উদ্দীপকে নির্দেশিত সামাজিক সমস্যা তথা নিরক্ষরতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক।
যেকোনো সমাজেই নিরক্ষরতা সামাজিক উন্নয়ন ও প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক। নিরক্ষরতা সমাজজীবনে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করে। নিরক্ষর লোকেরা কম উৎপাদন ক্ষমতার কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সবচেয়ে কম অবদান রাখে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নিরক্ষরতা শুধু মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে অন্তরাই নয়, এর সাথে সাথে উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে এবং অগ্রসর ধ্যান-ধারণা ও যোগ্যতা অর্জনেও বাধা দেয়। নিরক্ষরতার ফলে অজ্ঞতাপ্রসূত গতানুগতিকতা, অদৃষ্টবাদিতা, স্বচ্ছ জীবনবোধের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় তা জনগণকে কর্মোদ্যোগী না করে শ্রম ও সম্পদের অপচয় ঘটায়। বিশেষ করে নিরক্ষরতার প্রভাবে মানুষ কর্মের সাথে উৎপাদন কৌশলের কোনো সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারে না। নিরক্ষর মানুষ সম্পদ অর্জনেও অজ্ঞ থাকে। নিরক্ষরতার প্রভাবে সমাজে অদৃষ্টবাদিতা, ভাগ্যে বিশ্বাসী ও নির্ভরশীলতার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। নিরক্ষরতার কারণে মানুষের মধ্যে রক্ষণশীলতা ও গতানুগতিকতা বৃদ্ধি পায় যা উন্নয়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক। এমনকি নিরক্ষতার প্রভাবেই বাংলাদেশের জনগণ নিজের সমস্যা মোকাবিলায় নিজেরা উদাসীন হয়ে পড়ে।
উপরের আলোচনা থেকে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নিরক্ষরতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবল বাঁধা হিসেবে কাজ করে।
Related Question
View Allজ্ঞাতিসম্পর্ককে সামাজিক সংগঠনের মূল বিষয় বলা হয়।
নগর সমাজের মানুষেরা ধর্মকে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় বলে গণ্য করে।
বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ মন্তব্যটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস।
পঞ্চাশের দশকে ক্লদ লেডি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন- পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। লেভি স্ট্রস সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির আদিম স্বতন্ত্র জীবনধারা দেখে এতই বিস্মিত হন যে, তিনি বাংলাদেশকে সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!