সুস্থতা ও মানসিক তৃপ্তি বজায় রাখার জন্য গৃহের ভিতরের মতো এর বাইরের স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
গৃহের বাইরের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখার জন্য যে সব ব্যবস্থা থাকতে হবে-
- আঙিনায় ঝরে পড়া পাতা, শুকনা ডাল ইত্যাদি সরিয়ে ফেলা।
- গৃহের চারপাশে ঝোপঝাড় না হতে দেওয়া।
- ঘাস কাটা ও আগাছা পরিষ্কার করা।
- ছাদ বা চালা পরিষ্কার রাখা।
- নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি।
বহিরাঙ্গনে বড় গাছ থাকলে, বছরে একবার ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছের ভালো বৃদ্ধি হয়, বাড়িঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। ঘরের ছাদ বা চালা সপ্তাহে একদিন ভালো করে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছাদে পানি জমে ঘরের দেয়াল, সিলিং স্যাঁতসেতে হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। টিনের চালা ফুটো হয়ে গেলে তা মেরামত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন টিন লাগাতে হবে।
বহিরাঙ্গনে বড় গাছ থাকলে, বছরে একবার ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছের ভালো বৃদ্ধি হয়, বাড়িঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। ঘরের ছাদ বা চালা সপ্তাহে একদিন ভালো করে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছাদে পানি জমে ঘরের দেয়াল, সিলিং স্যাঁতসেতে হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। টিনের চালা ফুটো হয়ে গেলে তা মেরামত করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন টিন লাগাতে হবে।
শহরাঞ্চলে নালা-নর্দমার সাহায্যে বাড়ির ময়লা পানি, তরল বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে মাটির নিচের বড় পাইপে যেয়ে পড়ে। নালা-নর্দমার উপরিভাগ খোলা থাকলে নিয়মিত এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। বাড়ির আবর্জনা, পলিথিনের ব্যাগ ইত্যাদি নালায় ফেললে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ময়লা পানি উপচে পড়ে পরিবেশকে দূষিত করবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। লম্বা হাতওয়ালা ব্রাশ, বাঁশের চটা ইত্যাদি দিয়ে আমরা প্রতিদিন নালা-নর্দমার পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখব। জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য মাঝে মাঝে ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে।
বাড়ির আঙিনায় কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সেজন্যে মাটিতে পানি সরে যাবার নালা তৈরি করে দিতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। ফলে ডেঙ্গুজ্বর হবার আশঙ্কা থাকে।
অনিক মাঝে মাঝেই স্কুলে যায় না। প্রায় সারা বছরই সে সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত থাকে। ফলে তার মন ভালো থাকে না। কোনো কাজেই আনন্দ পায় না। বন্ধুরা একদিন ওর বাড়িতে যেয়ে দেখল, বাড়িটা খুবই স্যাঁতসেতে ও অন্ধকার। বাড়িটার আঙিনায় বড় বড় গাছের ডালপালা কাটা হয় না বলে সূর্যের আলো, বাতাস সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। বাড়ির পরিবেশটা স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় অনিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকতে হলে গৃহের ভিতর ও বাইরের সব পরিবেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

| কাজ-১ : গৃহের বাইরের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখতে তুমি তোমার পরিবারকে কীভাবে সাহায্য করতে পার? কাজ-২ : সহপাঠীরা মিলে তোমরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গন পরিষ্কার করবে। কে কী কাজ করবে তার একটা তালিকা তৈরি করো। |
Related Question
View Allযেসব কাজ বছরে একবার করা হয় তাকে বাৎসরিক কাজ বলে। আসবাবপত্র রং করা, বড় বড় আসবাবপত্র সরিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা, বাড়ি মেরামত ও চুনকাম করা, বাক্সে বা আলমারিতে তোলা কাপড়, কাঁথা, লেপ, তোশক, কম্বল রোদে দেওয়া এগুলো বাৎসরিক কাজের মধ্যে পড়ে। এছাড়াও কাচের বা কাঠের আলমারি বা বাক্সে তোলা কাচের প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি ধোয়া ও মোছা বাৎসরিক কাজের মধ্যে পড়ে।
আলোচ্য উদ্দীপকে শাহানার বাড়িতে বহিরাঙ্গন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। তার বাড়ির আঙিনায় বড় গাছের শুকনা পাতা বা শুকনা ডাল পড়ে ঢেকে আছে। ঝোপঝাড় বড় হয়েছে। ফলে সেখানে পোকামাকড়, ইঁদুর ইত্যাদির উপদ্রব শুরু হবে। তার বাড়ির পাশে খোলা নালা-নর্দমার ময়লা পানি, তরল বর্জ্য পদার্থ উপচে বাড়ির আঙিনায় চলে আসে। এ রকম উপচে পড়া পানি পরিবেশকে দূষিত করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেক সময় এ সমস্ত অপরিষ্কার পানি জমে থাকে বলে সেখানে মশামাছি ডিম পাড়ে। আবার গাছপালা ঠিকমতো না কাটার কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না। বাড়ি স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে। বাড়ির ভিতরে যেমন পরিষ্কার রাখা জরুরি, একইভাবে বাড়ির বাইরেও পরিষ্কার করা উচিত। বহিরাঙ্গন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে একদিকে যেমন বাড়ির শ্রীবৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে বাড়ির পরিবেশটা স্বাস্থ্যসম্মত হয়।
আলোচ্য উদ্দীপকে শাহানার গৃহ পরিবেশ সুস্বাস্থ্যের অন্তরায়। কারণ শাহানা বাড়ির চারপাশের বেঝাপঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে না। বড় গাছের শুকনা ডাল পাতা ঝরে পড়ে থাকে। ফলে সেখানে পোকামাকড় ও ইঁদুর ইত্যাদির উপদ্রব বাড়ে। এসব পোকামাকড় সুস্বাস্থ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে। আবার শাহানার বাড়ির পাশে খোলা নর্দমার ময়লা পানি তার বাড়ির আঙিনায় চলে আসে। এসব ময়লা পানিতে বাড়ির নানা ধরনের আবর্জনা, পলিথিন ব্যাগ ইত্যাদি থাকে, যা পরিবেশকে দূষিত করে। এ রকম ময়লা জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করে। ফলে ডেঙ্গুজ্বর হওয়ার ভয় থাকে। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানুষ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুজ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শাহানার বাড়ির আশপাশে নানা প্রকার ঝোপঝাড় থাকায় তার বাড়িতে সূর্যের আলো ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারে না। যার কারণে বাড়ির পরিবেশ সবসময় স্যাঁতসেঁতে থাকে। ফলে সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশা ও মাছির উপদ্রব বেশি হয়। আর এগুলো রোগজীবাণুর বাহন হিসেবে কাজ করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, শাহানার গৃহ পরিবেশ সুস্বাস্থ্যের অন্তরায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!