাসব্রতের তিন মাস শেষ হলো। প্রবারণা সম্পন্ন করে ভেজা কাপড়ে কর্দমাক্ত পথ অতিক্রম করে এখানে এসেছি। খুব ক্লান্তবোধ করছি কিন্তু আপনার সান্নিধ্য পেয়ে এখন আনন্দবোধ করছি। তখন বুদ্ধ এ প্রসঙ্গে ভিক্ষুদের আহ্বান করে ধর্ম-দেশনা করেন। অতঃপর তিনি ভিক্ষুদের নির্দেশ দিলেন, 'ভিক্ষুগণ! এখন থেকে তোমরা কঠিন চীবরে আবৃত হবে। বর্ষাবাসব্রত সমাপ্তকারী ভিক্ষুদের জন্য এটা পরম পুণ্যের কাজ।' তখন থেকে ভিক্ষুদের মধ্যে কঠিন চীবর পরিধান প্রথার সূচনা হয়।

কঠিন চীবর দানের নিয়মাবলি
এখন আমরা কঠিন চীবর দানের নিয়মাবলি জানব। অন্যান্য দান বছরের যেকোনো সময় করা যায়। কিন্তু কঠিন চীবর দান বছরে একবার মাত্র করা হয়। তাও আবার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। আশ্বিনী পূর্ণিমার পরদিন থেকে কার্তিকী পূর্ণিমার পূর্বদিন পর্যন্ত এই দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়। একটি বিহারে একবার মাত্র কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান করা যায়। যে বিহারে ভিক্ষু বর্ষাবাসব্রত পালন করেন না সে বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপিত হয় না।

'কঠিন' ও 'চীবর' এই দুটি শব্দের পৃথক গুরুত্ব রয়েছে। এখানে চীবর হলো ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়। ভিক্ষুসংঘ 'কম্মবাচা' পাঠের মাধ্যমে ধর্মীয় রীতিতে চীবরকে কঠিন চীবরে পরিণত করেন। নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে চীবরকে পরিশুদ্ধ করতে হয় বলে একে কঠিন চীবর বলা হয়। সেজন্য উপাসক-উপাসিকারা চীবর দান করলেও তা কঠিনে পরিণত হয় না। কম্মবাচা পাঠ শেষে কঠিন চীবর বিহারাধ্যক্ষ ভিক্ষুকে প্রদান করা হয়। কঠিন চীবর লাভকারী ভিক্ষুকে কমপক্ষে ফাল্গুনী পূর্ণিমা পর্যন্ত কঠিন চীবর নিজের পাশে রাখতে হয়। কোথাও গেলে কঠিন চীবর সঙ্গে নিতে হয়। কঠিন চীবর লাভকারী ভিক্ষু পাঁচটি পাপ থেকে রক্ষা পায় এবং পাঁচটি পুণ্যফল লাভ করেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। অন্যান্য দানে এরূপ দেখা যায় না। অন্যান্য দান হতে কঠিন চীবর দানের পদ্ধতিও ভিন্ন।

কঠিন চীবর দানের পদ্ধতি

যে দিন কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেদিনের সূর্য উদয় থেকে পরদিন সূর্যোদয়ের পূর্ব সময় পর্যন্ত কঠিন চীবরদান দেওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে কাপড় বোনা, সেলাই, রং প্রভৃতি কাজ একই দিনে করতে পারলে ভালো। এ নিয়মে তৈরিকৃত চীবর দান করলে অধিকতর কায়িক, বাচনিক এবং মানসিক পুণ্য লাভ হয়। বাজার থেকে ক্রয় করা কাপড় সেলাই করেও দান দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এরূপ দানের পূর্বে শীলানুস্মৃতি ও মৈত্রী ভাবনায় রত থাকা ভালো। কমপক্ষে পাঁচজন ভিক্ষুর উপস্থিতিতে এ দানকার্য সম্পন্ন করতে হয়।

কঠিন চীবরদান উপলক্ষে সর্বত্র বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নানা উৎসবে রূপ নেয়। তবে এ অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সংযম চর্চা অপরিহার্য। কর্মসূচিতে এ দানানুষ্ঠান প্রথমে ত্রিশরণ গ্রহণ করে পঞ্চশীল নিতে হয়। তারপর ধর্ম দেশনা হয়। পরে নিচের পালি উৎসর্গ গাথাটি উচ্চারণ করে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘকে চীবর দান করতে হয়।

ইমং কঠিন চীবরং ভিষ্ণুসঙ্ঘস্স দেম, কঠিন অথরিতুং।
দুতিযম্পি ইমং কঠিন চীবরং ভিক্ষুসঙ্ঘস্স দেম, কঠিনং অথরিতুং।
ততিযম্পি ইমং কঠিন চীবরং ভিক্ষুসঙ্ঘস্স দেম, কঠিন অথরিতুং।

বাংলা অনুবাদ

কঠিনরূপে (নিয়ম-নীতির ধারায়) অর্থপূর্ণ পরিধেয় করার জন্য এ কঠিন চীবরখানি ভিক্ষুসংঘকে দান করছি।
দ্বিতীয়বারও কঠিনরূপে অর্থপূর্ণ পরিধেয় করার জন্য এ কঠিন চীবরখানি ভিক্ষুসংঘকে দান করছি।
তৃতীয়বারও কঠিনরূপে অর্থপূর্ণ পরিধেয় করার জন্য এ কঠিন চীবরখানি ভিক্ষুসংঘকে দান করছি।
বৌদ্ধধর্মীয় সকল বিষয়ে এভাবে একই কথা তিনবার উচ্চারণের বিধান রয়েছে। এতে মনের সংশয় দূর হয়। করণীয় বিষয়ে একাগ্রতা বাড়ে। অর্থাৎ দান কাজে শ্রদ্ধা ভক্তি ও মনঃসংযোগ সুদৃঢ় করার জন্য এক কথাকে তিনবার উচ্চারণ করতে হয়। উৎসর্গ গাথা পাঠ করার পর ভিক্ষুসংঘের হাতে কঠিন চীবরখানি তুলে দিতে হয়।
ভিক্ষুসংঘ আবার সে চীবর বিনয়সম্মত ও অর্থপূর্ণ করার জন্য সীমাঘরে নিয়ে যান। সেখানে ত্রিপিটক থেকে 'কম্মবাচা' পাঠ করে সংঘের অনুমোদনক্রমে বিহারস্থ উপযুক্ত ভিক্ষুকে দেওয়া হয়। তিনি কঠিন চীবরের পঞ্চফল লাভ করেন। তবে বিনয়ের নিয়ম অনুসারে বিহারের অন্যান্য ভিক্ষুকেও কঠিন চীবর অনুমোদন করতে হয়।

উপাসক-উপাসিকাগণ কঠিন চীবর দান করছেন

আনুষ্ঠানিকতা

শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের দেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে কঠিন চীবর দান উদ্যাপন করা হয়। উৎসবের পূর্বদিন বিহারকে অপূর্বরূপে সাজানো হয়। তোরণসজ্জিত করা হয়। প্রত্যেক গৃহে অতিথি আত্মীয়-স্বজনের সমাগম হয়। বিভিন্ন বিহার হতে ভিক্ষুসংঘের আগমন হয়। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। এসময় বিহারের বাইরে নানা দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে মেলা বসে। এ মেলাতে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলেই যোগদান করে।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মর্যাদার সাথে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বৌদ্ধ নরনারী ও শিশু-কিশোর যুবক সকলে নানারঙের পোশাক পরিধান করে নানারকম দানীয় দ্রব্য নিয়ে বিহারে আসে। এতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকা যোগদান করেন। এ উপলক্ষে ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘক্ষণ ধর্মালোচনা চলে। শেষে ধর্মীয় কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে বিহার প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।

কঠিন চীবর দানের সুফল

ভগবান বুদ্ধ পাঁচশ অর্হৎ শিষ্যের উদ্দেশে কঠিন চীবর দানের সুফল বর্ণনা করেছিলেন। স্থান ছিল হিমালয়ের অনবতপ্ত হ্রদ। সেখানে তিনি শিষ্যগণ পরিবৃত হয়ে উপবেশন করেন। মনে হয়েছিল যেন দেবসভা। প্রস্ফুটিত পদ্মের উপর তাঁর আসন দেবলোকের সৌন্দর্যকে হার মানায়। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে নাগিত স্থবির কঠিন চীবর দান করে জন্মজন্মান্তরে যে দানফল ভোগ করেছিলেন তা বর্ণনা করেন। নাগিত স্থবির কঠিন চীবর দানের সুফল সম্পর্কে বলেন-

১. ত্রিশ কল্প পূর্বে শিখী বুদ্ধের সময় আমি মনুষ্যলোকে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। তখন আমি ভিক্ষুসংঘকে কঠিন চীবর দান করি। সেই দানের ফলে এযাবৎ আমি কোনো দুর্গতি ভোগ করিনি।
২. আমি আঠার কল্পকাল দেবলোকে দিব্যসুখ ভোগ করেছি। চৌত্রিশবার দেবরাজ ইন্দ্র হয়েছি।
৩. সহস্রবার দেবরাজ্যে ব্রহ্ম হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। ব্রহ্মলোক হতে চ্যুত হলে মনুষ্যলোকে উচ্চবংশে মহা-ধনীর গৃহে জন্মগ্রহণ করেছি।
৪. রাজচক্রবর্তী-সুখ ভোগ করেছি। যেখানে জন্মেছি সেখানেই সম্পদ লাভ করেছি। কোনোদিন অভাব-অনটন ভোগ করিনি।

নাগিত স্থবিরের পর বুদ্ধ কঠিন চীবর দানের সুফল বর্ণনা করেন, যা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১. কোনো দাতা অন্যান্য দানীয় বস্তু একশত বছর দান করলেও তার ফল একখানি কঠিন চীবর দানের ষোল ভাগের একভাগও হয় না।

২. কোনো দাতা শতবর্ষ পর্যন্ত পাত্র-চীবরাদি ভিক্ষুদের ব্যবহার্য অষ্টপরিষ্কার দান করে, তার ফলও কঠিন চীবর দানের দ্বারা অর্জিত পুণ্যের ষোল ভাগের একভাগ হয় না।

৩. কোনো দায়ক সুমেরু পর্বততুল্য স্তূপ করে ভিক্ষুসংঘকে ত্রিচীবর দান করলেও তার ফল কঠিন চীবর দানের দ্বারা অর্জিত পুণ্যের ষোল ভাগের একভাগ হয় না।

৪. কোনো দাতা স্বর্ণ-রৌপ্য খচিত চুরাশি হাজার বিহার ভিক্ষুসংঘকে দান করলেও তার ফল কঠিন চীবর দানের দ্বারা অর্জিত পুণ্যের ষোল ভাগের একভাগ হয় না।

৫. সর্বজ্ঞবুদ্ধ, প্রত্যেকবুদ্ধ এবং বুদ্ধশিষ্যগণ সকলেই কঠিন চীবর দানের ফলেই অমৃতপদ লাভ করেছেন।

৬. কঠিন চীবর দানের ফলে সকল প্রকার ধনসম্পদ, সুকৃতি এবং স্বর্গ লাভ হয়।
কঠিন চীবর দানের ফল জন্ম-জন্মান্তরে প্রবাহিত হয়। তাই শ্রদ্ধাচিত্তে জীবনে একবার হলেও কঠিন চীবর দান করা সকলের উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
কঠিন চীবর দানের পটভূমি বর্ণনা কর।
কঠিন চীবর দানের বুদ্ধ বর্ণিত পাঁচটি সুফল লেখ।

Content added By

শূন্যস্থান পূরণ কর

১. বর্ষাবাস বুদ্ধ প্রবর্তিত ____ অংশ।

২. অনুসরণ রীতি ও সময় অনুসারে _____ পাঁচ প্রকার।

৩. ভিক্ষুদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে একত্রে _____ বলা হয়।

৪. কঠিন চীবর লাভকারী ভিক্ষু _____ পাপ থেকে রক্ষা পায়।

৫. কঠিন চীবর দানের ফলে সকল প্রকার _____ সুকৃতি এবং _____ লাভ হয়।

মিলকরণ

বামডান
১. বর্ষাবাস বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণপঞ্চশীল পালন করেন
২. বর্ষাবাসব্রতকে ভিক্ষুদের আত্মশুদ্ধিরতৃষ্ণার ক্ষয় হয়
৩. গৃহী বৌদ্ধরাশ্রেষ্ঠ
৪. চিত্তকে শুদ্ধ করতে পারলেধর্মীয় অনুষ্ঠান
৫. আর্য শব্দের অর্থঅধিষ্ঠান বলে

সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন

১. বর্ষাবাসব্রত কোথায়, কত মাস পালন করতে হয়?
২. কোন কোন তিথিতে ভিক্ষুসংঘ পাতিমো আবৃত্তি করেন?
৩. 'উপোসথ' বলতে কী বোঝায়?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. বর্ষাবাসব্রত কখন, কেন পালন করা হয় লেখ।
২. কী উদ্দেশ্যে বুদ্ধ বর্ষাবাসব্রত পালনের বিধান দিয়েছিলেন বর্ণনা কর।
৩. বর্ষাবাসব্রতে ভিক্ষু ও গৃহীদের করণীয় ব্যাখ্যা কর।
৪. উপবাস ও উপোসথের পার্থক্যসমূহ চিহ্নিত কর।
৫. কঠিন চীবর দান কখন, কোথায় ও কীভাবে করা হয় তা বর্ণনা কর।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. উপোসথ কারা পালন করতে পারেন?

ক. ভিক্ষু
খ. গৃহী
গ. সন্ন্যাসী
ঘ. ভিক্ষু ও গৃহী

২. ভগবান বুদ্ধ কতজন ভিক্ষুকে কঠিন চীবর দানের ফল বর্ণনা করেন?

ক. ৩০০
খ. ৪০০
গ. ৫০০
ঘ. ৬০০

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও
সমীর বড়ুয়া আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত শীল পালন করেন। বিহারে অনুষ্ঠিতব্য দানোৎসবে তিনি চীবর দান করার সুযোগ পান।

৩. সমীর বড়ুয়া কোন অনুষ্ঠানে চীবর দান করলেন?

ক. সংঘদান
খ. অষ্টপরিস্কার দান
গ. কঠিন চীবর দান
ঘ. পুগলিক দান।

৪. উক্ত দানের ফলে সমীর বড়ুয়া লাভ করতে পারে-

ক. স্বর্গসুখ
খ. ধনী পরিবারে জন্ম
গ. রাজচক্রবর্তী সুখ
ঘ. দিব্যসুখ।

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. বোধিমিত্র ভিক্ষু বুদ্ধের বাণী প্রচারের জন্য গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন এলাকায় সফর শুরু করেন। একপর্যায়ে বর্ষাবাদল শুরু হলে, তিনি ধর্মপাল বিহারে গিয়ে পৌঁছালেন। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থান করে ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান-সাধনা ও বিদ্যাচর্চা করে সময় অতিবাহিত করতে থাকেন। কয়েকদিন যাওয়ার পর পাশের গ্রামের একটি বিহারের তাঁর গুরু ভন্তে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সেবাযত্ন করার জন্য বোধিমিত্র ভিক্ষু ধর্মপাল বিহার ত্যাগ করলেন এবং ভন্তেকে নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। চার দিন পর গুরু ভন্তে সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি আবার ধর্মপাল বিহারে ফিরে এসে ধ্যান-সাধনায় নিয়োজিত হলেন। কিন্তু এভাবে বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহার ত্যাগ করাকে অনেকে পছন্দ করলেন না।

ক. কয় মাস ধরে বর্ষাবাস পালন করা হয়?
খ. ভিক্ষুরা বর্ষাবাস পালন করেন কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি বৌদ্ধধর্মের কোন আচার অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহার ত্যাগ করে হাসপাতালে রাতযাপন ঘটনাটি বর্ষাবাস ব্রত বিধানের লঙ্গন'-বক্তব্যটির যথাযর্থতা বিশ্লেষণ কর।

২. সুমনা ও প্রীতি চাকমা দুই বোন। বর্ষাবাসব্রতকালীন সময়ে তারা বিহারে গিয়ে উপোসথ গ্রহণ করে। সুমনা চাকমা ঐ সময়ে ভিক্ষুকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করে এবং সারাদিন বুদ্ধ, ধর্ম, শীলানুস্মৃতি ও মৈত্রী ভাবনায় রত থাকে। অপরদিকে প্রীতি চাকমা উপোসথ গ্রহণ করলেও সুমনা চাকমার মতো ধ্যানচর্চা করে না। সে ধর্ম চিন্তা বাদ দিয়ে ভোগবিলাস ও পরিবারের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে।

ক. ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
খ. বৌদ্ধধর্মে উপোসথের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
গ. সুমনা চাকমার আচরণটি উপোসথের সাথে সংগতিপূর্ণ-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
ঘ. প্রীতি চাকমার আচরণটি গোপালক উপোসথের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ-তুমি কি তার সঙ্গে একমত? মতামত দাও।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...