সরকার কর ও শুল্ক ছাড়া আরও অনেক উৎস (লভ্যাংশ ও মুনাফা, সুদ, জরিমানা) হতে রাজস্ব সংগ্রহ করে। এই উৎসগুলো থেকে অর্জিত রাজস্বকে কর বহির্ভূত রাজস্ব বলে।
উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্ব দূর করতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবেলা করতে ঘাটতি বাজেট সহায়ক। তাই আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করা হয়।
এনাম সাহেব একজন উৎপাদনকারী হওয়ায় তার প্রদানকৃত করটি আবগারি শুল্কের অন্তর্ভুক্ত।
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, এনাম সাহেব সিলেটে তার কারখানায় চা প্রক্রিয়াজাত করেন। তিনি তার উৎপাদিত পণ্য (চা) এর ওপর প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। তার প্রদানকৃত করটি উৎপাদিত পণ্যের ওপর ধার্যকৃত। তাই আবগারি শুল্কের সংজ্ঞানুযায়ী একে আবগারি শুল্ক বলে। সুতরাং, আমরা বলতে পারি, এনাম সাহেব যে ধরনের কর প্রদান করেন, তা হলো আবগারি শুল্ক।
এনাম সাহেবের মতো তার বন্ধুও যদি সঠিকভাবে কর প্রদান করে তাহলে সরকারের আয়ের পরিমাণ বাড়বে, যা দেশটির আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়ক হবে।
বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য থাকে জনকল্যাণ তথা দেশের সমৃদ্ধি সাধন করা। এজন্য বর্তমানে সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। যা মূলত সরকার বিভিন্ন উৎস হতে সংগ্রহ করে। আর এই ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যদি সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস (যেমন, কর রাজস্ব ও কর বহির্ভূত রাজস্ব) হতে সংগ্রহ করে, তবে সরকারকে বৈদেশিক সাহায্য ও অনুদানের উপর নির্ভর করতে হয় না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, এনাম সাহেব একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের জন্য সরকারকে সঠিকভাবে (আবগারি শুল্ক) কর প্রদান করেন। যা সরকারের আয় বৃদ্ধি করে। এখন, যদি তার মতো সকলেই সঠিকভাবে কর প্রদান করে, তবে সরকারের আয় বহুগুণে বেড়ে যাবে। আর, সরকার প্রাপ্ত আয় থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন মাফিক ব্যয় করতে পারবে। যা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে সমৃদ্ধি বা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, সরকার যখন ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অর্থ বৈদেশিক উৎস হতে সংগ্রহ করে, তখন দাতারা বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করে দেয়। যা দেশের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, এনাম সাহেবের মতো অন্যান্যরাও (তার বন্ধু) কর প্রদান করলে দেশ নিশ্চিতভাবেই আত্মনির্ভরশীল হবে।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!