উদ্দীপকে আলোচিত উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত ক্ষুদ্রাঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র। উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ: পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে ৯৫ ভাগ
প্রস্বেদন হয় যা পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন নামে পরিচিত। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য অংশে পানি ও খাদ্যরস পৌঁছানো অপরিহার্য। প্রস্বেদনের ফলে বাহিকানালিতে পানির যে টান পড়ে তা সরাসরি কাম্পানিকে জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে মূল হতে কাণ্ড হয়ে পাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সহায়তা করে। এ পানির সাথে মূল কর্তৃক শোষিত খনিজ পদার্থ তথা সামগ্রিকভাবে খাদ্যরস উপরে উত্থিত হয়। পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক কার্যাবলি যা পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট বাহিকা নালিতে টানের ফলে সৃষ্টি হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে পাতা ও অন্যান্য অংশে খনিজ লবণ পৌঁছানো সকল কোষে পানি সরবরাহ, পাতায় উপযুক্ত তাপ নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. সালোকসংশ্লেষণ: সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরির জন্য পানির প্রয়োজন হয়। পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে প্রস্বেদনের ফলে বিপুল পরিমাণ পানি সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। কোষ বিভাজনের জন্য কোষের স্ফীতি অবস্থার প্রয়োজন। প্রস্বেদন পরোক্ষভাবে এ স্ফীতি অবস্থা এবং পরোক্ষভাবে কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।
৩. অভিস্রবণ পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে প্রস্বেদনের ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বাড়ে। ফলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ঘটার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অভিস্রবণ ঘটে।
উপরের আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদে পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ, সালোকসংশ্লেষণ, অভিস্রবণ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদিত হয়।
Related Question
View Allউদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিকাশ ও জীবন ধারনের জন্য যেসব মৌল অধিক পরিমাণে লাগে সেগুলোই হলো ম্যাক্রোমৌল।
বিপাকীয় শক্তির সহায়তায় ঘনত্ব ক্রমের বিরুদ্ধে আয়ন শোষণ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় পরিশোষণ বলে। সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় ঘনত্ব নতিমাত্রার বিপরীতে আয়ন প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ কম ঘনত্বের বহিঃস্থ দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের কোষ দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। ঘনত্ব নতিমাত্রায় বিপরীত দিকে আয়ন শোষিত হওয়ার জন্য বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকের শেষ উক্তিতে বলা হয়েছে, এর উপস্থিতি ছাড়া গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণ সম্ভব নয়। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো-সবাত শ্বসনে শ্বসনিক বস্তুকে সম্পূর্ণ জারিত করে এবং অধিক পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। অবাত শ্বসনে কোষস্থ কতিপয় এনজাইম এর অনুপস্থিতিতে শ্বসনিক বস্তুকে আংশিক জারিত করে এবং স্বল্প শক্তি উৎপন্ন করে অর্থাৎ মাত্র ২০ কি. ক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়। গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণে অধিক শক্তি উৎপন্ন হয় এবং তা এর উপস্থিতিতে সবাত শ্বসনেই সম্ভব। এক্ষেত্রে গ্লাই-কোলাইসিস, অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি ও ক্রেবস চক্রে অল্প পরিমাণ ATP তৈরি হয়, কিন্তু অধিকাংশ শক্তি তে জমা থাকে। সবাত শ্বসনের ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে এই হতে ইলেকট্রন বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত এর কাছে পৌছায় এবং এ সময় অধিক ATP তৈরি হয়। এ ধরনের ক্রিয়াকে বলা হয় প্রান্তীয় জারণ। এর উপস্থিতিতে প্রান্তীয় জারণের মাধ্যমে সবাত শ্বসনের ১ অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে নীট ৩৮ অণু ATP তৈরি করে, অর্থাৎ ৩৮০ কি. ক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, এর অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণ সম্ভব নয়।
যে প্রক্রিয়ায় আয়ন শোষণের জন্য বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োজন হয় না সেই পরিশোষণই হলো নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ।
সবাত শ্বসনে ইলেকট্রন ট্রান্সপোের্ট সিস্টেমের (ETS) মাধ্যমে এক জোড়া ইলেকট্রন উচ্চ শক্তি মাত্রা হতে নিম্নশক্তি মাত্রায় ক্রমান্বয়ে স্থানান্তরিত হয়। ইলেকট্রনের এ স্থানান্তরের সময় যে শক্তি নির্গত হয় তা দিয়ে ADP এর সাথে ইনঅর্গানিক ফসফেট (Pi) সংযুক্ত হয়ে ATP এ তৈরি করে। ETS-এ ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অক্সিডেটিভফসফোরাইলেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!