সমন্বিত চাষে একই ভূমিতে একই সার্থে অনেকগুলো ফসল একত্রে পরিকল্পনামাফিক চাষ করা হয়।
অর্থাৎ, সমন্বিত চাষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ফসলের জন্য পৃথক কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। যেমন- পুকুরে মাছ ও হাঁস চাষ। এতে অপচয় কম হওয়ায় জমির ব্যবহার সর্বোচ্চ হয়। কেননা জমির পতিত অংশ বা ফাঁকা অংশ কম থাকে বলে এ ধরনের চাষে ভূমির ব্যবহার দ্বিগুণ হয়।
Related Question
View Allপালংশাকের একটি জাতের নাম হলো সবুজ বাংলা।
ইউরিয়া নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার যা পালংশাক চাষে ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া সার গাছকে সবল, সতেজ ও ঘন সবুজ করে। এমনকি সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যোপাদান তৈরি করে। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ কিস্তিতে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করলে গাছ রসালো হয় এবং দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। এতে বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। তাই পালংশাক চাষে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়।
আয়শা বেগম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাড়ির আঙিনায় পালংশাক চাষ করেন।
জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। সাধারণত পচা গোবর, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট, কচুরিপানা, খড়কুটা, আবর্জনা পচা ইত্যাদি জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া সকল সার জমি প্রস্তুতির শেষে দিতে হয়। শুধুমাত্র জৈব সার জমি তৈরির প্রথমে প্রয়োগ করতে হয়। আয়শা বেগম ৫ শতক জমিতে পালংশাক চাষ করেছিলেন। পালংশাকে শতক প্রতি ৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। সে অনুযায়ী আয়শা বেগমের জমিতে ৪০×৫=২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োজন।
অর্থাৎ, আয়শা বেগম তার জমিতে ২০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করেছিলেন।
আয়শা বেগম তার বিলে অবস্থিত জমিগুলোর উঁচু আইলে পালংশাক চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তার এই পরিকল্পনা কৃষি কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
কৃষি প্রধান এ বাংলাদেশে জনসংখ্যার আধিক্যে ফসলি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কৃষি জমি খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার কারণে জমির মাঝখান দিয়ে আইল উঠছে। আইলগুলো ফসলহীন থাকার কারণে কৃষি জমির একটা সিংহভাগ অব্যবহৃত থাকছে।
আয়শা বেগমের বাড়ি বিল অঞ্চলে। এ সব অঞ্চলে সাধারণত শাক- সবজি করার মতো উঁচু জমির যথেষ্ট অভাব। এ ক্ষেত্রে জমির উঁচু আইল সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উঁচু আইলে আগাম পালংশাকের বীজ বপন করা যায়। জমির আইলে পালংশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করলে তা একদিকে যেমন আয়শার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে অন্যদিকে দেশের শাকসবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপরন্তু আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন আয়েশা বেগম।
পরিশেষে বলা যায়, আয়শা বেগমের পরিকল্পনা কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে সমন্বিত চাষ বলে।
চিত্র ক ও খ- এ উল্লিখিত পদ্ধতির মধ্যে চিত্র-খ এর উৎপাদন খরচ কম। চিত্র-ক দ্বারা শুধু মাছ ও চিত্র-খ দ্বারা মাছ ও হাঁসের সমন্বিত চাষ বোঝানো হয়েছে। সমন্বিত চাষে খরচ কম হয়।
খ-পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ার কারণ-
i. বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয় না। তাই জমি ক্রয় বাবদ খরচ কম হয়।
ii. সার ব্যবহারে খরচ কমে। কারণ, হাঁসের বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপন্ন করে।
iii. বাড়তি শ্রমিক লাগে না, তাই শ্রমিক খরচ কম হয়।
iv. খাদ্য বাবদ খরচ কম হয়। যেমন- হাঁস তার কিছু খাবার পানিতে ফেলে দেয়। আবার অনেক মাছ হাঁসের বিষ্ঠা সরাসরি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
V. হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষের মাধ্যমে সম্পদের অপচয় রোধ হয়, ফলে খরচ কমে।
vi. হাঁস ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করার সময় মাটি নাড়াচাড়া করার ফলে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যায়। পোকামাকড় ও ব্যাঙাচি খেয়ে হাঁস পুকুরের পরিবেশ ভালো রাখে।
vii. হাঁস পুকুরে সাঁতার কাটে ফলে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় না। তাই বাইরে থেকে অক্সিজেন সরবরাহজনিত খরচ কমে।
viii. একই স্থান থেকে মাছ, মাংস ও ডিম পাওয়া যায়, কিন্তু বিনিয়োগকৃত সম্পদের ব্যবহার কম হয় বিধায় খরচ কম হয়।
অন্যদিকে চিত্র- ক তে শুধুমাত্র মাছ চাষ করা হয়। ফলে উপরিউক্ত সব ধরনের খরচই করতে হয়। যে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পায়। ফলন হিসেবে শুধু মাছ পাওয়া যায় কিন্তু মাংস বা ডিম পাওয়া যায় না। উপরের আলোচনা হতে বলা যায় যে, সমন্বিত পদ্ধতিতে চাষ করলে জমির দ্বিগুণ ব্যবহার এবং উৎপাদনের তুলনায় খরচ কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!