১৭৫৭ সালে পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য অস্তমিত হয়েছিল যাদের বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের অন্যতম প্রধান সেনাপতি মিরজাফর। প্রধান সেনাপতি হয়েও সে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। শুধু মিরজাফরই নয়; রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠও যুদ্ধে চরম অসহযোগিতা করেছে। কিন্তু মোহনলাল ও মিরমর্দন বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। পক্ষান্তরে মিরজাফর এবং তার দোসররা বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং জাতিকে প্রায় ২০০ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে বাধ্য করেছে।

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

'বিধু' শব্দের অর্থ- চাঁদ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

অধমকে মর্যাদাপূর্ণ আসন দেওয়ার কারণে ধিক্কার জানানো হয়েছে উল্লিখিত উক্তিটির মাধ্যমে।
মেঘনাদকে হত্যার জন্য লক্ষ্মণকে রাজপ্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ করে দিলে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ এ উক্তি করে। 'চণ্ডাল' বলতে নিকৃষ্ট বা অধমকে বোঝানো হয়েছে, যার স্থান রাজগৃহে হতে পারে না। মেঘনাদের মতে লক্ষ্মণ সেই নিকৃষ্টজন, যাকে মর্যাদার আসন দিয়ে জঘন্য অপরাধ করেছেন বিভীষণ। 'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?'- উক্তিটির মাধ্যমে মূলত বিভীষণের প্রতি মেঘনাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকতা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বাসভাজন হয়েও অবিশ্বাসের কাজ করা হলে তা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে পরিগণিত হয়। বিভীষণ চরিত্রটি বিশ্বাসঘাতকতার এক চরম উদাহরণ; জাতীয় সংকটে বৃহত্তর স্বার্থ ভুলে শত্রুর সঙ্গে আঁতাত করতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। এমনকি আপন ভাই ও ভ্রাতুষ্পুস্পুত্রের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত হননি।
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ যুদ্ধে মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখ অবিশ্বাস্যভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন বৃহত্তর বাংলার প্রতিনিধি হয়েও তারা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য সাধনে সক্রিয় হয়। ফলস্বরূপ পলাশির প্রান্তরে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য। প্রায় দুই শ বছর গোলামির মধ্য দিয়ে এ বিশ্বাসঘাতকতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে বাঙালি জাতিকে। উদ্দীপকে বর্ণিত মিরজাফর প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের আচরণ সাদৃশ্যপূর্ণ। মিরজাফররা যেমন দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলেও ভিনদেশি বেনিয়াদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছে, বিভীষণও তেমনি নিজ ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদকে হত্যার জন্য শত্রু লক্ষ্মণের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধান্বিত হননি তিনি। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত বিশ্বাসঘাতকতা এভাবেই একসূত্রে গ্রথিত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র- উভয়ের সাদৃশ্যগত বিচারে একথা বলা যুক্তিসংগত।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় স্বজন, স্বজাতি ও স্বদেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার প্রেক্ষাপটে মেঘনাদের দেশপ্রেমই এ কবিতার মূল প্রেরণা। এছাড়াও প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটেছে এ কবিতায়।
উদ্দীপকে পলাশির যুদ্ধের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে নিকটজনের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছে। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার সহযোগীরা তাঁর বিপক্ষে কাজ করে। পাশাপাশি মোহনলাল ও মিরমর্দানের দেশপ্রেমের দৃষ্টান্তও উপস্থাপিত হয়েছে এখানে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' 'কবিতায় বিভীষণও মিরজাফরের মতোই আপনজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন রাম-রাবণের যুদ্ধে। তাঁর এ ভূমিকায় বিস্মিত হয়ে দেশপ্রেমী বীর মেঘনাদ তীব্রভাবে ভর্ৎসনা করেছে তাঁকে। সেইসঙ্গে স্বদেশ ও স্বজাতির মাহাত্ম্য তুলে ধরেছে নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে।
মূলভাবের সাদৃশ্য সত্ত্বেও উদ্দীপকের মতো আলোচ্য কবিতায় কেবল দেশপ্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপই চিত্রিত হয়নি; পাশাপাশি মেঘনাদের বীরত্ব, সাহসিকতা, ব্যক্তিত্ব এবং স্বজাতির প্রতি মমত্ববোধের রূপায়ণ ঘটেছে। বিভীষণের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিও বিবৃত হয়েছে এখানে। এছাড়া পৌরাণিক নানা চরিত্র, ঘটনা ও অনুষঙ্গের সমন্বয়ে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে কবিতাটি। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ ঘটেছে উদ্দীপকে; সামগ্রিক প্রতিফলন ঘটেনি।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
31


“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
 রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
 এ কাজ, নিকষা সতী তোমার জননী,
 সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
 কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী! 
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
 চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?
 কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি
 পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”
উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,
ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
 তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে 
অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!
 রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
 আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে ! 
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে;
 পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
 ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
 কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?
 কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে 
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে; 
যায় কি সে কভু, প্ৰভু, পঙ্কিল সলিলে,
 শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
 কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে 
মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
 অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে ।
 ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে 
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে? 
কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা ?
 নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
 এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
 এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
 বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি! 
দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ, 
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি 
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগভে পশিল 
দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে । 
তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে
 ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্ৰফুল্ল কমলে
 কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে 
হেন অপমান আমি,— ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
 তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”
 মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী, 
মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে 
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা 
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! 
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে 
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি 
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে !
 রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী 
তেঁই আমি । পরদোষে কে চাহে মজিতে?”
 রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি 
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্ৰ কোপি, 
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,—“ধর্মপথগামী, 
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে 
তুমি; – কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
 জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,—এ সকলে দিলা 
জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি 
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি 
নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা! 
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে? 
কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
 হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে ? 
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।” 
[নির্বাচিত অংশ]


 

Related Question

View All
উত্তরঃ

সৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।

Araf Rizvee
Araf Rizvee
2 years ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews