কমলবন' শব্দটির অর্থ পদ্মবন।
ঘাতকের আস্তানা' বলতে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পরাধীন বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। এখানে ঘাতক হলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও আস্তানা হলো তাদের দ্বারা নির্যাতিত পরাধীন বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি নানাভাবে শাসন-শোষণের শিকার হতে থাকে। শাসকবর্গ এ দেশের মানুষের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অত্যাচার চালাতে থাকে। তাদের এই ঘাতকসম অত্যাচারের জন্যই কবি পরাধীন বাংলাদেশকে ঘাতকের আস্তানা বলেছেন।
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিদ্রোহের দিকটি উদ্দীপকে উঠে এসেছে।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের উপর ব্যাপক নির্যাতন ও অত্যাচার চালিয়েছে। দেশজুড়ে তাদের অমানবিক অত্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন জনজীবনকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবু বাঙালি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে পাকিস্তানিদের সঙ্গে কখনো আপস করেনি। তারা সংগ্রাম করে রক্তের বিনিময়ে তাদের অধিকার ছিনিয়ে এনেছে। আলোচ্য কবিতায় এসব বিষয় চমৎকার ব্যঞ্জনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি পতাকার জন্য বাঙালির সীমাহীন রক্ত ও অশ্রুর কথা উঠে এসেছে। বাঙালি জাতিকে দমন করতে শহর-বন্দরে জলপাই রঙের ট্যাংক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বাঙালি জাতি কোনো কিছুর কাছেই মাথা নত করে না। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একইভাবে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়ও গণ আন্দোলনের সংগ্রামী প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলো এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে প্রগাঢ়তা লাভ করেছে। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তী সময়ে উনসত্তরের গণ আন্দোলনে ভাষা সংগ্রামের চেতনা কীভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল, সে দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে আলোচ্য কবিতাটিতে। সুতরাং, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত গণ আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরায় উদ্দীপকের কবি যেন 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির মূল চেতনাকে ধারণ করে আছে।
মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। তৎকালীন পাকিস্তানি সরকার মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে বাঙালি রক্ত দিয়ে তা রক্ষা করে। ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে আসে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মাধ্যমে কবির মধ্যে এদেশের গণমানুষের সংগ্রামী চেতনার এই দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি পতাকার জন্য বাঙালির সীমাহীন রক্ত ও অশ্রুর কথা উঠে এসেছে। বাঙালি জাতিকে দমন করতে শহর-বন্দরে জলপাই রঙের ট্যাংক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বাঙালি জাতি কোনো কিছুর কাছেই মাথা নত করে না। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। জাতীয়তাবাদী চেতনা বুকে ধারণ করতে পেরেছিল বলেই পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও গভীর স্বদেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে। এ কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে রেহাই পেতে এদেশের মানুষের। মানুষের প্রতিবাদী মনোভাবের পরিচয় ফুটে উঠেছে। এছাড়াও কবিতাটিতে উঠে এসেছে মানুষের প্রতিবাদী চেতনা কীভাবে গণজাগরণে রূপ নেয় সে দিকটি। এই গণজাগরণের পিছনে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে এ বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই বাঙালির আত্মত্যাগের মহান স্মৃতি এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!