চলন্ত মোটর গাড়ির সামনের কাচ ভেজার কারণ হলো এর আপেক্ষিক বেগ (Relative Velocity) এবং গাড়ির গতি দ্বারা সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহ।
যখন একটি মোটর গাড়ি সামনের দিকে চলে, তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো উল্লম্বভাবে নিচে পড়তে থাকে। সামনের কাচের ক্ষেত্রে, গাড়ির সামনের দিকে গতি এবং বৃষ্টির ফোঁটার নিচের দিকে গতির কারণে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো সামনের কাচের দিকে একটি আপেক্ষিক বেগ নিয়ে আসে। অর্থাৎ, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো সামনের কাচের দিকে দ্রুত ধাবিত হয় এবং সরাসরি কাচে আঘাত করে ভেজিয়ে দেয়। গাড়ির গতির কারণে সামনের দিকে উচ্চ চাপ সৃষ্টি হয় যা বৃষ্টির ফোঁটাকে কাচের উপর চাপিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, গাড়ির পিছনের কাচ ভেজে না কারণ পিছনের কাচটি বৃষ্টির ফোঁটা থেকে দূরে সরে যায়। গাড়ির গতির কারণে এর পিছন দিকে একটি নিম্ন চাপ (Low Pressure) অঞ্চল বা শূন্যতা (Vacuum) সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ অঞ্চলের কারণে পিছনের কাচের কাছাকাছি থাকা বাতাস এবং বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গাড়ির গতিপথের সাথে সাথে পিছন দিকে প্রবাহিত হয় বা দূরে সরে যায়। ফলস্বরূপ, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পিছনের কাচে সরাসরি আঘাত করতে পারে না বা পিছনের কাচ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই বাতাসের ঘূর্ণিপ্রবাহ (Vortex) দ্বারা দূরে চালিত হয়ে যায়। এককথায়, পিছনের কাচের সাপেক্ষে বৃষ্টির ফোঁটার আপেক্ষিক বেগ কাচের দিকে না হয়ে কাচ থেকে দূরে থাকে।
আমাদেরকে \(\vec{\nabla} \cdot (\vec{\nabla} \times \vec{V})\) এর মান নির্ণয় করতে হবে। এটি ভেক্টর ক্যালকুলাসের (Vector Calculus) একটি মৌলিক অভেদ (Identity)।
যদি \(\vec{V}\) ভেক্টর ক্ষেত্রটি দ্বিতীয় ক্রমের অবিচ্ছিন্ন অন্তরীকরণযোগ্য (continuously differentiable to the second order) হয়, তাহলে মিশ্র আংশিক ডেরিভেটিভগুলির (mixed partial derivatives) ক্রম পরিবর্তন করা যায়, অর্থাৎ:
\[
\frac{\partial^2 f}{\partial x \partial y} = \frac{\partial^2 f}{\partial y \partial x}
\]
এই ধর্ম ব্যবহার করে পাই:
\(\frac{\partial^2 V_z}{\partial x \partial y}\) এবং \(-\frac{\partial^2 V_z}{\partial y \partial x}\) পরস্পরকে বাতিল করে।
\(-\frac{\partial^2 V_y}{\partial x \partial z}\) এবং \(+\frac{\partial^2 V_y}{\partial z \partial x}\) পরস্পরকে বাতিল করে।
\(+\frac{\partial^2 V_x}{\partial y \partial z}\) এবং \(-\frac{\partial^2 V_x}{\partial z \partial y}\) পরস্পরকে বাতিল করে।
যে কোনো অবিচ্ছিন্নভাবে অন্তরীকরণযোগ্য ভেক্টর ক্ষেত্রের কার্লের ডাইভারজেন্স সর্বদা শূন্য হয়। এটি ভেক্টর ক্যালকুলাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভেদ (identity)।
0
ভেক্টর ক্যালকুলাসে, কোনো ভেক্টর ক্ষেত্রের কার্লের (curl) ডাইভারজেন্স (divergence) সর্বদা শূন্য হয়। এর কারণ হলো, কার্ল অপারেশন একটি নতুন ভেক্টর ক্ষেত্র তৈরি করে যা মূল ক্ষেত্রের ঘূর্ণনকে (rotation) নির্দেশ করে। এই নতুন ভেক্টর ক্ষেত্রের ডাইভারজেন্স নেওয়া হলে, তা সেই ঘূর্ণনের উৎস বা সিঙ্ক (source or sink) আছে কিনা তা পরিমাপ করে, যা গাণিতিকভাবে শূন্য পাওয়া যায়। এই গাণিতিক অভেদটি পদার্থবিজ্ঞানে, বিশেষ করে তড়িৎচুম্বকত্বে (electromagnetism) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এটি চৌম্বক ক্ষেত্র (magnetic field) এর জন্য একটি মূল সমীকরণ, অর্থাৎ চৌম্বক একমের (magnetic monopoles) অস্তিত্ব নেই বলে বোঝায়।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানতে হলে কোন বা কোন ধরনের পরিমাপের প্রয়োজন হয়। পদার্থের যে সব ভৌত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি (quantity) বলে। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, আয়তন, বেগ, কাজ ইত্যাদি প্রত্যেকে এক একটি রাশি। পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত যে কোন রাশিকে ভৌত (physical) রাশি বলে।
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে শুধুমাত্র মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়। আবার অনেক ভৌত রাশি রয়েছে যাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়। তাই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি ; যথা—
(ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar quantity)।
(খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বা সদিক রাশি (Vector quantity)।
(ক) স্কেলার রাশি :
যে সব ভৌত রাশির শুধু মান আছে, কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলে। যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা, তাপ, বৈদ্যুতিক বিভব, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি কেলার বা অদিক রাশি।
(খ) ভেক্টর রাশি :
যে সব ভৌত রাশির মান এবং দিক দুই-ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলে। যেমন সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন ইত্যাদি ভেক্টর বা দিক রাশি।
১.২ ভেক্টর রাশির নির্দেশনা
Representation of a vector
কোন একটি ভেক্টর রাশিকে দুভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যথা- (১) অক্ষর দ্বারা এবং (২) সরলরেখা দ্বারা।
১। অক্ষর দ্বারা কোন একটি ভেক্টর রাশিকে চারভাবে প্রকাশ করা হয়, যথা-
(ক) কোন অক্ষরের উপর তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখা দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। সাধারণভাবে শুধু অক্ষর দ্বারাও রাশিটির মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ | A | বা A
(খ) কোন অক্ষরের উপর রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ । A
(গ) কোন অক্ষরের নিচে রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং মান রূপ | |
(ঘ) মোটা হরফের অক্ষর দিয়ে ভেক্টর রাশি প্রকাশ করা হয়। যেমন A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং এর মান A ভেক্টর রাশি নির্দেশের ক্ষেত্রে (ক)-এ ব্যবহৃত চিহ্নই শ্রেয়। তাই এই বই-এ আমরা এই পদ্ধতিই ব্যবহার করব।
২। সরলরেখা দ্বারা ভেক্টর রাশি নির্দেশ করতে হলে রাশিটির দিকে বা সমান্তরালে একটি সরলরেখা অংকন করে সরলরেখাটির শেষ প্রান্তে একটি তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির দিক এবং কোন স্কেলে উত্ত সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। এ পদ্ধতিকে জ্যামিতিক উপায়ে ভেক্টরের নির্দেশনাও বলে।
চিত্র :১.১
মনে করি, একটি ভেক্টর রাশির মান 5 এবং এর দিক পূর্ব দিক। একে সরলরেখা দ্বারা প্রকাশ করতে হবে। এখন AC একটি সরলরেখা পূর্ব- পশ্চিম দিক বরাবর অংকন করে AC সরলরেখা হতে সুবিধামত দৈর্ঘ্যকে একক ধরে এর 5 গুণ দৈর্ঘ্য AB কেটে নিই এবং AB-এর শেষ প্রান্তে পূর্ব দিকে তীর চিহ্ন যুক্ত করি [চিত্র ১:১]। এই তীর চিহ্নিত সরলরেখাই ভেক্টর রাশিটি নির্দেশ করবে। ভেক্টর রাশি নির্দেশী সরলরেখার তীর চিহ্নিত প্রান্ত B-কে শীর্ষবিন্দু বা অন্ত বিন্দু এবং অপর প্রান্ত A-কে আদিবিন্দু বা মূলবিন্দু বা পাদবিন্দু বলে।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!