উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থা অর্থাৎ ব্র্যাকের কাজ শুধু এর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করে-উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে সেগুলোর মধ্যে ব্র্যাক অন্যতম। ব্র্যাক-এর কাজের ক্ষেত্র ব্যাপক বিস্তৃত। এটি পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের ভূমিহীন মহিলা ও পুরুষদের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় এটি গ্রামের ভূমিহীনও দরিদ্র শ্রেণির ছেলে-মেয়ে ও বয়স্কদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওয়ায় এ সংস্থা খাবার স্যালাইন সম্প্রসারণ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, এইডস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণেও সংস্থাটি কাজ করছে। সংস্থাটি গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন পুরুষ-মহিলাকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আবার সংস্থাটি সম্প্রতি দরিদ্র ও অসহায়দের আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সংস্থাটি সম্প্রতি মানবাধিকার ও আইন সহায়তা
কর্মসূচি চালু করেছে। এছাড়া ব্র্যাক বাণিজ্যিক হস্তশিল্প ও বাজারজাতকরণ কর্মসূচি, কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা প্রভৃতি কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। উদ্দীপকে আসগরের স্ত্রী কুলসুম একটি এনজিও থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে গাভী কিনেছেন। ঋণ দেওয়া ছাড়াও এনজিওটি। দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে। এর মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে ব্র্যাকের উপরে বর্ণিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণদান ও শিক্ষা কর্মসূচিকে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্র্যাকের অন্যান্য কার্যক্রমগুলো এখানে প্রতিফলিত হয়নি।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থা ব্র্যাকের কাজ শুধু ক্ষুদ্র ঋণদান ও শিক্ষা কর্মসূচির মাঝে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করে।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!