উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফল আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি শাসক ও তার দোসরদের শোষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পূর্ব বাংলার চারটি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়। এ দলগুলি হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। পূর্ব বাংলার আশা আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট তাদের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এ নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক ও ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।
উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, যুক্তফ্রন্ট পেয়েছে ২২৩টি মুসলিম লীগ ১০টি, নির্দলীয় ৩টি ও খেলাফত রব্বানী ১টি আসন। যা উপরের বর্ণিত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের অনুরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফল আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!