যে প্রক্রিয়ার দ্বারা বেপরোয়া আচরণ করার প্রবণতার হ্রাস ঘটানো হয় তাকে শান্তি বলে।
বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়।
বংশগতি একাধারে মিল-অমিলের বাহক বলে সন্তানের পিতামাতার ও পূর্বপুরুষের বেশ কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও সে কখনও অবিকল তাদের মতো হয় না। বংশগতি পিতামাতার সাথে সন্তানের সাদৃশ্য নিশ্চিত করলেও পরিপূর্ণ সাদৃশ্য সৃষ্টি করে না।
এ্যালিনা প্রামাণিকের স্বামী তার সন্তানের জন্ম-পূর্ব পরিবেশের দুটি উপাদানের যথা- মায়ের স্বাস্থ্য ও মায়ের পুষ্টির প্রভাব নিয়ে চিন্তিত।
মায়ের স্বাস্থ্যের সাথে শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। মা যদি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন তা হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। একজন অসুস্থ মায়ের কাছ থেকে কখনো একজন সুস্থ সবল সন্তান আশা করা যায় না। মায়ের কতকগুলো বিশেষ রোগ যেমন: যক্ষ্মা, সিফিলিস, গনোরিয়া, ডায়াবেটিকস, জার্মান হাম প্রভৃতি। যার ফলে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়াও মায়ের পুষ্টির সাথে শিশুর পুষ্টির বিষয়টি জড়িত। মায়ের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে গর্ভস্থ শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হবে। এজন্যে গর্ভবতী মাকে আমিষ, শর্করা, স্নেহজাতীয় এবং ভিটামিনযুক্ত খাদ্য বেশি পরিমাণে দিতে হবে।
উদ্দীপকের এ্যালিনা প্রামানিক অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত পানাহার করেন না। তাই প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। এ সম্পর্কে তার স্বামী গর্ভস্থ সন্তানের কথা চিন্তা করে তাকে তার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে নানা উপদেশ দেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
এ্যালিনার সন্তান জন্মের পূর্বে আর যে সকল পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হবে সেগুলো হলো মায়ের আবেগ, গর্ভে ভূণের সংখ্যা, এক্স-রে এবং বিকিরণ, রক্তের Rh উপাদান প্রভৃতি।
জন্ম-পূর্ব পরিবেশ হলো মাতৃগর্ভে অবস্থানকালীন শিশুর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানের সমষ্টি। জন্ম-পূর্ব পরিবেশে মায়ের কর্মপরিবেশ, মায়ের আবেগ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি প্রভৃতি ভূমিকা রাখে।
মায়ের কর্মপরিবেশে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকলে গর্ভস্থ সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে মায়ের আবেগ খুব তীব্র হলে অর্থাৎ খুব দুঃখজনক বা অতিরিক্ত উৎফুল্লতা প্রভৃতি গর্ভস্থ শিশুর। ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও মায়ের রক্তের Rh উপাদান ও সন্তানের রঙের Rh উপাদানের অসংগতি, গর্ভকালীন সময়ে অত্যধিক এক্স-রে এবং বিকিরণের ব্যবহার, মায়ের মাদকাসক্তি ও ধূমপানের অভ্যাস গর্ভস্থ শিশুর অস্বাভাবিক বা ত্রুটিপূর্ণ বিকাশের জন্য দায়ী।
উদ্দীপকের এ্যালিনা প্রামাণিকের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ছাড়াও আবেগ, রক্তের Rh উপাদান প্রভৃতি তার গর্ভস্থ সন্তানের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
Related Question
View Allযে সকল মানব শিশু আজন্ম মানব সমাজের সংস্পর্শের বাইরে থেকে তথা বন্য পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছে তাদের ফেরেল মানব বলে
X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে কন্যা শিশুর লিজা নির্ধারিত হয়। কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে তার ওপর নির্ভর করে সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে। পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোজোম ও একটি × অথবা একটি 'Y' ক্রোমোজোম থাকে। এই 'X' এবং 'Y' ক্রোমোজোমগুলোই শিশুর লিজা নির্ধারণ করে। 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'Y' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে সন্তান ছেলে হয়। পক্ষান্তরে, 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী ডিম্বাণু 'X' ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হলে শিশু মেয়ে হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ রোমেলের ক্ষেত্রে জন্মপরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তির পরিবেশকে জন্ম-পূর্ব পরিবেশ ও জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ এ দুভাগে ভাগ করা যায়। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যে সব উপাদান ব্যক্তির জীবনকে প্রভাবিত করে তাই হলো তার জন্ম-পরবর্তী পরিবেশ। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু, আলো-বাতাস, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা প্রভৃতি জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। যেমন- সমতলভূমিতে বেড়ে ওঠা ব্যক্তির জীবনপ্রণালি পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ব্যক্তি থেকে আলাদা, আবার শীতপ্রধান অঞ্চলের লোকের সাথে গরম প্রধান অঞ্চলের লোকের তুলনা করলে তাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে দৈহিক গড়ন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার মূলে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র রোমেল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রার খোলা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠায় সে সুঠামদেহী, প্রচণ্ড সাহসী ও পরিশ্রমী। তাহলে দেখা যায়, উপকূলীয় খোলা আবহাওয়া তার জীবন ও শারীরিক গঠনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই উপকূলীয় এলাকা তথা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত রোমেলের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর প্রথমাংশে মানুষের আচরণের ইতিবাচক দিক তথা সামাজিক বিকাশ এবং দ্বিতীয়াংশে আচরণের নেতিবাচক তথা খারাপ দিক অর্থাৎ দুর্নীতির উল্লেখ করা হয়েছে।
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে তাকে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য আচরণ করতে হয়। সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ শেখার জন্য সামাজিক বিকাশ প্রয়োজন। সামাজিক বিকাশ বলতে বোঝায় সামাজিক প্রবণতার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের ক্ষমতা অর্জন। এ ধরনের বিকাশের কারণে শিশু সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়াতে শিখে এবং সে অনুযায়ী আচরণ করে। জীবনে চলার পথে পরিবার ও সমাজে মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সকল সমস্যা সমাধান করা কোনো মানুষের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষ একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে। একে অপরের খোঁজ-খবর নেয়। এভাবে মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার মূলেই রয়েছে সামাজিক বিকাশ।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-২ এর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, সেখানে বলা হয়েছে
সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ মানুষের ক্ষতি, ঘুষ ও দুর্নীতি করে মানুষের ক্ষতিসাধন করে থাকে। মূলত সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব; ক্রমবর্ধমান ভোগবাদী প্রবণতা এবং তথ্য অধিকারের অভাব দুর্নীতির অন্যতম কারণ। দুর্নীতি একই সাথে পারিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর আবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক। দুর্নীতির ফলে এক শ্রেণির মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে, ফলে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের আয়ের বৈষম্য বেড়ে যায়। দুর্নীতির ফলে মানব উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। বৃহৎ ভাবে বলতে গেলে দুর্নীতির কারণে একটি দেশে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নীতি নির্ধারণ পদ্ধতিতে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় না। ফলে মৌলিক অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব ও আয় বৈষম্য দেখা দেয়। এককথায় বলতে গেলে দুর্নীতি সকল উন্নতির অন্তরায়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিক বিকাশ যেমন সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য পূর্বশর্ত তেমনি দুর্নীতি সমাজের জন্য অভিশাপস্বরূপ। তাই সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের জন্য সরকারের সাথে সাথে আমাদের সকলেরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা জরুরি।
বংশগতি হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীব তার আকার-আকৃতি, চেহারা, বর্ণ ইত্যাদি তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চালিত করে।
গর্ভজাত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে, তা মূলত ক্রোমোসোমের ওপর নির্ভর করে
একটি পরিপক্ক ডিম্বাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' ক্রোমোসোম থাকে। অপরদিকে, একটি পরিপক্ক শুক্রাণুতে ২২টি সমরূপী ক্রোমোসোম এবং একটি 'X' অথবা 'Y' ক্রোমোসোম থাকে। সমরূপী ক্রোমোসোমকে অটোসম এবং 'X' এবং 'Y' কে যৌন ক্রোমোসোম বলে। 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু যদি 'Y ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয় তাহলে সন্তানটি হবে 'XY' বা ছেলে। আর যদি 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু, 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়, তবে সন্তানটি হবে 'XX' বা মেয়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!