যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণী নিজ প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাকে এবং বংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে তাই প্রজনন।
ইমপ্লান্টেশন বলতে বোঝায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ব্লাস্টোসিস্টের প্রোথিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে।
ট্রফোব্লাস্ট জরায়ুর প্রাচীরে অনুপ্রবেশের পর এন্ডোমেট্রিয়াম থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে থাকে। এন্ডোমেট্রিয়ামের যেখানে ব্লাস্টোসিস্ট প্রোথিত হয়, সেখানকার আবরণী কলা ট্রফোব্লাস্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে ব্লাস্টোসিস্ট ঢেকে যায়। এভাবে নিষেকের ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে ব্লাস্টোসিস্ট জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে প্রোথিত হয়। যাকে ইমপ্লান্টেশন বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো নিষেক। পুরুষ জননকোষ থেকে শুক্রাণু ও স্ত্রী জননকোষ থেকে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। পরিণত শুক্রাণু ও পরিণত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস একীভবনের মাধ্যমে জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে।
ডিম্বাশয় থেকে পরিণত ডিম্বাণু ফেলোপিয়ান নালিতে প্রবেশ করে। ফেলোপিয়ান নালির ঊর্ধ্বপ্রান্তে ৬-৭ ঘণ্টা অবস্থান করে। সেখানে ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয় এবং জাইগোট গঠিত হয়।
ডিম্বাণুকে নিষিক্তকরণের জন্য শুক্রাণু নিম্ন ধাপসমূহ অতিক্রম করে-
১. শুক্রাণুগুলো ডিম্বাণুর চারপাশে অ্যাক্রোজোম থেকে হায়ালুরোনিডেজ নামক এনজাইম ক্ষরণ করে। ফলে ডিম্বাণুর চারপাশে করোনা রেডিয়েটা এনজাইম বিচ্ছিন্ন হয় এবং শুক্রাণুগুলোর গমন পথ সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর জোনাপেলুসিডায় যায় এবং শুক্রাণুর মস্তকঝিল্লি বন্ধনের সৃষ্টি হয়।
২. বন্ধনের ফলে উদ্দীপিত হয়ে শুক্রাণু মস্তক থেকে এনজাইম ক্ষরণ করে। এই এনজাইম জোনাপেলুসিডার অংশকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পথ সৃষ্টি করে। এই পথ দিয়ে একটি শুক্রাণু ডিম্বাণুর ঝিল্লির কাছে আসে। শুক্রাণুটির মস্তক ডিম্বাণুর প্লাজমা মেমব্রেনের সাথে একীভূত হয় এবং ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে।
৩. শুক্রাণুর মস্তক ডিম্বাণুর অভ্যন্তরে প্রবেশের সাথে সাথে এনজাইমের প্রভাবে জোনাপেলুসিডা পুরু ও শক্ত হয়ে যায়। ফলে আর কোনো শুক্রাণু নিষেকে অংশ নিতে পারে না।
৪. শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসটি স্ফীত হয়। এই পর্যায়ে শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসকে পুরুষ প্রোনিউক্লিয়াস এবং ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে স্ত্রী প্রোনিউক্লিয়াস বলে।
৫. পুরুষ প্রোনিউক্লিয়াস ডিম্বাণুর কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়ে স্ত্রী প্রোনিউক্লিয়াসে একীভূত হয় এবং ডিম্বাণুটি ডিপ্লয়েড জাইগোট বা ঘৃণানুতে পরিণত হয়।
মানুষ যে সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাকে বংশগতি বলে।" বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে দৈহিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা, মানসিকতা, সহজাত প্রবণতা ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। বংশগতি থেকে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যায় না।
গর্ভসঞ্চারের সময় ডিম্বাণুর ২৩টি ক্রোমোজোম ও শুক্রাণুর ২৩টি ক্রোমোজোম মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম নিয়ে একটি ভ্রূণ গঠিত হয়। ক্রোমোজোম কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত নিউক্লিও প্রোটিনে গঠিত তত্ত্বর মতো অংশবিশেষ। এর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়। ক্রোমোজোমের গঠনমূলক একক হচ্ছে জিন। জিনই বংশগতির ধারক ও বাহক। ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে। যে বৈশিষ্ট্যগুলো জীবের মধ্যে প্রকাশ পায় তা প্রবল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জিন। জীবের যে সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হবে না বা সুপ্ত থাকে সেগুলো প্রচ্ছন্ন জিন। ক্রোমোজোমের রাসায়নিক পদার্থ হচ্ছে DNA। ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন জোড়ায় জোড়ায় মালার মতো সাজানো থাকে। এই জিনের মধ্যে এক ধরনের নির্দেশনা থাকে। এই নির্দেশনা তৈরি হয় DNA দ্বারা। DNA -এর সহযোগী হিসেবে ক্রোমোজোমে RNA থাকে। RNA সঞ্চালনের কাজ করে। বংশগতির ধারা বা বৈশিষ্ট্য গর্ভসঞ্চারের মুহূর্তেই নির্ধারিত হয়ে যায়।
সুতরাং বংশগতির বৈশিষ্ট্যগুলো RNA এর মাধ্যমে পিতামাতার মধ্য থেকে শিশুর মধ্যে পরিবাহিত হয়।
Related Question
View Allমেলানিন তৈরি হয় টাইরোসিন হতে।
হাইড্রোসেফালি এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা। হাইড্রোসেলফালি হলে মাথার মধ্যে তরল পদার্থ সেরেব্রো-স্পাইনাল রস নিঃসরণ না হয়ে জমা থাকে। ফলে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়। শিশু প্রতিবন্ধী হয়।
রহিম মিয়ার বড় সন্তানটির মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি রয়েছে।
থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশু বামনত্ব লাভ করে। এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাকে ক্রেটিনিজম বলে। এর অপর নাম হাইপোথাইরয়েডিজম।
বংশগত বা অন্য কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় আয়োডিন এর অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে বামনত্ব দেখা দেয়। এছাড়া মাথায় চুল অল্প থাকে। কপাল ছোট, নাক চ্যাপ্টা হয়। এদের জিহবা বেশ মোটা থাকে। অনেকের গলগণ্ড হয় ও বিপাক ক্রিয়া হ্রাস পায়। এ রোগে হজমজনিত গোলযোগ থাকে এবং যৌনাঙ্গের বিকাশ ঠিকমতো হয় না।
রহিম মিয়ার ছোট সন্তানটির মধ্যে হিমোফিলিয়া নামক জিনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কোথাও কেটে গেল তার রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না। মায়ের রক্ত থেকে পুত্রসন্তানদের দেহে বিস্তার লাভ করে এই রোগ।
ছেলেদের এই রোগ দেখা যায়। মেয়েরা বাহক হিসেবে কাজ করে। এই রোগে কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। আঘাত পেলে চামড়ার নিচে বা জোড়ার অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে থাকে। একে রক্তক্ষরণীয় রোগ বলা হয়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষের sex chromosome কে এর জন্য দায়ী করা হয়।
হিমোফিলিয়ায় কোনো cloting factor থাকে না। এই রোগে রোগীর রক্তে রক্ত বন্ধনকারী অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর VIII থাকে না। ফলে রক্ত জমাট হতে অনেক সময় লাগে। রহিম মিয়ার ছোট সন্তানের মধ্যে এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাই পরিলক্ষিত হয়।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম ডিম্বাশয়।
ভালভা স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ বা অঙ্গাণু। ভালভা বলতে যোনি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত থাকে তাকে বোঝায়। লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা, ক্লাইটোরিস এবং ভেন্টিবুলার গ্রন্থিকে একত্রে ভালভা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!