‘A’ রাষ্ট্রে সরকারের গৃহীত উদ্যোগসমূহ সফল হলে সুশাসন (Good Governance) নিশ্চিত হবে।
সুশাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনানুগ শাসন, অংশগ্রহণ, দক্ষতা ও কার্যকারিতার মতো মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলে। ‘A’ রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপই সুশাসনের উপাদানগুলোকে শক্তিশালী করে।
- ই-গভর্নেন্স চালু: এটি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনবে, দুর্নীতির সুযোগ কমাবে এবং জনগণের কাছে সরকারি সেবা দ্রুত পৌঁছে দেবে, যা সুশাসনের অন্যতম শর্ত।
- প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা দক্ষ ও জনমুখী হবেন, যা সরকারি সেবার মান উন্নত করবে এবং জনগণের আস্থা বাড়াবে। এটি প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে।
- তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন: এই আইন জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করে, যা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করে। জনগণ সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রশাসনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
- ক্ষমতা নিম্নতর পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া (বিকেন্দ্রীকরণ): এটি স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এর ফলে প্রশাসন আরও জনমুখী ও কার্যকর হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের প্রভাব বাড়ে, যা সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সুতরাং, 'A' রাষ্ট্রের এই উদ্যোগগুলো প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে একটি স্থিতিশীল ও জনবান্ধব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি।
Related Question
View Allজবাবদিহিতা হলো কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাদের দায়িত্ব ও কর্মের ফলাফল সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কার্যাবলির জন্য দায়বদ্ধ থাকার প্রক্রিয়া। এটি সুশাসনের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।
জবাবদিহিতা (Accountability) মূলত দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার ধারণার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর মাধ্যমে সরকার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংস্থা জনগণের কাছে তাদের গৃহীত নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মের জন্য দায়বদ্ধ থাকে। একটি জবাবদিহিমূলক সরকার বা প্রশাসন তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে উত্তর দিতে বাধ্য থাকে এবং তাদের কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম হলে তার দায়ভার গ্রহণ করে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সমাজে:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা: সরকারের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- জনগণের অধিকার সুরক্ষা: জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তা লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার চাইতে পারে।
- দুর্নীতি হ্রাস: সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়ায় দুর্নীতি ও অপচয় কমানো সম্ভব হয়।
- কার্যকারিতা বৃদ্ধি: দায়িত্বশীলতা বাড়ার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ: জবাবদিহিতা জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থা বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন আইন ও পদ্ধতি যেমন - তথ্য অধিকার আইন (Right to Information Act), স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী আইনসভা, অডিট ব্যবস্থা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। প্রদত্ত উদ্দীপকে 'A' রাষ্ট্রের সরকার ই-গভর্নেন্স, প্রশিক্ষণ, তথ্য অধিকার আইন ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সুশাসনের লক্ষণ। অন্যদিকে, 'B' রাষ্ট্রের কেন্দ্রীকরণ এবং বিচার বিভাগ ও আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস জবাবদিহিতার পরিপন্থী।
একসেস টু ইনফরমেশন (A2I) প্রোগ্রাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর মূল লক্ষ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে সাধারণ নাগরিকেরা সহজে, স্বল্প সময়ে ও কম খরচে প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। A2I বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রক্রিয়াকে সহজ ও উন্নত করেছে, যেমন – জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC), ই-সেবা প্ল্যাটফর্ম, নাগরিক সেবা হটলাইন (৩৩৩) ইত্যাদি। এই উদ্যোগগুলো সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি তথ্য অধিকার আইন (Right to Information Act) বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখে, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারি তথ্যে প্রবেশাধিকার লাভ করে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
রাষ্ট্র 'B' তে সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ (প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস) সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হওয়ায় তা সঠিক নয়। এই ধরনের পদক্ষেপ একটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শাসনের জন্ম দিতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে।
প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ: 'B' রাষ্ট্রের সরকার প্রশাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। এটি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের (decentralization) বিপরীত। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণকে সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিকেন্দ্রীকরণ স্থানীয় সরকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করে তোলে। কেন্দ্রীভূত প্রশাসন সাধারণত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ায়, জবাবদিহিতা হ্রাস করে এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। এটি নাগরিক পরিষেবার গুণগত মানকেও প্রভাবিত করতে পারে, কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জনগণের থেকে দূরে চলে যায়।
বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস: 'B' রাষ্ট্রের সরকার বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস করেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা পৃথকীকরণ (separation of powers) নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Montesquieu এর তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ (শাসন, আইন ও বিচার) একে অপরের উপর নজরদারি ও ভারসাম্য (checks and balances) বজায় রাখে। বিচার বিভাগ ও আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস করলে সরকারের জবাবদিঠা কমে যায় এবং নির্বাহী বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে আইনের শাসন (rule of law) ব্যাহত হয়, নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং সংবিধানের মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না থাকে, তবে তা জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করতে পারে না। একইভাবে, আইনসভা দুর্বল হলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে, কারণ তারা নির্বাহী বিভাগের উপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না।
পক্ষান্তরে, 'A' রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স (e-governance) চালু, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং ক্ষমতা নিম্নতর পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার (ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ) মাধ্যমে সুশাসন ও জনগণের ক্ষমতায়নের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে। 'A' রাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলো আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
উপসংহারে বলা যায়, 'B' রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ (প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ, বিচার বিভাগ এবং আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সুশাসনের পরিপন্থী। এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, জনগণের কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তাই এই সিদ্ধান্তসমূহকে কোনোভাবেই সঠিক বলে মূল্যায়ন করা যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!