ময়না একটি ধানের জাতের নাম যা বোরো বা আউশ মৌসুমে চাষ করা হয়।
যে ধান গাছের সার গ্রহণ করার ক্ষমতা অধিক এবং ফলন বেশি হয় তাকে উফশী ধান বলে। উফশী জাতের ধানের গাছ খাটো, মজবুত ও পাতা খাড়া হয়। শীষের ধান পেকে গেলেও সবুজ থাকে। গাছ খাটো ও হেলে পড়ে না। খড়ের চেয়ে ধানের উৎপাদন বেশি হয়। পাকা ও রোগের আক্রমণ কম হয়। এ জাতের ধানের অধিক কুশি গজায়। এদের সার গ্রহণক্ষমতা অধিক এবং ফলন বেশি হয়।
উদ্দীপকের ধানক্ষেতে টুংরো রোগের কথা বলা হয়েছে। নিম্নে এই রোগের দমন পদ্ধতি আলোচনা করা হলো-
পাতা ফড়িং এ রোগ ছড়ায়, তাই প্রথমত পাতা ফড়িং দমন করতে হবে। আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে সবুজ পাতা ফড়িং মেরে ফেলতে হবে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- চান্দিনা, দুলাভোগ, ব্রিশাইল, গাজী, বিআর ১৬, বিআর ২২, ব্রিধান ৩৭, ব্রিধান ৩৯, ব্রিধান ৪১, ব্রিধান ৪২ চাষ করতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। ব্যাপক আক্রমণ হলে ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করতে হবে। অতএব, উপরিউক্তভাবে টুংরো রোগ দমন করা যায়।
উদ্দীপকের রোগটি হলো ধানের ভাইরাসজনিত টুংরো রোগ।
ধানের চারা রোপণের এক মাসের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে। এতে কুশির সংখ্যা কম হয়। আক্রান্ত পাতা ভূমির দিকে নুয়ে পড়ে। একদিকে পাতার গোড়া বা খোল একত্রে পুরোনো পাতার খোলের মধ্যে আটকে থাকে। ফলে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগের বাহক সবুজ পাতা ফড়িং। পোকার মাধ্যমে ছড়ায় বলে সহজেই ব্যাপক এলাকা এ রোগে ছেয়ে যায়। ফলে ধানের ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকরা অর্থনৈতিক লাভবান হতে পারে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোট কৃষি জমির শতকরা ৭০ ভাগ জমিতেই ধান চাষ করা হয়। টুংরো রোগের কারণে ফসলের ফলন মারাত্মক বিঘ্নত হয় এবং এ রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকটা মহামারীর আকার ধারণ করে। ফলে কৃষক ক্ষেত থেকে কোনো ফসলই তুলতে পারে না।
তাই বলা যায়, ভাইরাসজনিত টুংরো রোগ ধান ফসলের ফলন হ্রাস করে যা দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধক।
Related Question
View Allপালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।
আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।
সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!