উদ্দীপকে অশেষ বড়ুয়া যে বিষয়ে জেনেছে তার পটভূমি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ভিক্ষুসংঘ গঠন করার পর বুদ্ধ সর্বপ্রাণীর কল্যাণের জন্য তাঁর ধর্মবাণী চারদিকে ছড়িয়ে দিতে ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন। বুদ্ধের নির্দেশে ভিক্ষুগণ পায়ে হেঁটে পাহাড়-পর্বত ডিঙিয়ে বিভিন্ন লোকালয়ে গিয়ে ধর্মপ্রচার ও দেশনা করতেন। কিন্তু বর্ষাকালে ভিক্ষুরা বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখিন হতেন। তারা কর্দমাক্ত পথে যাতায়াতের সময় প্রচুর কষ্ট ভোগ করতেন। পোকামাকড় এবং সাপের দংশনে অনেকের প্রাণ সংহার হতো। ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজার কারণে নানারকম রোগ হতো, ভেজা কাপড় পরে থাকতে হতো। তাছাড়া বর্ষাকালে সবুজ তৃণ এবং ক্ষুদ্র প্রাণী ভিক্ষুদের পদদলিত হতো। বুদ্ধ রাজগৃহের বেণুবন বিহারে অবস্থানকালে এসব বিষয় জ্ঞাত হন। তখন তিনি বর্ষা ঋতুর তিন মাস অর্থাৎ আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথি থেকে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত বিহারে বসবাস করে ধর্মালোচনা, ধর্ম শ্রবণ, ধ্যান-সমাধি এবং বিদ্যা চর্চা করে অতিবাহিত করার জন্য ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন।
Related Question
View Allতিন মাস ধরে বর্ষাবাস পালন করা হয়।
বর্ষাবাস বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার বা অনুষ্ঠান। বর্ষাবাস পালন বৃদ্ধ প্রবর্তিত বিধিবিধানেরই অংশ। তিন মাস যে কোনো একটি বিহারে অবস্থান করে ভিক্ষুদের এ বর্ষাবাসব্রত উদ্যাপন করতে হয়। বর্ষাবাসব্রত পালনের মাধ্যমে ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনাটি বৌদ্ধধর্মের বর্ষাবাসব্রত আচার-অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত। বোধিমিত্র ভিক্ষুর আচরণে বর্ষাবাসব্রত অনুষ্ঠানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ভিক্ষুসঙ্ঘ গঠন করার পর বুদ্ধ তাঁর বাণী চারদিকে ছড়িয়ে দিতে ভিক্ষুদের নির্দেশ দেন। ভিক্ষুরা লোকালয়ে গিয়ে ধর্ম প্রচার ও দেশনা করতেন। বর্ষাকালে ভিক্ষুরা বিভিন্ন ধরনের অসুবিধায় পড়তেন। এজন্য বুদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষার তিন মাস বিহারে অবস্থান করে ধর্মালোচনা, ধর্ম শ্রবণ, ধ্যান সমাধি করে সময় অতিবাহিত করার নির্দেশ দেন। তবে বর্ষাবাসব্রত পালনকালে অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ন দায়ক-দায়িকা দেখার জন্য বিহারের বাইরে যাওয়া যেতে পারে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, বোধিমিত্র ভিক্ষুর আচার-আচরণে বর্ষাবাসব্রত পালনের চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহার ত্যাগের ঘটনাটি বর্ষাবাসব্রত বিধানের লঙ্ঘন বলা যায় না। বর্ষাবাসব্রত বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি আছে।
তিন মাস যেকোনো একটি বিহারে অবস্থান করে ভিক্ষুদের বর্ষাবাসব্রত উদ্যাপন করতে হয়। বর্ষাবাসব্রত পালনকালে ভিক্ষুরা ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন, ধ্যান সাধনা, ধর্মচর্চা, ধর্মশ্রবণ ও বিদ্যাচর্চা করে সময় পার করে। কোনো জরুরি কাজে নিজ বিহার থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে সন্ধ্যার আগে বর্ষাবাস উদ্যাপনকারী ভিক্ষুকে নিজ বিহারে ফিরতে হয়। তবে 'কিছু কারণে বর্ষাবাসের সময় নিজ বিহার ছাড়াও অন্যত্র রাত্রিযাপন করা যায়। যেমন-অসুস্থ ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, শ্রমণ এবং রুগ্ন দায়-দায়িকা দেখার জন্য। উদ্দীপকে বোধিমিত্র ভিক্ষুর গুরু ভন্তে গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাকে সেবাযত্নের জন্য সে বিহারের বাইরে অবস্থান করে। তবে চারদিন পর আবার বিহারে ফিরে আসে।
সুতরাং বলা যায়, বোধিমিত্র ভিক্ষুর বিহারের বাইরে রাতযাপনের ঘটনাটি বর্ষাবাসব্রত বিধানের লঙ্ঘন নয়।
বর্ষাবাসব্রত পালনের ভিত্তিতে ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়।
উপোসথ ভিক্ষু এবং গৃহী উভয়ের পালনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বৌদ্ধরা পূর্ণিমা, অমাবস্যা এবং অষ্টমী তিথিতে উপোসথ পালন করেন। ধর্মময় উৎকৃষ্ট জীবন গঠনের জন্য বুদ্ধ উপোসথের প্রবর্তন করেছিলেন। উপোসথ পালনে ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!