মাইকেল মধুসূদন দত্তের মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী।
'স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে' বলতে বোঝানো হয়েছে বিধাতা চাঁদকে নিশ্চল আকাশে স্থাপন করেছেন।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদের সঙ্গে কথোপকথনে বিভীষণ নিজেকে রাঘবদাস হিসেবে অভিহিত করেন। এ কথা শুনে মেঘনাদ বিভীষণকে তার নিজের বংশমর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তার মতে, বিধাতা যেমন চাঁদকে মাটি থেকে অনেক উপরে নিশ্চল আকাশে স্থাপন করেছেন, তেমনই তাদের বংশমর্যাদাও অতুলনীয়। এমন মর্যাদার অধিকারী হয়েও বিভীষণ কীভাবে নিজেকে রাঘবদাস বলেন তা মেঘনাদের মনে বিস্ময় জাগায়। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।
আদর্শগত দিক থেকে উদ্দীপকের ঈশা খাঁর সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় লক্ষ্মণকে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ কবিতায় লক্ষ্মণ এক সুযোগসন্ধানী ও ধূর্ত 'চরিত্র। সে মিত্র বিভীষণের সহায়তায় গোপনে শত্রুপুরী লঙ্কায় প্রবেশ করে। প্রার্থনারত নিরস্ত্র ও অপ্রস্তুত মেঘনাদকে সে যুদ্ধে আহ্বান করে।
উদ্দীপকে বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র ঈশা খাঁর মহানুভবতার একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলার বিখ্যাত বারোভূঁইয়াদের প্রধান এবং বীরযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন তাঁর তরবারির আঘাতে হঠাৎ মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেলে তিনি নিরস্ত্র মানসিংহকে আঘাত করেননি। নিজের কোষ থেকে একটি ভালো তরবারি উপহার দিয়ে তাঁকে পুনরায় যুদ্ধে আহ্বান করেন। তাঁর চরিত্রের এই নৈতিক আদর্শের দিকটি আলোচ্য কবিতার লক্ষ্মণের আচরণে পরিলক্ষিত হয় না। এদিক থেকে উদ্দীপকের ঈশা খাঁর সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার লক্ষ্মণের বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবনা স্বদেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধ, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় কবি স্বদেশ ও স্বজাতির সঙ্গে বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার এক মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি কবিতাটিতে দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত বীর যোদ্ধা মেঘনাদের জবানিতে বিভীষণের এরূপ অবস্থানের নিরর্থকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বাংলার বীর যোদ্ধা ঈশা খাঁর বিরোচিত আদর্শের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেলে তিনি তাঁকে সহজেই হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তেমনটি করেননি। উপরন্তু তাঁকে আরেকটি ভালো তরবারি উপহার দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে আহ্বান জানান। তাঁর এই নৈতিকতা ও আদর্শের দিকটি মেঘনাদের প্রতি লক্ষ্মণের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেও কবিতাটির মূলভাবনা তা নয়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতাটি আদর্শ ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব নিয়ে রচিত। এ কবিতার অন্যতম প্রধান চরিত্র বিভীষণ ধর্ম ও নৈতিকতার প্রশ্নে শত্রু রামের পক্ষাবলম্বন করেন। অপরপক্ষে তাঁরই ভ্রাতুষ্পুত্র বীর মেঘনাদ এ সবকিছুর বিপরীতে দেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধকেই প্রাধান্য দিয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে সে ধর্মের উদ্ধৃতি দিয়ে দেখিয়েছে যে স্বদেশ ও স্বজাতিপ্রীতি ধর্মেরই অঙ্গ। আর তাই স্বজাতি-বিদ্বেষকে ধর্মও সমর্থন করে না। আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত এমন ভাবনার বিপরীতে উদ্দীপকটিতে কেবল বীরধর্মের বিষয়টিই স্থান পেয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!