উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকতা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বাসভাজন হয়েও অবিশ্বাসের কাজ করা হলে তা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে পরিগণিত হয়। বিভীষণ চরিত্রটি বিশ্বাসঘাতকতার এক চরম উদাহরণ; জাতীয় সংকটে বৃহত্তর স্বার্থ ভুলে শত্রুর সঙ্গে আঁতাত করতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। এমনকি আপন ভাই ও ভ্রাতুষ্পুস্পুত্রের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত হননি।
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ যুদ্ধে মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখ অবিশ্বাস্যভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন বৃহত্তর বাংলার প্রতিনিধি হয়েও তারা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য সাধনে সক্রিয় হয়। ফলস্বরূপ পলাশির প্রান্তরে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য। প্রায় দুই শ বছর গোলামির মধ্য দিয়ে এ বিশ্বাসঘাতকতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে বাঙালি জাতিকে। উদ্দীপকে বর্ণিত মিরজাফর প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের আচরণ সাদৃশ্যপূর্ণ। মিরজাফররা যেমন দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলেও ভিনদেশি বেনিয়াদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছে, বিভীষণও তেমনি নিজ ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদকে হত্যার জন্য শত্রু লক্ষ্মণের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধান্বিত হননি তিনি। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত বিশ্বাসঘাতকতা এভাবেই একসূত্রে গ্রথিত।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!