উদ্দীপকের ঘটনা-১ বা শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও ঘটনা-২ তথা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার বিশ্বায়নের প্রভাবেরই ফল।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে আজ তথ্যপ্রাপ্তি যেমন সহজ হয়েছে তেমনি যোগাযোগ করা যাচ্ছে অতি দ্রুত। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষণীয়। শিক্ষার্থীরা এখন উদ্দীপকের তারিনের মতো অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন এমনকী পড়াশোনা করছে। কোনো শিক্ষার্থী চাইলে ঘরে বসেও অনলাইন পদ্ধতিতে বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে কিংবা লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনেক শিক্ষক এখন অনলাইনে লেকচার দিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা শুনে পাঠ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। এর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে বিশ্বায়নের কারণে। বিশ্বায়ন অন্যান্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বিশ্বময় তথ্যপ্রযুক্তিরও প্রসার ঘটিয়েছে। আবার তথ্যের অবাধ প্রবাহ বিশ্বায়নেরই অন্যতম মৌলিক উপাদান। অন্যদিকে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী পণ্যের অবাধ প্রবাহের নীতি। এ কারণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অবাধ ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্বায়নের ছোঁয়ায় আমদানি-রপ্তানি তথা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ অনেকখানিই উঠে গেছে। যেমনটা আমরা দেখি উদ্দীপকের সোহান সাহেবের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে। বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কারণেই তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করে খেলনা তৈরি করতে পারছেন। আবার বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কারণেই তিনি বিভিন্ন দেশে খেলনা সংযোজন করে রপ্তানির কথাও চিন্তা করতে পারছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষা ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের ঘটনার পেছনে বিশ্বায়নের অপরিসীম প্রভাব কাজ করেছে।
Related Question
View Allধাতু যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য নগরসভ্যতার উদ্ভব।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই যখন তাদের নিজস্ব বিশ্বাস, চিন্তা, রুচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অটল থাকেন তখন পরিবারে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ করে এবং তা থেকেই জন্ম নেয় ব্যক্তিত্বের সংঘাত। অর্থাৎ যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্য কোনো বিষয়ে বৈপরীত্য দেখা দেয় তখন ব্যক্তিত্বের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর এই ধরনের মনোভাব স্বামী-স্ত্রীর মধ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।
গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের আঃ সালামের অবস্থান ধনী কৃষক শ্রেণিতে।
গ্রামীণ সমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূল ভিত্তি হলো ভূমি মালিকানা, যার ভিত্তিতে গ্রামীণ শ্রেণি বিভাজন নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় যারা অনেক ভূ-সম্পত্তির মালিক এবং ভূমির ওপর নির্ভর করে যথেষ্ট সচ্ছলভাবে দিনযাপন করতে পারে তাদেরকে ধনী কৃষক বলে। সম্পত্তির মালিকানার জোরে তারা গ্রামীণ সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি খাটায়। এদের অনেকে নিজেদের পুরো জমি চাষাবাদ না করে শস্য ভাগাভাগির ভিত্তিতে বর্গাদারদের কাছে জমি বর্গা দিয়ে থাকে। আর্থিক ক্ষমতার কারণে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে এদের প্রভাবই সর্বাধিক।
উদ্দীপকে হাসাইল গ্রামের আঃ সালাম প্রায় ৫০ একর জমির মালিক। তিনি নিজে কৃষিকাজ না করে বর্গাদারদের মাধ্যমে জমি চাষ করান। গ্রামের সব বিচার-সালিশে তার মতামতই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য।
উপরের আলোচনা এবং আঃ সালামের গ্রামে তার যে অবস্থান তা পর্যালোচনা করলে বলা যায়, তিনি গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে ধনী কৃষক শ্রেণিভুক্ত।
উদ্দীপকের আঃ সালামের জীবনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই এখানে প্রতিবছর নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং এর সাথে খাপখাওয়ানোর জন্য নতুন পথ, কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যেমন- নদী ভাঙনের ফলে যে সব মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তারা অনেক সময় বিভিন্ন শহরে উদ্বাস্তুর মত জীবনযাপন করে থাকে। এর ফলে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ও সামাজিক গতিশীলতায় পরিবর্তন আসে।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হলে গ্রামের ধনী কৃষক আঃ সালাম রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনধারণের জন্য তিনি শহরে চলে আসেন। এখানে কেউ তাকে চেনে না, কোনো মূল্যও দেয় না। আঃ সালামের জীবনের এ ধরনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক পরিবেশ মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
ভাষা আন্দোলনে সর্বপ্রথম বাঙালি নারীরা রাজপথে নেমেছিল।
জন্ম ও মৃত্যুহার জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোনো দেশে জন্মহার যদি মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে যায় তবে এর অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। যেমন- বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক সচেতনতা, মিডিয়ার প্রচার, শিক্ষা বিস্তার প্রভৃতির ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। ফলে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!