পানির পিএইচ হলো পানির অম্ল বা ক্ষার বা নিরপেক্ষ অবস্থা।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির পিএইচ ৬.৫ হতে ৮.৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়। পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন (১-২ কেজি/শতক) প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে ক্ষারীয় অবস্থা বেশি বেড়ে গেলে এমোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল পানিতে গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এভাবে আদর্শ পুকুরের pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উদ্দীপকের মৎস্য চাষিদের পুকুরে প্রয়োগকৃত উপাদানটি হলো সার। সার দুই প্রকার। যথা- (ক) জৈব সার: যেমন- গোবর, হাঁস- মুরগির বিষ্ঠা এবং (খ) অজৈব সার: যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি। চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল থেকে পুকুরের মধ্যে সার প্রয়োগ করা উচিত। সার পানিতে গুলে সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হয়। সার প্রয়োগের ফলে পানিতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- ফসফরাস, পটাশিয়াম পানিতে মিশে। এ পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে পানিতে ফাইটোপ্লাংকটন তৈরি হয়। আর ফাইটোপ্লাংকটনের উপর নির্ভর করে জু-প্লাংকটন তৈরি হয়।
পুকুর প্রস্তুতির সময় সার প্রয়োগের মাত্রা:
| জৈব সার | অজৈব সার | ||
| সারের নাম | মাত্রা (শতক প্রতি) | সারের নাম | মাত্রা (শতক প্রতি) |
গোবর অথবা মুরগির বিষ্ঠা | ৫-৭ কেজি | ইউরিয়া | ১০০-১৫০ গ্রাম |
| টিএসপি | ৫০-৭৫ গ্রাম | ||
| ৩-৪ কেজি | এমওপি | ২০ গ্রাম | |
উপরোক্ত আলোচনা হতে পুকুরে সারের প্রকারভেদ ও পুকুর প্রস্তুতির সময় এর প্রয়োগমাত্রা জানা যায়।
সরোয়ার স্যার শিক্ষার্থীদেরকে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা পদ্ধতিগুলো শেখালেন। পুকুরে পোনা মজুদের পূর্বেই সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হয়। কয়েকটি পদ্ধতিতে এটি করা যায়:
i. সেক্কিডিস্ক: ২০ সেমি ব্যাসযুক্ত টিনের একটি সাদা-কালো থালা (একে সেক্কিডিস্ক বলে) সুতা দ্বারা পানিতে ডুবানোর পর যদি ২৫- ৩০ সেমি গভীরতায় থালা না দেখা যায় তবে বুঝতে হবে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য রয়েছে। যদি ৩০ সেমি এর অধিক গভীরতায় সেক্কিডিস্ক দেখা যায় তবে বুঝতে হবে খাবার অনেক কম।
ii. হাত পরীক্ষা: পানিতে হাতের কনুই পর্যন্ত ডুবিয়ে যদি হাতের তালু দেখা না যায় তবে বুঝতে হবে খাদ্য পরিমাণমতো তৈরি হয়েছে।
iii. গ্লাস পরীক্ষা: একটি স্বচ্ছ কাচের গ্লাস দ্বারা পুকুরের পানি নিয়ে সূর্যের আলোর দিকে ধরলে যদি পানির রং সবুজ বা বাদামি সবুজ দেখা যায় এবং পানিতে অসংখ্য সূক্ষ্ম কণা ও ছোট পোকার মতো দেখা যায় তবে বুঝতে হবে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পরিমাণমতো তৈরি হয়েছে।
উপরের যে কোনো একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!