মানুষের স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধাগুলোই হলো মানবাধিকার।
কিশোর আদালত বলতে কিশোর অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত বিচারালয়কে বোঝায়।
কিশোর আদালত দেশের অন্যান্য আদালতের মতো নয়। এখানে কোনো শুনানি হয় না, বিচার প্রক্রিয়া হয় ঘরোয়া পরিবেশে। এ আদালতে বাদী-বিবাদী, আইনজীবী কেউ থাকে না। এমনকি অভিযুক্তকে কোনো শাস্তিও দেওয়া হয় না। অপরাধীর আত্মীয়-স্বজন, একজন প্রবেশন অফিসার বা সমাজকর্মী এবং আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিচারকাজ পরিচালনার সময় উপস্থিত থাকে।
উদ্দীপকে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির উল্লেখ করা হয়েছে; এর মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
গ্রামীণ সমাজসেবা বলতে সমষ্টি-উন্নয়ন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল গ্রাম উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে বোঝায়। এটি একটি বহুমুখী উন্নয়ন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের জনগণের নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্যের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের চাহিদা পূরণ, সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক কল্যাণ সাধনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে এ কর্মসূচি তার কার্যক্রম শুরু করে যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি গ্রামাঞ্চলের নিম্ন আয়ের জনগণ বিশেষত বেকার ও অর্ধ-বেকারদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এছাড়া জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণ সমাজসেবা আর্থ-সামাজিক জরিপের মাধ্যমে কর্মদল গঠন করে। একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যভিত্তিক এ দলগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টিজ্ঞান প্রদান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, খাবার স্যালাইন তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া এর আওতায় স্বল্প বা বিনামূল্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষার্থে প্রতিরোধমূলক টিকাদান কর্মসূচিসহ মায়েদের প্রজনন স্বাস্থ্যনিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গ্রামীণ জনগণের অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা চালু করা হয়। এর ফলে বয়স্ক ও কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েদের স্বাক্ষর জ্ঞান, সাধারণ মৌলিক জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের অসহায় ও দুঃস্থ জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের ৪৮৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম হলো গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ কর্মসূচির কার্যকারিতা রয়েছে।
নিজস্ব সম্পদ এবং সরকারের সহায়তার মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষাগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, প্রশিক্ষণ ও মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে এ সকল জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে গ্রামীণ সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার কার্যকারিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
উদ্দীপকে ৪৮৫ টি উপজেলায় গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালনার উল্লেখ আছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের ৪৮৯ টি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত এবং এর আওতায় উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ২৪.৫ লক্ষ। মূলত এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের নিম্ন আয়ভুক্ত দরিদ্র যুবক-যুবতী বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ক্ষুদ্রব্যবসা, সেলাই, ব্লক-বাটিক, সামাজিক বনায়ন ইত্যাদিতে ১৭,৭১,৯৩৪ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত এ মহিলারা আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেক বেকার মহিলাদের কাজের ব্যবস্থাও করছেন; যার ফলে একদিকে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে দারিদ্র্যের হার। আবার গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন, বেকার ও দুস্থ মহিলাদের পুঁজি সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার লক্ষ্যে পল্লি এলাকায় সুদমুক্ত ঋণদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব ঋণ গ্রহীতাদের ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়। তবে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কেবলমাত্র আত্মকর্মসংস্থান এবং ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে না। পরিবারের আকার ছোট রাখতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গ্রামীণ দরিদ্র মহিলাদের আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের অবস্থার উন্নয়নের জন্যও এ কর্মসূচি কাজ করে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঋণ, মলধনদিয়ে সহায়তা করাও এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এছাড়া এর মাধ্যমে স্বা ও পুষ্টিজ্ঞান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান, সামানি বনায়নসহ মা ও শিশুসেবা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি বি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গ্রামে বসবাসরত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের স্রোতধারায় সংযুক্ত করা এবং দারিদ্র্যের মাত্রা কমিয়ে আনতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!