DAC-এর পূর্ণরূপ হলো Democratic Action Committee.
ইউনেস্কো কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কারণে শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রতিবছর ২১-ফেব্রুয়ারি দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ দিন বাঙালি জাতি রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দেয়। তাই ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কো অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০০০ সাল থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ কারণেই শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয় ।
উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফল আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি শাসক ও তার দোসরদের শোষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পূর্ব বাংলার চারটি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়। এ দলগুলি হলো আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। পূর্ব বাংলার আশা আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট তাদের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। এ নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক ও ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ।
উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, যুক্তফ্রন্ট পেয়েছে ২২৩টি মুসলিম লীগ ১০টি, নির্দলীয় ৩টি ও খেলাফত রব্বানী ১টি আসন। যা উপরের বর্ণিত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের অনুরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ক-নির্বাচনের ফলাফল আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
হ্যাঁ, আমি মনে করি 'ক' নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের থেকে 'খ' নির্বাচনের ফলাফল অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে তার উত্তরসূরি ইয়াইয়া খান পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১৩টি আসন ছিল। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের ১৬৭টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮৮টি আসন পায় পাকিস্তান পিপলস পার্টি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের পিছনে বিভিন্ন দিক থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাঙালি জাতি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে যে স্বাতন্ত্র্য দাবি করে আসছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার বিজয় অর্জিত হয়। এ নির্বাচনের ফলাফলে ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির বৈধতা প্রমাণিত হয়। সর্বোপরি ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এলে তিনি তা না করে নিরীহ বাঙালির ওপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেন। শুরু হয় বাংলার মানুষের মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নেয়। এ কারণেই ১৯৫৪ সালের নির্বাচন থেকে ১৯৭০ এর নির্বাচন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের খ-নির্বাচনের ফলাফল উপরের বর্ণনা অনুযায়ী ১৯৭০ এর নির্বাচনকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল অপেক্ষা ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!