Civitas শব্দের অর্থ নগররাষ্ট্র।
পৌরনীতি সামাজিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আধুনিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের আচরণ, কার্যাবলি এবং তাদের বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারাবাহিক পর্যালোচনার মাধ্যমে যে শাস্ত্র আদর্শ নাগরিক জীবনের ইঙ্গিত দান করে, তাই হলো পৌরনীতি।
উদ্দীপকের জব্বার স্যার ক্লাসে নাগরিকদের অধিকার, কর্তব্য, সাম্য, স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। ক্লাসে জব্বার স্যারের আলোচিত বিষয়গুলো পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে সৃদৃশ্যপূর্ণ।
পৌরনীতি নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান। যা কিছু নাগরিক জীবনকে স্পর্শ করে তার সকল দিক নিয়েই পৌরনীতি আলোচনা করে। পৌরনীতি পাঠের ফলে নাগরিক বুদ্ধিমান, 'আত্মংযমী, বিবেকবান, নিষ্ঠাবান হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে সামাজিক স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠে। পৌরনীতি পাঠের ফলে মানুষের মনের গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, সংকীর্ণতা, দীনতা, কুসংস্কার প্রভৃতি দূর হয় এবং দৃষ্টিভঙ্গি উদার ও প্রসারিত হয়। প্রত্যেক নাগরিক তার কর্তব্য কী কী, কেন কর্তব্য পালন করতে হয় ইত্যাদি বিষয়ও পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানতে পারে। এছাড়াও মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য কিছু কিছু সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার একান্ত প্রয়োজন। পৌরনীতি পাঠের ফলে নাগরিকগণ তাদের এসব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সম্পর্কে অবহিত ও সচেতন হতে পারে। মোটকথা, উত্তম নাগরিকতা অর্জনের শিক্ষা পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে লাভ করা যায় পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের এসব উপযোগিতাই জব্বার স্যারের উদ্দীপকের রফিককে আকৃষ্ট করে।
শুধু রফিককে নয়, সকল নাগরিকেরই পৌরনীতি ও সুশাসন। বিষয় অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। । সকল নাগরিকের পৌরনীতি পাঠের
প্রয়োজনীয়তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে নাগরিক বুদ্ধিমান, আত্মসংযমী, বিবেকবান, নিষ্ঠাবান হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে সমষ্টিগত স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠে। পৌরনীতির জ্ঞান মানুষকে সুসভ্য ওসুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
২. সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নির্ভর করে নাগরিকের স্বচ্ছ, উদার ও সুষ্ঠু দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। পৌরনীতি পাঠে মানুষের মনের গোঁড়ামি, অন্ধ বিশ্বাস, সংকীর্ণতা, দীনতা, কুসংস্কার, পরশ্রীকাতরতা প্রকৃতি দূর হয় এবং দৃষ্টিভঙ্গি উদার ও প্রসারিত হয়।
৩. পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠে মানুজের রাজনৈতিক জ্ঞান ও নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
৪. পৌরনীতি পাঠের ফলে নাগরিকগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত হয় ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হয়।
৫. পৌরনীতি গণতন্ত্রের প্রকৃতি, প্রকারভেদ, দোষগুণ এর সফলতার শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনার ফলে জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
৬. নেতৃত্ব কী, কীভাবে নেতৃত্ব লাভ করা যায়, নেতৃত্বের আবশ্যকীয় গুণাবলি কী কী, নেতৃত্ব অর্জনে সমস্যা কী কী, কীভাবে সেসব সমস্যা দূর করা যায়- এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে পৌরনীতি ও সুশাসন সুযোগ্য নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করে থাকে।
সুতরাং বলা যায়, সুন্দর ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবন গড়ে তুলতে এবং সুনাগরিকতার শিক্ষা অর্জন করতে, হলে পৌরনীতির জ্ঞান অর্জন খুবই প্রয়োজনীয়। তাই শুধু রফিক নয়- সকল নাগরিকেরই পৌরনীতি অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!