মানুষ যে সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাকে বংশগতি বলে।" বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে দৈহিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা, মানসিকতা, সহজাত প্রবণতা ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বংশগতি থেকে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যায় না।
গর্ভসঞ্চারের সময় ডিম্বাণুর ২৩টি ক্রোমোজোম ও শুক্রাণুর ২৩টি ক্রোমোজোম মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম নিয়ে একটি ভ্রূণ গঠিত হয়। ক্রোমোজোম কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত নিউক্লিও প্রোটিনে গঠিত তত্ত্বর মতো অংশবিশেষ। এর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়। ক্রোমোজোমের গঠনমূলক একক হচ্ছে জিন। জিনই বংশগতির ধারক ও বাহক। ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে। যে বৈশিষ্ট্যগুলো জীবের মধ্যে প্রকাশ পায় তা প্রবল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জিন। জীবের যে সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হবে না বা সুপ্ত থাকে সেগুলো প্রচ্ছন্ন জিন। ক্রোমোজোমের রাসায়নিক পদার্থ হচ্ছে DNA। ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন জোড়ায় জোড়ায় মালার মতো সাজানো থাকে। এই জিনের মধ্যে এক ধরনের নির্দেশনা থাকে। এই নির্দেশনা তৈরি হয় DNA দ্বারা। DNA -এর সহযোগী হিসেবে ক্রোমোজোমে RNA থাকে। RNA সঞ্চালনের কাজ করে। বংশগতির ধারা বা বৈশিষ্ট্য গর্ভসঞ্চারের মুহূর্তেই নির্ধারিত হয়ে যায়।
সুতরাং বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো RNA এর মাধ্যমে পিতামাতার মধ্য থেকে শিশুর মধ্যে পরিবাহিত হয়।
Related Question
View Allমেলানিন তৈরি হয় টাইরোসিন হতে।
হাইড্রোসেফালি এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা। হাইড্রোসেলফালি হলে মাথার মধ্যে তরল পদার্থ সেরেব্রো-স্পাইনাল রস নিঃসরণ না হয়ে জমা থাকে। ফলে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়। শিশু প্রতিবন্ধী হয়।
রহিম মিয়ার বড় সন্তানটির মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি রয়েছে।
থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশু বামনত্ব লাভ করে। এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাকে ক্রেটিনিজম বলে। এর অপর নাম হাইপোথাইরয়েডিজম।
বংশগত বা অন্য কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় আয়োডিন এর অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে বামনত্ব দেখা দেয়। এছাড়া মাথায় চুল অল্প থাকে। কপাল ছোট, নাক চ্যাপ্টা হয়। এদের জিহবা বেশ মোটা থাকে। অনেকের গলগণ্ড হয় ও বিপাক ক্রিয়া হ্রাস পায়। এ রোগে হজমজনিত গোলযোগ থাকে এবং যৌনাঙ্গের বিকাশ ঠিকমতো হয় না।
রহিম মিয়ার ছোট সন্তানটির মধ্যে হিমোফিলিয়া নামক জিনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কোথাও কেটে গেল তার রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না। মায়ের রক্ত থেকে পুত্রসন্তানদের দেহে বিস্তার লাভ করে এই রোগ।
ছেলেদের এই রোগ দেখা যায়। মেয়েরা বাহক হিসেবে কাজ করে। এই রোগে কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। আঘাত পেলে চামড়ার নিচে বা জোড়ার অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে থাকে। একে রক্তক্ষরণীয় রোগ বলা হয়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষের sex chromosome কে এর জন্য দায়ী করা হয়।
হিমোফিলিয়ায় কোনো cloting factor থাকে না। এই রোগে রোগীর রক্তে রক্ত বন্ধনকারী অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর VIII থাকে না। ফলে রক্ত জমাট হতে অনেক সময় লাগে। রহিম মিয়ার ছোট সন্তানের মধ্যে এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাই পরিলক্ষিত হয়।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম ডিম্বাশয়।
ভালভা স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ বা অঙ্গাণু। ভালভা বলতে যোনি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত থাকে তাকে বোঝায়। লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা, ক্লাইটোরিস এবং ভেন্টিবুলার গ্রন্থিকে একত্রে ভালভা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!