সূর্যাস্ত আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত হয়।
'আমি যেন কোরবানির বকরি'- 'বহিপীর' নাটকে তাহেরা এ কথাটি বলেছে।
'বহিপীর' নাটকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ধর্মভীরু তাহেরার বাবা ও সৎমা বৃদ্ধ পীরকে খুশি করতে কিশোরী মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দেয়। তাহেরা এ বিয়ে মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কোরবানির ঈদে মুসলমানরা যেমন বকরি কোরবানি দেয় তাহেরারও নিজেকে তেমন মনে হয়েছে। কারণ তাকে তার বাবা-মা পশুর মতো জোর করে বৃদ্ধ বহিপীরের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণেই তাহেরা আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
সারকথা: নিজেকে অবমূল্যায়িত হতে দেখে তাহেরা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
উদ্দীপক-১ এ 'বহিপীর' নাটকের জমিদার হাতেম আলির জমিদারি হারানোর ঘটনাটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিশ্রমীরা জানে কর্ম মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে। মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে, যার ওপর মানুষের কোনো হাত থাকে না। মানুষ তখন ভাগ্যের খেলায় অসহায় হয়ে পড়ে। মানুষ চাইলেও সেই প্রতিকূলতা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।
উদ্দীপকে মানুষের ভাগ্যবিড়ম্বনার কথা বলা হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মে নদীর এক কূল ভাঙলে অন্য কূল গড়ে ওঠে। তেমনই মানবজীবনের অবস্থা কখনো ভালো, আবার কখনো খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই সকালে যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদে পরিপূর্ণ, ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণে সন্ধ্যায় সে ফকির হয়ে যেতে পারে। তেমনই ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার 'বহিপীর' নাটকের জমিদার হাতেম আলি। খাজনা বাকি পড়ায় তার জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে উঠেছে। জমিদারি রক্ষার কোনো পথ তার সামনে খোলা নেই। মাত্র একটি রাতের ব্যবধানে তিনি জমিদার থেকে গরিব সাধারণ মানুষ হয়ে যাবেন। এ রকম একটি অবস্থার মধ্য তিনি জীবনযাপন করছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের বক্তব্যে মানুষের যে ভাগ্যবিড়ম্বনার কথা বলা হয়েছে তার প্রতিফলন 'বহিপীর' নাটকের জমিদার হাতেম আলির জমিদারি হারানোর ঘটনাটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সারকথা: মানবজীবনে উত্থান-পতনের অধিকাংশাই দৈবনির্ভর। উদ্দীপকের মূল বক্তব্য হলো মানুষের ভাগ্যবিড়ম্বনাময় জীবন, যা 'বহিপীর'
নাটকের হাতেম আলির জমিদারি হারানোর ঘটনাটির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উদ্দীপক-২-এর রাইসা 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা অপেক্ষা বেশি বাস্তবধর্মী" মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজে অতীতে মেয়েদের অবমূল্যায়ন করা হতো। তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনো মূল্য দেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ও বাস্তবতা অন্যরকম। নারীরা এখান অধিক স্বাবলম্বী, শিক্ষিত ও অধিকার সচেতন। এখন তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম।• উদ্দীপক-২-এ দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী রাইসার প্রতিবাদী চেতনার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তার বাবা তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে সে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে তার বিপদের কথা জানায়। শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার বিয়ে বন্ধ করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। রাইসার মতো প্রতিবাদী এক চরিত্র 'বহিপীর' নাটকের তাহেরা। তবে সে রাইসার মতো অতটা বাস্তবধর্মী নয়।
'বহিপীর' নাটকের তাহেরাকে তার অমতে বিয়ে দেওয়া হয় বৃদ্ধ বহিপীরের সঙ্গে। তাহেরা তার বাবা ও সৎমায়ের এই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এখানে তার প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ পেলেও সে যদি বিয়ের আগে তার বাবা ও সৎমাকে বুঝিয়ে হোক কিংবা অন্য কারও সাহায্য নিয়ে হোক বিয়ে বন্ধ করতে পারত তবে সে বিড়ম্বনার শিকার হতো না। যেমনটি করেছে উদ্দীপকের রাইসা। তাই বলা যায়, তাহেরা অপেক্ষা রাইসা বেশি বাস্তবধর্মী।
সারকথা: উদ্দীপকের রাইসা শিক্ষকের সহায়তায় তার বিয়ে বন্ধ করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। আর নাটকের ভাহেরা বিয়ের বিরোধিতা করলেও বন্ধ করতে পারেনি। তাই সে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এখানে রাইসাকে তাহেরার চেয়ে বেশি বাস্তবধর্মী
Related Question
View Allবহিপীর নাটকের কেন্দ্রীয় ও নাম চরিত্র। তার বাড়ি উত্তরের সুনামগঞ্জ। সাধারণের ভাষা তার কাছে অপবিত্র মনে হওয়ায় তিনি বহি বা বইয়ের ভাষায় কথা বলেন। এ কারণেই তার নাম বহিপীর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!