'বিধু' শব্দের অর্থ- চাঁদ।
অধমকে মর্যাদাপূর্ণ আসন দেওয়ার কারণে ধিক্কার জানানো হয়েছে উল্লিখিত উক্তিটির মাধ্যমে।
মেঘনাদকে হত্যার জন্য লক্ষ্মণকে রাজপ্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ করে দিলে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ এ উক্তি করে। 'চণ্ডাল' বলতে নিকৃষ্ট বা অধমকে বোঝানো হয়েছে, যার স্থান রাজগৃহে হতে পারে না। মেঘনাদের মতে লক্ষ্মণ সেই নিকৃষ্টজন, যাকে মর্যাদার আসন দিয়ে জঘন্য অপরাধ করেছেন বিভীষণ। 'চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?'- উক্তিটির মাধ্যমে মূলত বিভীষণের প্রতি মেঘনাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকতা 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের স্বজাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বাসভাজন হয়েও অবিশ্বাসের কাজ করা হলে তা বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে পরিগণিত হয়। বিভীষণ চরিত্রটি বিশ্বাসঘাতকতার এক চরম উদাহরণ; জাতীয় সংকটে বৃহত্তর স্বার্থ ভুলে শত্রুর সঙ্গে আঁতাত করতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। এমনকি আপন ভাই ও ভ্রাতুষ্পুস্পুত্রের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত হননি।
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতার প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ যুদ্ধে মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ প্রমুখ অবিশ্বাস্যভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন বৃহত্তর বাংলার প্রতিনিধি হয়েও তারা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য সাধনে সক্রিয় হয়। ফলস্বরূপ পলাশির প্রান্তরে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতা-সূর্য। প্রায় দুই শ বছর গোলামির মধ্য দিয়ে এ বিশ্বাসঘাতকতার চরম মূল্য দিতে হয়েছে বাঙালি জাতিকে। উদ্দীপকে বর্ণিত মিরজাফর প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণের আচরণ সাদৃশ্যপূর্ণ। মিরজাফররা যেমন দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলেও ভিনদেশি বেনিয়াদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছে, বিভীষণও তেমনি নিজ ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদকে হত্যার জন্য শত্রু লক্ষ্মণের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধান্বিত হননি তিনি। উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত বিশ্বাসঘাতকতা এভাবেই একসূত্রে গ্রথিত।
উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র- উভয়ের সাদৃশ্যগত বিচারে একথা বলা যুক্তিসংগত।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় স্বজন, স্বজাতি ও স্বদেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার প্রেক্ষাপটে মেঘনাদের দেশপ্রেমই এ কবিতার মূল প্রেরণা। এছাড়াও প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটেছে এ কবিতায়।
উদ্দীপকে পলাশির যুদ্ধের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে নিকটজনের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছে। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও তার সহযোগীরা তাঁর বিপক্ষে কাজ করে। পাশাপাশি মোহনলাল ও মিরমর্দানের দেশপ্রেমের দৃষ্টান্তও উপস্থাপিত হয়েছে এখানে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' 'কবিতায় বিভীষণও মিরজাফরের মতোই আপনজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন রাম-রাবণের যুদ্ধে। তাঁর এ ভূমিকায় বিস্মিত হয়ে দেশপ্রেমী বীর মেঘনাদ তীব্রভাবে ভর্ৎসনা করেছে তাঁকে। সেইসঙ্গে স্বদেশ ও স্বজাতির মাহাত্ম্য তুলে ধরেছে নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে।
মূলভাবের সাদৃশ্য সত্ত্বেও উদ্দীপকের মতো আলোচ্য কবিতায় কেবল দেশপ্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপই চিত্রিত হয়নি; পাশাপাশি মেঘনাদের বীরত্ব, সাহসিকতা, ব্যক্তিত্ব এবং স্বজাতির প্রতি মমত্ববোধের রূপায়ণ ঘটেছে। বিভীষণের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিও বিবৃত হয়েছে এখানে। এছাড়া পৌরাণিক নানা চরিত্র, ঘটনা ও অনুষঙ্গের সমন্বয়ে বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে কবিতাটি। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ ঘটেছে উদ্দীপকে; সামগ্রিক প্রতিফলন ঘটেনি।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!