উত্তরঃ
মূলধন ব্যয় নির্ণয় যে কোনো কোম্পানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা কোম্পানির মূলধনের উৎসসমূহকে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বৃদ্ধি ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। গড় মূলধন ব্যয় (WACC) হলো একটি কোম্পানির সমস্ত মূলধন উৎস, যেমন সাধারণ শেয়ার, অগ্রাধিকার শেয়ার এবং ঋণ মূলধনের গড় ব্যয়। এটি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত রিটার্ন এবং কোম্পানির ঝুঁকি পরিমাপ করতে সাহায্য করে। উর্মি লিমিটেড কোম্পানির ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধনের প্রয়োজন হওয়ায় পরিচালকের প্রস্তাবিত ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে গড় মূলধন ব্যয়ের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
পরিচালকের প্রস্তাবে রাজি হলে উর্মি লিমিটেড কোম্পানির মূলধন কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং সে অনুযায়ী গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় করা যাবে।
প্রথমে, বিভিন্ন উৎসের মূলধন ব্যয় নির্ণয় করা হলো:
- সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় (\(K_e\)):
\(D_0 = 10\) টাকা, \(g = 5\% = 0.05\), \(P_0 = 250\) টাকা
\(D_1 = D_0(1+g) = 10(1+0.05) = 10.5\) টাকা
\(K_e = \frac{D_1}{P_0} + g = \frac{10.5}{250} + 0.05 = 0.042 + 0.05 = 0.092\) বা \(9.2\%\)
- অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধনের ব্যয় (\(K_p\)):
ধরা হলো '১২ডি অগ্রাধিকার শেয়ার' বলতে 12% লভ্যাংশ হার বোঝানো হয়েছে।
\(D_p = 100 \times 0.12 = 12\) টাকা (লিখিত মূল্যের উপর)
\(P_0 = 150\) টাকা (বাজারমূল্য)
\(K_p = \frac{D_p}{P_0} = \frac{12}{150} = 0.08\) বা \(8\%\)
- ঋণ মূলধনের ব্যয় (\(K_d\)) (কর-পরবর্তী):
সুদের হার \( = 16\%\), কর হার \( = 30\%\)
\(K_d = \text{সুদের হার} \times (1 - \text{কর হার}) = 0.16 \times (1 - 0.30) = 0.16 \times 0.70 = 0.112\) বা \(11.2\%\)
এখন নতুন মূলধন কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি উৎসের আপেক্ষিক ওজন নির্ণয় করা হলো:
- সাধারণ শেয়ার: \(200\) কোটি টাকা
- অগ্রাধিকার শেয়ার: \(200\) কোটি টাকা
- নতুন ঋণ: \(100\) কোটি টাকা
- মোট মূলধন: \(200 + 200 + 100 = 500\) কোটি টাকা
- সাধারণ শেয়ারের ওজন (\(W_e\)): \(\frac{200}{500} = 0.40\)
- অগ্রাধিকার শেয়ারের ওজন (\(W_p\)): \(\frac{200}{500} = 0.40\)
- ঋণের ওজন (\(W_d\)): \(\frac{100}{500} = 0.20\)
অতএব, নতুন গড় মূলধন ব্যয় (WACC) হবে:
\(WACC = (W_e \times K_e) + (W_p \times K_p) + (W_d \times K_d)\)
\(WACC = (0.40 \times 0.092) + (0.40 \times 0.08) + (0.20 \times 0.112)\)
\(WACC = 0.0368 + 0.032 + 0.0224\)
\(WACC = 0.0912\) বা \(9.12\%\)
উর্মি লিমিটেড কোম্পানির পরিচালকের প্রস্তাবে রাজি হলে এবং ১০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করলে কোম্পানির গড় মূলধন ব্যয় \(90\%\) থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে \(9.12\%\) হবে। এটি কোম্পানির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঋণ মূলধন সাধারণত ইক্যুইটি মূলধনের চেয়ে কম ব্যয়বহুল হয়, কারণ ঋণের সুদের উপর কর সুবিধা পাওয়া যায় (যা এখানে \(K_d\) গণনায় প্রতিফলিত হয়েছে)। উচ্চ গড় মূলধন ব্যয় (যেমন \(90\%\)) সাধারণত কোম্পানির জন্য অলাভজনক এবং টেকসই নয়, কারণ এটি নির্দেশ করে যে কোম্পানির তার মূলধন সংগ্রহের জন্য অত্যধিক খরচ হচ্ছে, যা বিনিয়োগের উপর কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন অর্জনে বাধা দেয়। নতুন ঋণের মাধ্যমে মূলধন কাঠামোতে পরিবর্তন আসায়, কম ব্যয়ের উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে, যার ফলস্বরূপ সামগ্রিক মূলধন ব্যয় কমে এসেছে।
গড় মূলধন ব্যয় কমে আসার অর্থ হলো কোম্পানি এখন তার মূলধন আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারবে এবং কম খরচে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের মূল্য বাড়তে পারে এবং কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ কোটি টাকা কম মূলধন ব্যয়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় উর্মি লিমিটেড কোম্পানি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পথ প্রশস্ত হবে। সুতরাং, পরিচালকের প্রস্তাবটি কোম্পানির জন্য অত্যন্ত লাভজনক এবং টেকসই হবে।