উদ্দীপকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।"- কথাটি যথার্থ।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ করা হয়েছে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের চিত্রকে সামনে রেখে। দুই আন্দোলনের মধ্যকার মিল চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে কবিতায়। গণমানুষের আন্দোলন-মিছিল-সমাবেশ-স্লোগান ছড়িয়ে গিয়েছে দেশের সর্বত্র। আন্দোলন স্থিমিত করে দেওয়ার জন্য শাসক অবলীলায় গুলি করে হত্যা করেছে সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এতে দমে না গিয়ে তাদের আন্দোলন আরও বেগবান করেছে, শোককে শক্তিতে পরিণত করেছে।
উদ্দীপকে কোনো স্মৃতিচারণ না করেই ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বায়ান্ন, চুয়ান্ন, ছেষট্টি, উনসত্তর এমনকি একাত্তর সালেও বাঙালিদের আত্মত্যাগ এবং এর ফলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা কিংবা স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে প্রাসঙ্গিকভাবেই। আন্দোলনকারী মানুষের প্রতি শাসকের নির্মম অত্যাচার ও হত্যার বিবরণও সংক্ষিপ্তভাবে ফুটে উঠেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, উভয়ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের চিত্র ফুটে উঠেছে। কিন্তু উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী চেতনার দিকটি ফুটে ওঠেনি, পূর্বোক্ত ঐতিহাসিক চরিত্রকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে আন্দোলনের আবেগকে বৃদ্ধি করা হয়নি। উদ্দীপকের মূল বিষয়বস্তু শাসকের নির্মমতা সত্ত্বেও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার এক বৃহৎ অংশের মিল থাকলেও কবিতাটির পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!