"উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি 'সুখ' কবিতার কবির চেতনার সঙ্গে এক ও অভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনে নিজের সুখ বাস্তবায়নের মাঝে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে না। অপরের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করে কাজ করার মাঝেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা। ভালোবাসা ও সেবা দিয়ে পরার্থে নিজেকে নিবেদিত করার মাধ্যমেই মানুষ পায় সবার গ্রহণযোগ্যতা।
'সুখ' কবিতায় কবি নিজের স্বার্থে নিমগ্ন না থেকে পরের কল্যাণে কাজ করার কথা ব্যক্ত করেছেন। কবি বলেন সমাজের প্রতিটি মানুষ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই শুধু নিজের জন্য নয়, কাজ করতে হবে অন্যের জন্য, জগতের মঙ্গলের জন্য। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। উদ্দীপকের মানবসেবী ব্রিটিশ নাগরিক লুসির কর্মকান্ডে অন্যের কল্যাণে কাজ করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের সেবার মাঝেই জীবনের সুখ খুঁজেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের কল্যাণে বাড়িয়ে দিয়েছেন সেবার হাত।
উদ্দীপকের লুসির মাঝেই তিনি সুখের সন্ধান পেয়েছেন। 'সুখ' কবিতায় কবিও প্রত্যাশা করেছেন মানুষ যেন নিজের সুখের দিকে না তাকিয়ে অন্যের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে। এদিক থেকে কবির চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি এক ও অভিন্ন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'অবনী' শব্দের অর্থ পৃথিবী বা ধরা।
জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য অনেক সংগ্রাম ও সংকট মোকাবিলা করতে হয় বলে সংসারকে সমর-অঙ্গন বলা হয়েছে।
সব মানুষই জীবনে সুখী হতে চায়। কিন্তু সুখ সহজে ধরা দেয় না। এর জন্য নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়। অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা সহ্য করে, সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই সুখ অর্জিত হয়। এ কারণেই সংসারকে সমর-অঙ্গন বলা হয়েছেন।
উদ্দীপকের জামিল 'সুখ' কবিতায় বর্ণিত অন্যের উপকারের মধ্যে নিজের সুখ নিহিত- সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেছে।
মানুষ স্বার্থপরভাবে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে, অন্যের ক্ষতি করে হলেও নিজের সুখের আশায় ধনসম্পদ বাড়াতে থাকে। কিন্তু মানুষের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই আসলে প্রকৃত সুখ নিহিত।"
'সুখ' কবিতায় কবি প্রকৃত সুখী হওয়ার উপায় ব্যাখ্যা করেছেন। 'কবি মনে করেন, পরের কল্যাণার্থে মরণ হলেও তাতে সুখ রয়েছে। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য এ পৃথিবীতে কেউ আসেনি। কবির সুখী হওয়ার এই প্রক্রিয়াটিই উদ্দীপকে জামিলের মধ্যেও দেখা যায়। উদ্দীপকের জামিল শুধু নিজের সুখ নিয়েই ব্যস্ত নন। পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে তিনি এগিয়ে যান। অন্যের উপকার করার মধ্যেই তিনি সুখ খুঁজে পান।
"আলিমের সুখ প্রকৃত সুখ নয়।"- 'সুখ' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
এ. পৃথিবীতে কিছু মানুষ সুখের আশায় ধন-সম্পদের পরিমাণ বাড়াতেই থাকেন, কিন্তু সুখ খুঁজে পান না। অন্যদিকে যেসব ব্যক্তি শুধু - নিজেদের চিন্তায় মগ্ন না থেকে অন্য সবার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রকৃত সুখ খুঁজে পান।
উদ্দীপকের আলিম প্রবাসে গিয়ে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে দেশে ফিরেছেন, বাড়ি-গাড়ি সবই করেছেন, নিজের সুখের সব ব্যবস্থাই করেছেন। কিন্তু এটাকেই প্রকৃত সুখ বলা যায় না। 'সুখ' কবিতায় কবি বলেছেন, শুধু নিজের স্বার্থচিন্তায় মগ্ন থাকলে সুখ পাওয়া যাবে না। অন্যের কথাও চিন্তা করতে হবে। তবেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যাবে। অন্যের কল্যাণ সাধনেই প্রকৃত সুখ।
উদ্দীপকের আলিম শুধু নিজের সুখের কথা ভেবেছেন। 'সুখ' কবিতায় বলা হয়েছে, শুধু নিজের নয়, পরের জন্যও ভাবতে হবে। তাই 'সুখ' কবিতার আলোকে বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারকে কবি সমর-অঙ্গন বলেছেন।
আলোচ্য চরণে কবি অন্যের মঙ্গল করে প্রকৃত সুখ লাভের কথা বলেছেন।
জগতে যারা কেবল নিজের সুখ খোঁজেন তারা জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে ভাবেন মানুষের জীবন নিরর্থক। মূলত এ ধারণা ভুল। জীবনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য আরও বিস্তৃত, অনেক মহৎ। অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নানা দুঃখ-যন্ত্রণা সয়ে, সংকট মোকাবিলা করে জীবনসংগ্রামে সফলতার মাধ্যমেই প্রকৃত সুখ অর্জিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!