উত্তরঃ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের ৪৮৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম হলো গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ কর্মসূচির কার্যকারিতা রয়েছে।
নিজস্ব সম্পদ এবং সরকারের সহায়তার মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষাগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, প্রশিক্ষণ ও মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে এ সকল জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে গ্রামীণ সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার কার্যকারিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
উদ্দীপকে ৪৮৫ টি উপজেলায় গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালনার উল্লেখ আছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের ৪৮৯ টি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত এবং এর আওতায় উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ২৪.৫ লক্ষ। মূলত এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের নিম্ন আয়ভুক্ত দরিদ্র যুবক-যুবতী বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ক্ষুদ্রব্যবসা, সেলাই, ব্লক-বাটিক, সামাজিক বনায়ন ইত্যাদিতে ১৭,৭১,৯৩৪ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত এ মহিলারা আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেক বেকার মহিলাদের কাজের ব্যবস্থাও করছেন; যার ফলে একদিকে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে দারিদ্র্যের হার। আবার গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন, বেকার ও দুস্থ মহিলাদের পুঁজি সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে পল্লি এলাকায় সুদমুক্ত ঋণদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব ঋণ গ্রহীতাদের ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়। তবে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কেবলমাত্র আত্মকর্মসংস্থান এবং ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে না। পরিবারের আকার ছোট রাখতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের অবস্থার উন্নয়নের জন্যও এ কর্মসূচি কাজ করে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঋণ, মলধনদিয়ে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এছাড়া এর মাধ্যমে স্বা ও পুষ্টিজ্ঞান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান, সামানি বনায়নসহ মা ও শিশুসেবা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি বি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গ্রামে বসবাসরত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের স্রোতধারায় সংযুক্ত করা এবং দারিদ্র্যের মাত্রা কমিয়ে আনতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।