বাংলাদেশ যেহেতু কৃষিনির্ভর দেশ। তাই এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষিকে কেন্দ্র করেই করা উচিত। বাংলাদেশ সরকার গ্রামের উন্নয়নের জন্য 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্প চালু করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামের কৃষকরা তাদের নিজ বাড়িতে ফসল উৎপাদন ও মৎস্যচাষ, পশুপালন ও হাঁসমুরগি পালনের মতো উদ্যোগ হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে গ্রাম উন্নয়নসহ সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশে সংকরায়নের মাধ্যমে প্রতিটি গাভী থেকে ২০-২৫ কেজি দুধ উৎপাদনের ফলে ব্যাপকভাবে পারিবারিক পর্যায়ে ডেইরি ফার্ম স্থাপন করেছে। ফলে এ দুধ তারা বিভিন্ন হোটেল, মিষ্টির দোকান এবং বাড়িতে বাড়িতে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গৃহপালিত পশুর চামড়া দিয়ে জুতা, স্যুটকেশ, ব্যাগ এবং হাড় দিয়ে সার, চিরুনি, বিভিন্ন ধরনের খেলনা, গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস, জৈব সার প্রভৃতি তৈরি হচ্ছে। মুরগিকে অধিক উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে সংকরায়ন করে বাণিজ্যিক জাতের (ব্রয়লার) মুরগি সৃষ্টি করেছে। এসব মুরগির মাধ্যমে অধিক ডিম ও মাংস পাওয়ার ফলে পারিবারিকভাবে মুরগির খামার তৈরি করে মানুষ তাদের জীবিকা অর্জন করছে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া, লোম প্রভৃতি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। গরু, মহিষ ইত্যাদির দুধ নিয়ে তৈরি দই, রকমারি মিষ্টি, ঘি, পনির শহরের হোটেলে হোটেলে কাচের আলমারিতে এখনও রসাত্মক খাদ্য হিসেবে শোভা পায়। দেশি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বেশি হলেও ব্রয়লার মুরগির মাংস ও ডিম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে আছে, যা মানুষের আমিষজাতীয় খাদ্যের অভার পূরণ করে সরকারের ঘোষণায় দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি গ্রহণ করে অসংখ্য মানুষ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায়। গাভীপালন এবং হাঁস-মুরগির খামার করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন করছে।
সুতরাং বলা যায়, 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের আওতায় গবাদি পশু ও হাঁসমুরগি পালন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ লাভজনক খাত।
Related Question
View Allভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উপাদন করাকে কৃষি বলে।
যে কৃষি ব্যবস্থায় একই জমিতে বাণিজ্যিক পশুপালন ও মৎস্য চাষ এক সাথে করাকে মিশ্র কৃষি বলে।
এ ধরনের কৃষি ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে লক্ষ করা যায়। এ ব্যবস্থায় কৃষক একই জমি হতে শুধু ফসলই নয়; বরং মাংস, দুধ, মাখন ইত্যাদিও লাভ করে থাকে। মোটর ও রেলযোগে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় উক্ত পণ্যাদি শহরে দ্রুত প্রেরিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে শস্য-১ বলতে ধানকে বোঝানো হয়েছে। ধান
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য যা সারা বিশ্বব্যাপি উৎপদিত হয়। তবে 'এশিয়া মহাদেশে ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, জাপান প্রভৃতি দেশ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে চীন প্রথম ও' ভারত দ্বিতীয়। নিচে এশিয়া মহাদেশে ধানের উৎপাদনের একটি তালিকা দেখানো হলো-
সারণি ৪.১ : পৃথিবীর প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ, ২০১৯
দেশ | উৎপাদন (মিলিয়ন মেট্রিক টন) |
২০১৯ | |
চীন | ১৪৮.৫ |
ভারত | ১১৬.৪২ |
ইন্দোনেশিয়া | ৩৬.৭ |
বাংলাদেশ | ৩৪.৯১ |
ভিয়েতনাম | ২৭.৭৭ |
থাইল্যান্ড | ২০.৩৪ |
মিয়ানমার | ১৩.২ |
ফিলিপাইন | ১১.৭৩ |
জাপান | ৭.৬৬ |
ব্রাজিল | ৭.১৪ |
Source: FAO Statistical Yearbook, 2019
এছাড়া এশিয়ার মধ্যে মালায়শিয়া। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, কম্বোডিয়। তাইওয়ান নেপাল, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলেও ধান উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে শস্য-২ হলো গম। গম সারা বিশ্বের প্রধান খাদ্য শস্য।
তাই অর্থনৈতিকভাবেও গম খুব গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। নিচে গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গম সব ধরনের খাদ্যশস্যের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের প্রায় ৪৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম বিশ্ব বাজারে রপ্তানি হয়। গম উৎপাদনকারী প্রধান দেশসমূহের প্রায় অধিকাংশই কমবেশি গম আমদানি করে ও থাকে। সুতরাং রপ্তানিকারক দেশের সংখ্যা খুবই সীমিত। তাই মুষ্টিমেয় রপ্তানিকারক দেশের ইচ্ছা মোতাবেক গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় থাকে। ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম আমদানি হয়। এ কারণে গমের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। গমের প্রধান প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো হলো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইউক্রেন, রোমানিয়া, জামার্নি রাজখিস্তান। এদের মধ্যে রাশিয়া প্রথম ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়। গমের প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইতালি ব্রাজিল, মিসর, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও তুরষ্ক। এদের মধ্যে মিসর প্রথম ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিতীয়।
পরিশেষে বলা যায় গম বিশ্ব বাজারে প্রধান চাহিদাসম্পন্ন খাদ্যশস্য। তাই সারাবিশ্বের আমদানি ও রপ্তানিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে এ পণ্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
ভূমি কর্ষণ বা চাষ করার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করাকে কৃষি বলে।
উত্তর আমেরিকার কানাডার দক্ষিণাংশ হতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে ওকলাহোমা ও মিসৌরি রাজ্য পর্যন্ত সমগ্র প্রেইরী অঞ্চলকে পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি বলা হয়।
রুটি প্রস্তুতের উপযোগী উন্নতমানের এত অধিক গম পৃথিবীর অন্য কোনো অঞ্চলে উৎপাদিত হয় না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গম উৎপন্ন হয় বলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ গমই রুটি প্রস্তুতের জন্য দেশ-বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়ে থাকে। এ কারণে উত্তর আমেরিকার এ অঞ্চলকে পৃথিবীর 'রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!