বোধোদয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচনা করেন।
সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে'।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে অভিন্ন সত্তা ভাবা হয় না বলে তাদের জীবনযাপন প্রণালিতেও দেখা যায় ব্যাপক বৈসাদৃশ্য। 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের কতিপয় সংলাপের ভেতর দিয়ে এই দৃশ্যই প্রতীয়মান হয়। কবিতা থেকে দেখা যায় যে, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্য সহচরী হতে পারে।
গদ্য
উত্তরের সারবস্তু: সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে ররীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের নারীদের উন্নতি সাধনে শিক্ষার গুরুত্বের দিকটি উঠে এসেছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে তৎকালীন মুসলিম নারীসমাজের পশ্চাৎপদতাকে অবলোকন করেছেন। সমাজের প্রত্যেক ক্ষেত্রে নারীরা ছিল পিছিয়ে। মানসিক দাসত্ব তাদের অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরেছিল। তাদের এ অবস্থার জন্য লেখক শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করেছেন।
উদ্দীপকে অবহেলিত নারীসমাজে নানারকম নির্যাতন যেমন যৌতুক প্রথা, অধিক সন্তান জন্মদান; ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্নতার মূলে অজ্ঞানতাকে দায়ী করা হয়েছে। নারীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা এবং স্বাধীনভাবে জীবিকানির্বাহের জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। নারীরা সমাজের বৃহত্তর একটি অংশ। তাদের অন্ধকার জগতে আবদ্ধ রাখার অর্থ হলো সমাজের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে রাখা। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি এবং এ জনবহুল দেশে অধিক সন্তান জন্মদানের কুফল থেকে মুক্তির একমাত্র পথ নারীসমাজকে শিক্ষিত করে তোলা। সুতরাং নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য পুরুষদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষিত করে তোলার বিকল্প নেই- আলোচ্য উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে এ শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টিই উঠে এসেছে।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীসমাজের অবহেলিত জীবনযাপনের যে চিত্র তুলে ধরেছেন উদ্দীপকে সেই চিত্র প্রতীয়মান হলেও বেশ কিছু বৈসাদৃশ্যও রয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজে নারী, বিশেষ করে মুসলিম নারীর পশ্চাৎপদতা, অধিকারহীনতা এবং অবরুদ্ধ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছেন। নারীসমাজের এই অবস্থানের জন্য তিনি পুরুষদের আধিপত্যকামী মানসিকতা, নারীর মানসিক দাসত্ব ও শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নারীসমাজ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত বলেই নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, নির্যাতিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো শিক্ষিত হওয়া এবং বুদ্ধি ও সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে যাওয়া।
উদ্দীপকে নারীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রচলিত সামাজিক ব্যাধি, যেমন যৌতুক প্রথা, অধিক সন্তান ধারণ, গ্রাম্যবিচার ইত্যাদি থেকে উত্তরণের কথা বলা হয়েছে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রাবন্ধিক পুরুষদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং নারীর পিছিয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট সামাজিক সমস্যার স্বরূপ উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে সমাজে নারীর ভূমিকার কথা আলোচনা করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই বলা যায়, শিক্ষার গুরুত্বের দিক বিবেচনায় প্রবন্ধের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক বিবেচনায় উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View All'শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে প্রকৃত অর্থেই স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে'পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য শরীরের প্রতিটি অঙ্গই যেমন মূল্যবান, সমাজে নারী-পুরুষও ঠিক তেমনই। পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে 'স্বামী' বা 'প্রভু' শব্দের পরিবর্তে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা নিজেদের পুরুষের সহযোগী ভাবতে পারবে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীর সামাজিক অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা থেকে পুরুষদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নারীর মৌলিক চাহিদাগুলোও অপূর্ণ থাকে। শুধু নারী বলেই তাদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে ছাড়া তাদের কোনো গতি থাকে না।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে বলে রেণুকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্নেহ থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সবখানেই তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁদের মতে, মেয়েদের এত লেখাপড়া শেখার দরকার নেই বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখানো হয়েছে যে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে কম। পুরুষেরা পার্থিব-অপার্থিব সকল সুযোগ-সুবিধা অধিক মাত্রায় ভোগ করতে পারলেও নারীরা তা পারে না।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সমাজে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অসমর্থ। পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারী সদস্যও অন্য নারীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় না। উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিবারের গল্প। গল্পটিতে রেণু-রাজু-দু ভাইবোনের প্রতি তাদের বাবা-মার আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের মা রেণুর চেয়ে রাজুকে বেশি ভালোবাসেন। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি রাজুকেই প্রাধান্য দেন। কোনো অপরাধ করলে ছেলে বলে তার কোনো বিচার হয় না। এমনকি রাজুর লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয় না।
উদ্দীপকে অপরিণত বয়সে রেণুর আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে তার মা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক সবার মতো তিনিও মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখার দরকার নেই। বরং ঘর-গৃহস্থালির কাজকর্ম শিখলে তা তার ভবিষ্যতে কাজে আসবে। মূলত রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে নারীর প্রতি পরিবারের অবহেলার চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরই প্রতিরূপ
অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে'।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে অভিন্ন সত্তা ভাবা হয় না বলে তাদের জীবনযাপন প্রণালিতেও দেখা যায় ব্যাপক বৈসাদৃশ্য। 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের কতিপয় সংলাপের ভেতর দিয়ে এই দৃশ্যই প্রতীয়মান হয়। কবিতা থেকে দেখা যায় যে, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্য সহচরী হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!