উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো-
উৎপাদন বৃদ্ধি করে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা সম্ভব। এজন্য কৃষি ও শিল্পের আধুনিকায়ন এবং অতি আবশ্যক দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে যাবে। অর্থের যোগানের সাথে দ্রব্যসামগ্রীর দামের সম্পর্ক সমমুখী। অর্থের পরিমাণ তত্ত্বের ফিশারের সমীকরণে বিষয়টি স্পষ্ট। তাই অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দামস্তর কমে যাবে ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হবে।
খাদ্যঘাটতি হ্রাস করতে পারলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট সহজ হবে। সরকার এ লক্ষ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উপর জোর প্রদান করে কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে। আমদানি বৃদ্ধি দেশীয় বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে। আমদানি বৃদ্ধি করে এ দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর যোগান বৃদ্ধি করতে পারলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রাজস্বনীতি মুদ্রাস্ফীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরোক্ষ করের পরিমাণ কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় ও দামস্তর নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে সরকার ঋণ গ্রহণ করে অর্থ সরবরাহ বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে পারে। ব্যাংক হার, নগদ জমার অনুপাত, খোলা বাজারে ঋণপত্রের ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি হাতিয়ার মুদ্রানীতিতে অর্থ সরবরাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়। মুদ্রানীতি অর্থ সরবরাহ কমিয়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ রোধ করতে সাহায্য করে। উন্নয়নশীল দেশে মুদ্রানীতির বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিটি শহরে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করলে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে। এছাড়া মজুতদারি ও চোরাকারবারি রোধ করেও মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা সম্ভব।
সুতরাং বলা যায়, সরকারের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা সম্ভব।
Related Question
View Allদামস্তর বৃদ্ধির মাত্রা বা হার অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের চেয়ে বেশি হলে দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটে। দামস্তরের এ ধরনের বৃদ্ধিকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে। সাধারণত দ্রব্যবাজারে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত। মুদ্রাস্ফীতি মূল্য বাড়ার প্রত্যাশা দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রা এবং ফিসক্যাল নীতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ।
সাধারণভাবে দেখা যায় যে, উন্নয়নশীল দেশে সম্পদের স্বল্পতা, মূলধনের অভাব, প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থের যোগান দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে
মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও ঠিক একই অবস্থা বর্তমান।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর থেকে এ দেশে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৩৫%। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.৪১%। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সার্বিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৯২%-এ দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মজুদ ও চোরাচালানের খুব বেশি প্রভাব রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি সহনীয় রাখার জন্য সরকার রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।
যেকোনো দেশে মুদ্রাস্ফীতি সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশেও একই অবস্থা বিরাজমান। নিচে উক্ত বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
মুদ্রাস্ফীতি পূর্ণ নিয়োগপূর্ব অবস্থায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে মুনাফার প্রত্যাশা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়। কিন্তু পূর্ণ নিয়োগ-পরবর্তী অবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন ব্যাহত করে। মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদনের মতো কর্মসংস্থানেও একই ধরনের প্রভাব ফেলে। যখন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তখন কর্মসংস্থান বা নিয়োগ বেশি থাকে, আবার উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান বা নিয়োগ কমে যায়।
মুদ্রাস্ফীতি আয় ও সম্পদ বণ্টনের উপর কখনও ইতিবাচক, আবার কখনও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। আয় ও সম্পদের পূর্ণ বণ্টনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে কেউ লাভবান, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুদ্রাস্ফীতি দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটানোর ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় কর, মুনাফা ইত্যাদি বৃদ্ধি পায় বলে সরকারি আয় বেড়ে যায়, আবার দামস্তর বৃদ্ধির কারণে সরকারি ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। মুদ্রাস্ফীতি সামাজিক শ্রেণি বিভাজনের সৃষ্টি করে, ফলে সমাজে ধনবৈষম্য, অর্থাৎ ধনী-দরিদ্র বিরোধ ও অসন্তোষ বিরাজ করে। কলকারখানার শ্রমিক-মালিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সার্বিকভাবে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে সমাজজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে বলে রাজনৈতিক পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।
সবশেষে বলা যায়, স্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সমস্যা না হলেও ক্রমাগত দামস্তরের বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে অর্থনীতিতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
যে সূচকে কতিপয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যয় পরিমাপ করা হয়, তা-ই হলো ভোক্তার দাম সূচক।
বর্তমান বছরের ব্যয়ের সাথে ভিত্তি বছরের ব্যয়ের তুলনা করে ভোক্তার দাম সূচক তৈরি করা হয়। ভিত্তি বছরের দামস্তরকে ১০০ ধরে সাধারণত ভোক্তার দাম সূচক যে হারে বৃদ্ধি পায়, সে হারকে মুদ্রাস্ফীতির হার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে
দাম সূচক (CPI) নিম্নরূপে হিসাব করা হয়-
ভোক্তার দাম সূচক (CPI)
এখানে,= বর্তমান সময়ের দাম,
= দ্রব্যের পরিমাণ,
= ভিত্তি বছরের দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!