উত্তরঃ
রাষ্ট্র 'B' তে সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ (প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস) সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হওয়ায় তা সঠিক নয়। এই ধরনের পদক্ষেপ একটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শাসনের জন্ম দিতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে।
প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ: 'B' রাষ্ট্রের সরকার প্রশাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। এটি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের (decentralization) বিপরীত। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিকেন্দ্রীকরণ স্থানীয় সরকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করে তোলে। কেন্দ্রীভূত প্রশাসন সাধারণত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ায়, জবাবদিহিতা হ্রাস করে এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। এটি নাগরিক পরিষেবার গুণগত মানকেও প্রভাবিত করতে পারে, কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জনগণের থেকে দূরে চলে যায়।
বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস: 'B' রাষ্ট্রের সরকার বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস করেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা পৃথকীকরণ (separation of powers) নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Montesquieu এর তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ (শাসন, আইন ও বিচার) একে অপরের উপর নজরদারি ও ভারসাম্য (checks and balances) বজায় রাখে। বিচার বিভাগ ও আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস করলে সরকারের জবাবদিঠা কমে যায় এবং নির্বাহী বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে আইনের শাসন (rule of law) ব্যাহত হয়, নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং সংবিধানের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না থাকে, তবে তা জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করতে পারে না। একইভাবে, আইনসভা দুর্বল হলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, কারণ তারা নির্বাহী বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না।
পক্ষান্তরে, 'A' রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স (e-governance) চালু, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং ক্ষমতা নিম্নতর পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার (ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ) মাধ্যমে সুশাসন ও জনগণের ক্ষমতায়নের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে। 'A' রাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলো আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
উপসংহারে বলা যায়, 'B' রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ (প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সুশাসনের পরিপন্থী। এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, জনগণের কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তাই এই সিদ্ধান্তসমূহকে কোনোভাবেই সঠিক বলে মূল্যায়ন করা যায় না।