প্রবাল সাহা মেয়ের বিয়ের সময় মহাজনের কাছ থেকে টিপসই দিয়ে ২০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর মহাজন এসে ঋণ বাবদ ৫০,০০০ টাকা দাবি করলে প্রবাল প্রতিবাদ করেন। জবাবে মহাজন বলেন, "আমি মিথ্যা দাবি করি নাই। কাউকে দিয়ে চুক্তিপত্র পড়িয়ে দেখো যে ওইখানে কত টাকা লেখা আছে।" হতাশ প্রবাল সাহা কৃষি জমি বিক্রি করে মহাজনের ঋণ শোধ করেন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

জ্ঞাতিসম্পর্ককে সামাজিক সংগঠনের মূল বিষয় বলা হয়।

উত্তরঃ

সমবায় এমন একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যা একদল সদস্য তাদের সম্মিলিত কল্যাণের জন্য পরিচালনা করেন। আন্তর্জাতিক সমবায় মৈত্রী (International Co-operative Alliance) তাদের সমবায় পরিচিতি নির্দেশিকাতে সমবায়ের সংজ্ঞা দিয়েছে যে, সমবায় হলো' সমমনা মানুষের স্বেচ্ছাসেবামূলক একটি স্বশাসিত সংগঠন যা নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে এবং এ লক্ষ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় পরিচালনা করে। বর্তমানে যে ধরনের সমবায় সমিতি দেখা যায়, তার সাংগঠনিক রূপ শিল্প বিপ্লবের পরেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ

শিক্ষার ভিত্তিতে গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের প্রবাল সাহার অবস্থান সমাজের নিচু শ্রেণিতে।

শিক্ষার ভিত্তিতে গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসকে সাত ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. নিরক্ষর, ২. সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, ৩. প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্ত, ৪. মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত, ৫. উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত, ৬. স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং ৭. স্নাতকোত্তর পাস। সাধারণত নিরক্ষর বলতে বোঝায় যে লিখতে ও পড়তে পারে না। সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বলতে যিনি শুধুমাত্র নিজের নাম লিখতে ও পড়তে পারেন। প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্ত বলতে বোঝায় যারা মোটামুটি লিখতে ও পড়তে পারে। অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রাপ্ত বলতে বোঝায় যারা প্রায় সকল কিছুই লিখতে ও পড়তে পারে। উচ্চ মাধ্যমিক পাসকৃতরা হলেন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, আর্থিক অসঙ্গতি ইত্যাদি কারণে এইচ.এস.সি পাসের পর লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়া শ্রেণি। স্নাতক ডিগ্রি পাস করা ব্যক্তি গ্রামীণ সমাজে শিক্ষিত শ্রেণি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে গ্রামীণ সমাজে সবচেয়ে মর্যাদাবান শ্রেণি হলো স্নাতকোত্তর পাস করা ব্যক্তিবর্গ।

উদ্দীপকে দেখতে পাই, প্রবাল সাহা মেয়ের বিয়ের সময় টিপসই দিয়ে মহাজনের কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়েছেন। প্রবাল সাহা যেহেতু টিপসই দিয়ে টাকা নিয়েছেন সেহেতু তিনি নিরক্ষর বা অক্ষরজ্ঞানহীন। অর্থাৎ, তিনি লিখতে বা পড়তে পারেন না। আর নিরক্ষররাই হচ্ছে গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে শিক্ষার ভিত্তিতে সবচেয়ে নিচু শ্রেণির।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে নির্দেশিত সামাজিক সমস্যা তথা নিরক্ষরতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক।

যেকোনো সমাজেই নিরক্ষরতা সামাজিক উন্নয়ন ও প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক। নিরক্ষরতা সমাজজীবনে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি করে। নিরক্ষর লোকেরা কম উৎপাদন ক্ষমতার কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সবচেয়ে কম অবদান রাখে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নিরক্ষরতা শুধু মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে অন্তরাই নয়, এর সাথে সাথে উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে এবং অগ্রসর ধ্যান-ধারণা ও যোগ্যতা অর্জনেও বাধা দেয়। নিরক্ষরতার ফলে অজ্ঞতাপ্রসূত গতানুগতিকতা, অদৃষ্টবাদিতা, স্বচ্ছ জীবনবোধের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় তা জনগণকে কর্মোদ্যোগী না করে শ্রম ও সম্পদের অপচয় ঘটায়। বিশেষ করে নিরক্ষরতার প্রভাবে মানুষ কর্মের সাথে উৎপাদন কৌশলের কোনো সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারে না। নিরক্ষর মানুষ সম্পদ অর্জনেও অজ্ঞ থাকে। নিরক্ষরতার প্রভাবে সমাজে অদৃষ্টবাদিতা, ভাগ্যে বিশ্বাসী ও নির্ভরশীলতার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। নিরক্ষরতার কারণে মানুষের মধ্যে রক্ষণশীলতা ও গতানুগতিকতা বৃদ্ধি পায় যা উন্নয়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক। এমনকি নিরক্ষতার প্রভাবেই বাংলাদেশের জনগণ নিজের সমস্যা মোকাবিলায় নিজেরা উদাসীন হয়ে পড়ে।

উপরের আলোচনা থেকে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নিরক্ষরতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবল বাঁধা হিসেবে কাজ করে।

132
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ মন্তব্যটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস।

পঞ্চাশের দশকে ক্লদ লেডি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন- পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। লেভি স্ট্রস সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির আদিম স্বতন্ত্র জীবনধারা দেখে এতই বিস্মিত হন যে, তিনি বাংলাদেশকে সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।

771
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews