কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম বা দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হলে মাটিতে যে রসের ঘাটতি দেখা দেয় সে অবস্থাকে খরা বলে।
আবহাওয়া হলো প্রতিদিনের প্রতিমূহূর্তের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা। অন্যদিকে জলবায়ু হলো বায়ুমণ্ডলের ২০-৩০ বছরের গড় অবস্থা।
আবহাওয়া অল্প সময়ের পরিস্থিতির ফলাফল কিন্তু জলবায়ু দীর্ঘ সময়ের পরিস্থিতির ফলাফল। আবহাওয়া মোট সূর্যালোক ঘন্টার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, জলবায়ু মোট সূর্যালোক ঘন্টা ও দিনের দৈর্ঘ্য উভয়ের ওপর নির্ভর করে।
আবহাওয়া দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় মাটির গঠন নিয়ন্ত্রিত হয় না। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় মাটির গঠন ও স্থায়ী গুণাবলি জলবায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
উদ্দীপকের রায়হানের বাবা তার জমিতে ধান চাষ করেন। ধান চাষের ওপর তাপমাত্রার প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা ধানের ফলনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কতকগুলো একই জাতের ধানের বিভিন্ন মৌসুমে তাপমাত্রার প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেমন- বিপ্লব (BR-3) ধানের চারা নভেম্বরে রোপণ করলে ডিসেম্বর-জানুয়ারির অধিক ঠান্ডা অর্থাৎ, কম তাপমাত্রার জন্য চারার বৃদ্ধি স্তিমিত হয়ে পড়ে এবং জীবনচক্রকাল প্রায় ১৭৫ দিনে দাঁড়ায়। আবার, এপ্রিলে চারা রোপণ করলে কম ঠান্ডা অর্থাৎ অধিক তাপমাত্রার (৯০০-১০০০ ফা.) জন্য মাত্র ১২৫-১৩০ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব হয়। এই ধান ৫০° ফা. তাপমাত্রা এর নিচে বেশি দিন থাকলে ধান গাছ হলুদ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কুশি হতে ছড়া বের হতে পারে না, চিটা ধানের পরিমাণ বেড়ে যায়। আউশ ধান দিন নিরপেক্ষ হলেও গরমের সময় এর ফলন বেশি হয়। অধিক ঠান্ডায় (৭০° ফা.-এর নিচে) গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলন অনেক কমে যায়। অধিক তাপমাত্রা (৪০° সে. এর উপর) ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায়। কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় পরাগরেণু অকেজো হয়ে পড়ে এবং গর্ভধারণ সংঘটিত হয় না। ধানের ছড়া বের হওয়ার সময় একে ৪১° সে. তাপমাত্রায় ১ ঘণ্টা রাখলে গর্ভধারণ শূন্যে নেমে যায়। পক্ষান্তরে, ৩৮০ সে. তাপমাত্রায় ১ ঘণ্টার ওপরে রাখলেও ৫০ হতে ৬০ ভাগ গর্ভধারণ সংঘটিত হয়ে থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রায়হানের বাবার চাষকৃত ফসলের ওপর তাপমাত্রার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে রায়হানের বাবা ব্রি ধান ৪১ জাতটি চাষ করেন। ব্রি ধান ৪১ একটি লবণাক্ত সহিষ্ণু ধানের জাত যা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবিত। রায়হানদের বাড়ি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বিরাজ করায় এ এলাকায় অন্য জাতের ধান চাষ করা লাভজনক হবে না। তাই রায়হানের বাবা ব্রি ধান ৪১ রোপণ করে থাকেন।
আরেকটি কারণ হলো ধানের দিবা দৈর্ঘ্য। কোনো স্থানের আবহাওয়া এবং শস্যের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব অপরিসীম। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু উদ্ভিদ আছে যাদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপাদনের ওপর আলোক সময়ের কোনো ভূমিকা নেই। এদের আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ বলে।ব্রি ধান ৪১ হলো আলোক নিরপেক্ষ। যেহেতু উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া পরিবর্তনশীল তাই এ এলাকায় দিবস নিরপেক্ষ ব্রি ধান ৪১ রোপন করা ভালো। এসব কারণেই রায়হানের বাবা ব্রি ধান ৪১ রোপণ করেন।
অতএব, রায়হানের বাবার চাষকৃত ধানের জাতটি নির্বাচন সঠিক ছিল।
Related Question
View Allজিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।
কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।
বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।
তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
i. স্বল্প দিবস ফসল
ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও
iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।
যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!